চট্টগ্রামের রাউজানভিত্তিক সংগঠন মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির প্রধান মুনির উল্লাহ ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা, জবরদখল, মাদ্রাসা ও পুকুর দখল এবং হামলার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে এক ভুক্তভোগী পরিবার। সোমবার (৫ মে) সকালে নগরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল সাদেক। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের নেতা এবং জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত।
বক্তব্যে তিনি বলেন, নিজেদের অরাজনৈতিক ও তরিকতভিত্তিক সংগঠন দাবি করলেও মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাস্তবে ভূমিদস্যুতা, জমি দখল এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির সঙ্গে জড়িত। রাউজানের কাগতিয়া গ্রামে তাদের কর্মকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং প্রাণনাশের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৪ মুনির উল্লাহর নির্দেশে তার অনুসারীরা কাগতিয়া মাইজপাড়া তালীমুল কুরআন মাদ্রাসা দারুল ইয়াতামা দখল করে। এ বিষয়ে থানা, শিক্ষা উপদেষ্টা ও জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়।
ভূমি দখলের অভিযোগ তুলে বলা হয়, গত কয়েক বছরে সংগঠনটি কাগতিয়া এলাকায় ৩৪৯ শতক নাল ফসলি জমি এবং পাঁচটি পুকুর ভরাট করেছে। এর মধ্যে মাইজপাড়া মসজিদ পুকুর, মজিদা পুকুর, আলি মিয়া ডাক্তার বাড়ির পেছনের পুকুর এবং এজমালী পুকুরের কথা উল্লেখ করা হয়। প্রাচীন ১২৭ শতকের মজিদা পুকুর রাতারাতি ভরাট করে মাঠে রূপান্তর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মুছার স্মৃতিস্তম্ভ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে শহীদ কবি শওকত হাফেজ খান রুমির স্মৃতিবিজড়িত তোরণটি ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।
নিজ পরিবারের ওপর হামলার বর্ণনা দিয়ে আবদুল্লাহ আল সাদেক বলেন, গত ৯ এপ্রিল রাতে নগরের বায়েজিদ থানার অক্সিজেন এলাকায় তার বাসায় মুনির উল্লাহর লোকজন হামলা চালায়। পুলিশ তাকে একটি বানোয়াট মামলায় গ্রেপ্তার করার পর মুখোশধারীরা বাসায় ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে এবং নারীদের হেনস্তা করে। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল থানায় মামলা করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে তিনি জানান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বসতভিটা বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় এবং দখলের প্রতিবাদ করায় তার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। তার প্রবাসী বড় ভাই আল-আমিন সাব্বিরকেও মামলায় জড়ানো হয়েছে, যদিও তিনি তখন দেশের বাইরে ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবদুল্লাহ আল সাদেক দাবি করেন, মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির মহাসচিব ও দুই সহসভাপতি আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সংগঠনটি রাউজান থেকে পাহাড়ি মাটি এনে পুকুর, খাল ও নাল জমি ভরাট করছে। পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগের পর এক দফায় ৭ লাখ ১৮ হাজার ৭৪০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দখলকৃত মাদ্রাসা, জমি ও প্রতিষ্ঠান ফেরত এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে পুলিশ ও র্যাবের হস্তক্ষেপে এখনো কোনো সমাধান হয়নি বলেও অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আইন সম্পাদক জসিম উদ্দিন আল আজাদও উপস্থিত ছিলেন।




