চট্টগ্রামের রাউজানে আলোচিত অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলায় নতুন মোড় এসেছে। পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীর নারাজি গ্রহণ করে মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার সকালে চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-২ আদালত পিবিআইকে এ নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর আলম পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরোধিতা করে আদালতে নারাজি দেন। তার আইনজীবী মোহাম্মদ রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতের নির্দেশে এখন মামলাটি পুনরায় তদন্ত করবে পিবিআই।
মামলার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ডা. জাহাঙ্গীর আলম জিআর মামলা নং-১৩০/২৪ হিসেবে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার এজাহারটি রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এ মামলায় আসামি করা হয় রাউজান থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই টোটন মজুমদার, এসআই শাফায়েত আহমদ, পাইওনিয়ার হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. ফজল করিম বাবুল, পরিচালক মনজুর হোসেন এবং সুপারভাইজার মো. জাহাঙ্গীর আলমকে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হোসেন ইবনে নাঈম ভূঁইয়া গত ২৬ নভেম্বর মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
তবে সেই প্রতিবেদনের বিরোধিতা করে বাদী ডা. জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, তদন্ত কর্মকর্তা ও মামলার এক নম্বর আসামি টোটন মজুমদার একই থানার সহকর্মী হওয়ায় প্রকৃত ঘটনা আড়াল করা হয়েছে। তার দাবি, সহকর্মীদের রক্ষায় তদন্তে মিথ্যা ও সাজানো তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২০১৫ সালের ১৫ এপ্রিল দুপুরে নোয়াপাড়ায় তার প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার সময় তৎকালীন এসআই টোটন মজুমদার তাকে বিএনপির কমিটিতে নাম থাকার কথা উল্লেখ করে ক্রসফায়ারের হুমকি দেন। প্রাণ বাঁচাতে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। পরে আসামিরা মিলে ২০১৫ সালের ৪ এপ্রিল তারিখের একটি মিথ্যা মামলা সাজিয়ে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখান বলে উল্লেখ করা হয়।




