রবিবার থেকে চট্টগ্রামে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা

0

চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদের বৈঠকে হয়রানি বন্ধে ৯ দফা দাবি না মানায় বৃহত্তর চট্টগ্রামে রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ।

হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সমিতির অফিসে চট্টগ্রাম রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতির সভাপতি সৈয়দ হোসেনের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম নাজিরহাট খাগড়াছড়ি বাস মিনিবাস মালিক সমিতির এক যৌথ বৈঠকে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিষদের আহ্বায়ক চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক পক্ষের সভাপতি ও চট্টগ্রাম নাজিরহাট খাগড়াছড়ি বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী মঞ্জু।

তিনি বলেন, ‘হয়রানি বন্ধে ৯ দফা দাবিতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে গত বুধবার দুপুরে নগরীর মোটেল সৈকতের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করি। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে লিখিতভাবে জানানো হলেও এখনো পর্য়ন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। আমাদের দাবি না মানা আগামি রোববার ভোর ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য গণ ও পণ্য পরিবহন বন্ধ রেখে চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বাত্মক পরিবহন ধর্মঘট পালন করা হবে।’

তিনি জানান, নানামুখী হয়রানিতে পরিবহন মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত। কোথাও আইনের তোয়াক্কা নেই। বিআরটিএতে কাগজপত্র হালনাগাদ করতে গেলে হয়রানি, সড়কে বিআরটিএর ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের হয়রানিতে পরিবহন মালিকরা অতিষ্ঠ। প্রশাসনের কাছে কোনো প্রতিকার না পেয়ে আমাদের রাজপথে নামতে হচ্ছে।

পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদের ৯ দফা দাবিগুলো

গণ ও পণ্য পরিবহনের কাগজপত্র হালনাগাদ করার জন্য জরিমানা মওকুফ করতে হবে।

জরিমানা মওকুফের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কাগজপত্র যাচাই বাছাইয়ের নামে হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

বিআরটিএ ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ভোক্তা অধিকার আইন প্রয়োগ করে গণ ও পণ্য পরিবহনে কোন অতিরিক্ত জরিমানা আদায় করা যাবে না।

হাইওয়ে ও থানা পুলিশ কর্তৃক গাড়ি জব্দ ও রিকুইজিশন বন্ধ করতে হবে।

চট্টগ্রাম মেট্টো এলাকায় গাড়ির ইকোনোমিক লাইফের অজুহাত দেখিয়ে ফিটনেস ও পারমিট নবায়ন বন্ধ রাখা যাবে না।

ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক যান্ত্রিক ক্রুটিযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো অজুহাত দেখিয়ে গণ ও পণ্য পরিবহন টু বা ডাম্পিং করা যাবে না।

ড্রাইভার কর্তৃক চালিত গাড়ির রেকার ভাড়া আদায় করা যাবে না। সহজ শর্তে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করতে হবে।

কাগজপত্র হালনাগাদের ক্ষেত্রে বিআরটিএর কার্যক্রমে ভোগান্তি বন্ধ করতে হবে।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম বিভাগের সড়ক ও মহাসড়কে গ্রাম সিএনজি ও মেট্টো সিএনজি চলাচলের ক্ষেত্রে বিআরটিসির সিদ্ধান্ত কার্যক্রম করতে হবে।

অননুমোদিত যান চলাচল বন্ধ করতে হবে এবং চাঁদাবাজদের টোকেন বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে।

সড়ক ও মহাসড়কে যত্রতত্র গাড়ি তল্লাশির নামে যাত্রী হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্থাপিত ওয়ে স্কেল দুটি পরিচালনার দায়িত্ব দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দিতে হবে এবং সারাদেশে একই নিয়মে ওয়ে স্কেল স্থাপন করতে হবে। পণ্যের উৎসস্থলে ওজন স্লিপ প্রদান করতে হবে।

মহাসড়কে পণ্য চুরি/ডাকাতি রোধকল্পে বর্তমান আইনের পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে।

মহাসড়ক ও মেট্রো শহর এলাকায় গণ ও পণ্য পরিবহন যত্রতত্র দাঁড় করিয়ে চেকিংয়ের নামে হয়রানি বন্ধ করে নির্দিষ্ট দুটি স্থানে চেকিং পয়েন্ট নির্ধারণ করার জোর দাবি জানান তারা।

এতে আরও বক্তব্যে রাখেন চট্টগ্রাম নাজিরহাট খাগড়াছড়ি বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, রাঙামাটি ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি কাজী জাফর আহমদ, উত্তর চট্টগ্রাম ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আহসান উল্লাহ চৌধুরী হাসান, চট্টগ্রাম জেলা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক গ্রুপের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হানিফ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আবুল বশর, মো. নুরুল ইসলাম, হোসেন মনা, এয়ার মোহাম্মদ, জসিম উদ্দিন, মো. আলী চৌধুরী ও মো. সোলেমান প্রমুখ।

এদিকে, চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সাথে বৈঠক করেন চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান।

ওই ধর্মঘটকে সরকার বিরোধী ঘোষণা দিয়ে প্রতিহত করার ঘোষণা গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

এসএস

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন