পোশাক খাত/ রপ্তানিতে আশার আলো জ্বেলে যাচ্ছে নিটওয়্যার পণ্য

এক অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ১১ দশমিক ১৯ শতাংশ

0

বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতের উপখাত নিটওয়্যার পণ্য রপ্তানিতে আয় বাড়ছে। অর্জিত হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রা। গত দুই অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি হয়েছে বেশি। রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে নিট উপখাত ছাড়িয়ে গেছে ওভেন উপখাতকে। দাম তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় প্রবৃদ্ধি বাড়ছে বলে এই খাতের ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, সদ্য শেষ হওয়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে নিটওয়্যার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৬ হাজার ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে গত অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ১৬ হাজার ৮৮৮ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১১ দশমিক ১৯ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে গত অর্থবছরে ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ নিটওয়্যার পণ্য বেশি রপ্তানি হয়েছে।

এর আগের ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৫ হাজার ১০০ মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে নিটওয়্যার রপ্তানি হয়েছিল ১৫ হাজার ১৮৮ দশমিক ৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মাত্র শুন্য দশমিক ৫৯ শতাংশ বেশি।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি তৈরি পোশাকের নিটওয়্যার খাত। এই অর্থবছরে ১৪ হাজার ১৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছিল ১৩ হাজার ৭৫৭ দশমিক ২৫ মার্কিন মিলিয়ন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ দশমিক ৯১ শতাংশ কম।

এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছিল। এই অর্থবছরে ১৩ হাজার ২৬৬ দশমিক ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছিল ১৩ হাজার ৩৫৫ দশমিক ৪২ মার্কিন মিলিয়ন ডলারের নিটওয়্যার পণ্য। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি রপ্তানি হয়েছিল।

এছাড়া ২০১৪-১৫ অর্থবছরেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি নিটওয়্যার পণ্য রপ্তানিতে। এই অর্থবছরে ১৩ হাজার ২১৫ দশমিক ৬১ মার্কিন মিলিয়ন ডলারের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছিল ১২ হাজার ৪২৬ দশমিক ৭৯ মার্কিন মিলিয়ন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ কম।

তৈরি পোশাক খাতের নিট উপখাতে সাধারণত তুলার তৈরি টি-শার্ট, জার্সি, ম্যানমেইড ফাইবারের জার্সি, মেয়েদের তুলার তৈরি পাজামা, ছেলেদের তুলার তৈরি শার্ট, টেক্সটাইলের জার্সি, টেক্সটাইলের টি-শার্ট, শিশুদের তুলার তৈরি পোশাক, মেয়েদের তুলার তৈরি অন্তর্বাস, পুরুষ অথবা ছেলেদের অন্তর্বাস রপ্তানি হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) পরিচালক রাজিব দাশ সুজয় চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের কমিটমেন্ট, অনটাইম ডেলিভারি ও দাম কম হওয়া কারণে নিটওয়্যার পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

জানা যায়, নিট পোশাকের বাজার সম্প্রসারণে বিকেএমইএ বিভিন্ন সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির জন্য প্রস্তাবনা দিয়ে আসছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি), আফ্রিকান মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ইএসি-এসএডিসি-কমেসা), ইউরেশিয়ান কাস্টম ইউনিয়ন (ইএসিইউ), মার্কুলার, নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (নাফটা)।

নিট পোশাক খাতে সময়ে দেশীয় মূল্য সংযোজন করতে হয়। এই খাতের পোশাকে ১৯৯৪ সালে ৫০ শতাংশ, ২০০০ সালে ৭০ শতাংশ, ২০০৮ সালে ৭৫ শতাংশ, ২০১২ সালে ৭২ শতাংশ, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ৭৫ শতাংশ, ২০১৫ সালে ৭০ শতাংশ এবংং সর্বশেষ ২০১৬ সালে ৭৫ শতাংশ দেশীয় মূল্য সংযোজন করা হয়।

এই খাতের ব্যবসায়ীরা জানান, দেশীয়ভাবে নিট পোশাক খাতের মূল্য সংযোজন প্রায় ৭৫ শতাংশ, যা ওভেন পোশাক থেকে অনেক বেশি। যেখানে নিট পোশাক উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয় তুলা আমদানির পর থেকে, সেখানে ওভেন পোশাক উৎপাদন শুরু হয় ফ্যাব্রিক আমদানির পর্যায় ও পরবর্তী ধাপ থেকে।

জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকের (কেবলমাত্র ওভেন শার্ট) প্রথম চালানটি রপ্তানি হয় ১৯৭৮ সালে। এরপরেই বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়ে যায় এবং এই শিল্প দ্রুত বেড়ে ওঠে। ১৯৮১-৮২ সালে মোট রপ্তানি আয়ে এই খাতের অবদান ছিল মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ।

২০১০ সালের মার্চ মাসে তৈরি পোশাক শিল্পের অবদান দাঁড়ায় মোট রপ্তানি আয়ের ৭৬ শতাংশ। সময়ের পরিক্রমায় তৈরি পোশাক আরও সম্প্রসারিত হয়ে ওভেন এবং নিটিং উপখাতে বিভক্ত হয়। ২০০২ সালে পোশাক রপ্তানিতে ওভেন ও নিটিংয়ের অবদান ছিল যথাক্রমে ৫২.০৬ শতাংশ এবং ৮.৫৮ শতাংশ। পরবর্তীকালে নিট পোশাক উপখাত ওভেন উপখাতের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

২০০৮-০৯ অর্থবছরে নিট উপখাত ওভেন উপখাতকে অতিক্রম করে সমগ্র রপ্তানিতে ৪১.৩৮ শতাংশ (৬৪২৯ মিলিয়ন ডলার) অবদান রাখে, বিপরীতে ওভেন পোশাক ৩৮.০২ শতাংশ (৫৯১৮.৫১ মিলিয়ন ডলার) নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে আসে। ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে নিট ও ওভেন একত্রে আমদানিকৃত কাঁচামালের মূল্যসহ সাড়ে ১২ বিলিয়ন ডলারে উপনীত হয় এবং সাড়ে ২২ লাখ মহিলা শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।

Loading...
আরও পড়ুন