রাউজানে আবারও শুরু রক্তের খেলা, মধ্যরাতে বিএনপিকর্মীকে গুলি করে খুন
২০ মাসে ২২ খুন, ১৬টিই রাজনৈতিক বিরোধে
দুই মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রামের রাউজানে আবারও প্রকাশ্যে গুলি করে এক বিএনপিকর্মীকে খুন করা হয়েছে। তিনি নানাবাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। এনিয়ে এক বছর আট মাসে ২২টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে উপজেলায়। এর মধ্যে ১৬টিই রাজনৈতিক কোন্দল থেকে।
নিহত ব্যক্তির নাম কাউসারুজ্জামান (৩৬)। তিনি স্থানীয় আবুল কালামের ছেলে এবং বিএনপিকর্মী ছিলেন।
কাউসারুজ্জামান পেশায় কৃষক ছিলেন। তার পরিবারে স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) মধ্যরাতে আনুমানিক ৩টার সময় উপজেলার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল রাউজান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের দাবি, এলাকায় সন্ত্রাসের বিরোধিতা করতেন তিনি। তাই এর আগেও একাধিকবার হামলার শিকার হন। শুক্রবার রাতে নানাবাড়ি থেকে ফেরার পথে ৭–৮ জন অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি পিঠে গুলিবিদ্ধ হন।
স্বজনরা উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনেন। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কাউসারুজ্জামানের বাবা আবুল কালাম বিচার চেয়ে জানান, আমার ছেলে বিএনপির সমর্থক ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ছিল। আগেও একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে, এবার গুলি করে মেরে ফেলল।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি সাবের সুলতান ন্যায়বিচার দাবি করে জানান, নিহত কাউসারুজ্জামান বিএনপির সমর্থক ছিলেন এবং তার বড় ভাই যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সন্ত্রাসবিরোধিতা করার কারণেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তার পিঠের বাম পাশে একাধিক বুলেটের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং জড়িতদের আটকের অভিযানে চলছে।
সড়কে লাশ রেখে অবরোধ
এদিকে খুনের ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম–রাঙামাটি সড়কের চারাবটতল এলাকায় সড়ক অবরোধ করা হয়। এ সময় নিহতের স্বজন ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স সড়কে রেখে প্রতিবাদ জানান। অবরোধের ফলে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
নিহত কাউসারুজ্জামান ইট, বালু ও মাটি কাটার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় মাটি ও বালু কাটাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে।
২২ হত্যাকাণ্ডের ১৬টি রাজনৈতিক
রাউজানে এক বছর আট মাসে ২২টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ১৬টিই রাজনৈতিক বিরোধ থেকে।
এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে আবদুল মজিদ (৫০) নামে এক যুবদলকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগে ৫ জানুয়ারি একই এলাকার ওই বাজার থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে মোটরসাইকেলে এসে যুবদল নেতা মুহাম্মদ জানে আলমকে (৪৮) গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। তবে এখনও পর্যন্ত দুই ঘটনাতেই কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
রাউজানে বিএনপির রাজনীতি ঘিরে দুটি বলয় সক্রিয়। একটির নেতৃত্বে রয়েছেন এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং অপরটি সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম আকবর খোন্দকারের।
গতবছরের ২৯ জুলাই বিকালে চট্টগ্রাম–রাঙামাটি সড়কের পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সত্তারহাট এলাকায় গোলাম আকবর খোন্দকারের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচে গোলাম আকবর। তাকে গুলি করা হলে, সেটি গলার পাশ দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে দায়ী করেন। মূলত এ হামলার পর দুইপক্ষের মধ্যে কোন্দল আরও বেড়ে যায়।
এফএ/ডিজে




