রাঙামাটির বরকলে বিদ্যালয় ভবন সংস্কারের নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

0

রাঙামাটির বরকল উপজেলা সদরে বরকল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন স্কুল ভবন মেরামতের জন্য বরাদ্দকৃত চার লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে জেলা পরিষদ থেকে বরকল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন বাঁশের বেড়ার বিদ্যালয়টি মেরামতের জন্য চার লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিদ্যালয় মেরামতের কাজ করেন মো. শাহ আলম নামের এক ঠিকাদার।

সরেজমিনে দেখা যায়, বরকল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ টিনশেড বাঁশের বেড়ার পুরাতন স্কুল ঘরটি ১৯৬৫ সালে নির্মাণ করা হয়। এল আকৃতির স্কুল ঘরটির উপরের টিনগুলো মরিচায় নষ্ট হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই টিনের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে। চারিদিকে বেড়াগুলো উইপোকায় নষ্ট করে ফেলছে। বিদ্যালয়ের দরজা জানালাগুলো ভঙ্গুঁর অবস্থায় কোনো মতেই আছে।
দেখা গেছে, স্কুল ঘরের ছালায় পুরাতন টিনের সঙ্গে মাত্র চারটি নতুন ঢেউ টিন দেওয়া হয়েছে। জরাজীর্ণ বেড়া-সিলিংয়ের পরিবর্তে কাগজের পিচবোর্ডের সিলিং দেওয়া হয়েছে। ওয়ালের ও বেড়ার কিছু ভাঙ্গা মেরামত করে দায়িত্ব সেরেছেন ওই ঠিকাদার। যার উপর সাড়ে চার লক্ষ টাকার বরাদ্দের মেরামত কাজে এক লক্ষ টাকাও খরচ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাঙামাটির বরকলে বিদ্যালয় ভবন সংস্কারের নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ 1

বিদ্যালয়ের মেরামতের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লক্ষ্মীনাথ চাকমা জানান, তিনি জেলা পরিষদে পুরাতন বিদ্যালয় মেরামত ও বিদ্যালয়ের পাশে ব্রিজের রেলিংগুলো ভেঙ্গে যাওয়ায় মেরামতের জন্য আবেদন করেন। সেই সময়ে জেলা পরিষদের সদস্য সুবির কুমার চাকমার সুপারিশে ওসব মেরামতের জন্য সাড়ে চার লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় জেলা পরিষদ। কিন্তু সরকারি এ টাকায় ঠিকাদার তার ইচ্ছেমতো স্কুল ঘরে সামান্য কাজ করলেও ব্রিজের রেলিংয়ের কোনো কাজ করেননি। ফলে ব্রিজের চারপাশে রেলিংগুলো না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতে বিপদের আশংকা রয়েছে বলে প্রধান শিক্ষক জানান।
কত টাকার কাজ হয়েছে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, আনুমানিক লাখ খানিক টাকার কাজ করেছেন ঠিকাদার।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার মো. শাহআলম বলেন, ‘স্বল্প টাকার বরাদ্দে যা কাজ করার দরকার তা আমি করেছি। তবে, বরাদ্দের কত টাকার কাজ করেছেন এমন প্রশ্ন করা হলে তা এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, আমি যা কাজ করেছি অফিস আমাকে সে টাকা দিয়েছে।

কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রিগেন চাকমা বলেন, গত বছর কাজ সম্পন্ন হয়েছে ঠিকাদার সমস্ত বিল নিয়ে গেছেন।

সিডিউল মোতাবেক কাজ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব কাজ করা হয়েছে। সিডিউল মোতাবেক হয়েছে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দু হান্নান পাটোয়ারী বলেন, ‘মেরামতের কাজ হয়েছে সেটা প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে তিনি জেনেছেন। কি হয়েছে কিভাবে হয়েছে তিনি কিছুই জানেন না। কারণ তাকে জানানো হয়নি এবং তিনি এতে সম্পৃক্ত নন বলেও জানান এ শিক্ষা কর্মকর্তা।

এএইচ

ksrm