s alam cement
আক্রান্ত
৩৪৪৬৬
সুস্থ
৩১৭৭৫
মৃত্যু
৩৭১

মেশিন অকেজো, করোনা ইউনিটে ডায়ালিসিসের অভাবে মৃত্যুঝুঁকিতে রোগীরা

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

0

২৭ বছরের তরুণ রাকিবুল ইসলাম। এই বয়সেই জীবনের বাঁক ঘুরে যায় অন্যদিকে। প্রতি সপ্তাহে দুইবার করাতে হয় ‘ডায়ালিসিস’। এভাবেই চলছিল দিন। কিন্তু রাকিবুলের টগবগে শরীরে কিডনি জটিলতার সাথে নতুন করে জোট বাঁধে করোনাভাইরাস। এখন করোনার চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি তার। নির্ধারিত সময়ে ডায়ালিসিস করাতে না পারায় শরীরে জমে গেছে পানি। বেসরকারি হাসপাতাল ‘পার্কভিউ’র দুয়ার ঘুরেও মেলেনি ডায়ালিসিসের সুযোগ। শেষমেশ ছুটে আসেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। করোনা পজিটিভ হওয়ায় ভর্তি হন চমেকের করোনা ইউনিটে। কিন্তু অভাগা যেদিকে চায় সাগর শুকিয়ে যায়! করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত ডায়ালিসিস মেশিন থাকলেও সেই মেশিনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ (পার্টস) নেই। এর ফলাফল রাকিবুলের জীবন এখন মৃত্যুঝুঁকিতে।

জানা যায়, করোনা রোগীদের মধ্যে যাদের কিডনির সমস্যা আছে, তাদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা থেকে চমেকে আনা হয় ‘ডায়ালিসিস’ মেশিন। কিন্তু মেশিন এলেও আসেনি মেশিনের গুরুত্বপূর্ণ পার্টস (অংশ) এবং রিভার্স অসমসিস প্লান্ট বা পানি বিশুদ্ধিকরণ যন্ত্র। ডায়ালিসিসের অভাবে কিডনির সমস্যায় থাকা করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে না পেরে এখন নিরুপায় হয়ে তাকিয়ে আছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। একদিকে ঈদের ছুটি, অন্যদিকে মেশিন বিভ্রাটের খেসারত দেবেন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এই করোনা রোগীরা।

করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় গত ১৬ মে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়ে ২১ মে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) সবে চালু হলো করোনা ইউনিট। করোনা ইউনিট চালু হওয়ার দুই দিনের মাথায় দেখা দিয়েছে মেশিন বিভ্রাট। করোনার সাথে লড়াই করে বেঁচে ফেরার বদলে এখন কেবলমাত্র ‘ডায়ালিসিসের‘ অভাবে মৃত্যু ঝুঁকিতে পড়েছেন করোনা পজিটিভ অনেক রোগী।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য পাঁচ দিন আগে ঢাকা থেকে ডায়ালিসিস মেশিন আনা হয়। কিন্তু মেশিনের প্যাকেট খুলেই হতাশ হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মূল মেশিন আছে, তবে পানি বিশুদ্ধিকরণ যন্ত্রটি তার সঙ্গে নেই। এটি ছাড়া এই মেশিন অকেজো। সাথে সাথেই জানানো হয় মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু তাতেও ঘুম ভাঙ্গেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে করোনা ইউনিট চালু হলো। তাও এলো না সেই মেশিন। বর্তমানে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এমন তিনজন রোগী। সামনে এরকম রোগীর সংখ্যা দ্রুতই আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে পড়বে ঈদের বন্ধ। যার কারণে ঢাকা থেকে এ মেশিনের সেই অংশ আসা অনেকটাই অনিশ্চিত। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত রোগীর স্বজনরা।

ভুক্তভোগী রাকিবুলের এক স্বজন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘একে তো ডায়ালিসিস মেশিন নেই। তার ওপরে শতবার ডাকার পরেও ডাক্তারের দেখা মিলছে না। চমেক হাসপাতালে এমনিতে সচরাচর ডাক্তাররা রাউন্ডে এসে রোগীদের সেবা দিয়ে যান। এখানেও চলছে একই প্রক্রিয়া। করোনা আক্রান্ত রোগীদের বিশেষ কোনো সেবাই নেই।’

Din Mohammed Convention Hall

তিনি আরও বলেন, ‘এখন করোনা ইউনিটে ঢুকলে মোটামুটি নিশ্চিত থাকতে হবে যে অধিকাংশ রোগীকে লাশ হয়েই সেখান থেকে বের হতে হবে। নইলে এর বাইরে রোগীকে বাসায় রেখে ডায়ালাইসিস করার দরকার ছিল। আমার মনে হয় ও (ভুক্তভোগী রোগী) সেখানে না গেলেই ভালো থাকতো। এখন তো ভয়ে আছি। ডায়ালিসিস করাতে না পারায় পানি জমে গেছে। সঠিক সময়ে না হলে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

বিষয়টি স্বীকার করে চমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আফতাবুল ইসলাম চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমাদের চিঠির প্রেক্ষিতে করোনা পজিটিভ রোগীদের জন্য একটা মেশিন ঢাকা থেকে পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়। সে মেশিনের একটা পার্টস ভুলে মিসিং হয়েছে। তারা পাঠাতে পারেনি। আমরা সাথে সাথে মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি। ওটা এসে এখনও পৌঁছেনি। আশা করি শর্ট টাইমে পৌঁছে যাবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংস্পর্শে যেহেতু করোনা ছড়ায়, তাই এই মেশিনটা শুধু করোনা পজিটিভ রোগীদের জন্য। কারণ সাধারণ রোগীরা এই মেশিনটা ব্যবহার করতে পারবে না। আমাদের এখানে আরও একমাস আগে থেকে এ নিয়ে আমরা চিন্তিত ছিলাম। নেফ্রোলজি বিভাগের প্রফেসর প্রথম দিকে আমাকে জানিয়েছেন করোনা ইউনিট চালু হলে অনেক রোগীর ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হবে। তখন আমরা এ নিয়ে আলোচনা করে ঢাকায় চিঠি পাঠিয়েছি। তারা মেশিনও পাঠিয়েছিল। আসলে দুর্ভাগ্য, নসিব খারাপ যাকে বলে। ইম্পরটেন্ট পার্ট যেটা দরকার সেটাই আসেনি।’

কত মেশিনের আবেদন করেছেন— এমন প্রশ্নের জবাবে উপ-পরিচালক ডা. আফতাবুল ইসলাম বলেন, ‘আসলে আমি ঠিক জানি না। এই মুহূর্তে মনে নাই। একটা দিয়েছে, প্রয়োজন হলে তো আরও লাগবে। ঢাকায় যেখানে শত শত লাগছে, সেখানে আমাদের ৫০টা হওয়া দরকার ছিল। যেভাবে কোভিড-১৯ রোগী বাড়ছে, এটা আসলে আমাদের লাগবেই।’

একই প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চমেক হাসপাতালের এক চিকিৎসক চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘এই অবস্থায় ডায়ালিসিস রোগীদের জন্য খারাপ অবস্থা হবে। মেশিন আগামী এক সপ্তাহের ভেতর পাবে কিনা সন্দেহ। তার ওপর কালকে থেকে ঈদের বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ কদিন খুব হালকাভাবে কাজ হবে। বড়সড় কোন কাজ হবে না বা বড় কোনো ডিসিশনও নেওয়া হবে না।’

সিপি

ManaratResponsive

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm