চট্টগ্রামের চিকিৎসা খাতে আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেবার প্রসার, চিকিৎসকদের অধিকার আদায় এবং পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ডা. এ এ গোলাম মূর্তাজা হারুন চিকিৎসকদের জন্য আদর্শ হয়ে থাকবেন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

রোববার (৩১ মে) বাদ আসর নগরের কাতালগঞ্জের কাতালশাহ (র.) জামে মসজিদে ডা. এ এ গোলাম মূর্তাজা হারুনের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএমএ চট্টগ্রাম শাখা ও ড্যাব চট্টগ্রাম জেলা শাখা। ডা. গোলাম মূর্তাজা হারুন বিএমএ চট্টগ্রাম শাখা ও ড্যাব চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাবেক সভাপতি এবং শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডা. গোলাম মূর্তাজা হারুন শুধু একজন চিকিৎসক ছিলেন না, তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের অন্যতম অভিভাবক। চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে তিনি সবার আগে এগিয়ে এসেছেন। বিএমএ ও ড্যাবের শীর্ষ নেতৃত্বে থেকে তিনি চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং চিকিৎসকদের মর্যাদা রক্ষায় আজীবন কাজ করেছেন। শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরির মাধ্যমে চট্টগ্রামে আধুনিক চিকিৎসাসেবা ও ডায়াগনস্টিক সুবিধা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে চিকিৎসকদের কাছে ডা. গোলাম মূর্তাজা হারুন ‘বিপদের বন্ধু’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। যেকোনো সংকটে তিনি সবার আগে এগিয়ে আসতেন। শুধু চিকিৎসক নয়, সাধারণ মানুষও তাঁর অবদানের কথা স্বীকার করতে বাধ্য। তাঁর হাত ধরেই চট্টগ্রামের চিকিৎসা ল্যাবরেটরি খাত আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। তিনি ১৯৮৪ সালে চট্টগ্রামে প্রথম আন্তর্জাতিক মানের রোগ নির্ণয়কেন্দ্র শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করেন।
ডা. শাহাদাত বলেন, মানুষের বিপদে যে মানুষটি সবার আগে এগিয়ে আসতেন, তিনি ছিলেন ডা. গোলাম মূর্তাজা হারুন। তিনি একজন মহৎ মানুষ ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না। তাঁর ভালো গুণগুলো নিজেদের জীবনে কাজে লাগাতে পারলে সেটিই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
তিনি আরও বলেন, জনকল্যাণমুখী ও সেবামূলক কাজে ডা. গোলাম মূর্তাজা হারুনের নিষ্ঠা বর্তমান প্রজন্মের চিকিৎসকদের জন্য বড় আদর্শ। তিনি আজ আমাদের মাঝে না থাকলেও তাঁর কর্ম ও আদর্শ চট্টগ্রামের চিকিৎসা অঙ্গনে আজীবন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাত শেষে উপস্থিত নেতারা মসজিদ-সংলগ্ন কবরস্থানে গিয়ে তাঁর কবর জিয়ারত করেন।
মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দীন আহমেদ মানিকের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব ডা. এস এম সারোয়ার আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ড্যাব চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. জসিম উদ্দিন, বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, ড্যাব চট্টগ্রামের উপদেষ্টা ডা. মো. আবুল কালাম, অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মোত্তালিব, ডা. মূর্তাজা রেজা হাসান, ড্যাব চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী, মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ইফতেখারুল ইসলাম লিটন, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, মরহুমের ছোট ভাই গোলাম ফারুক মামুন, তাঁর সন্তান তাসাদ্দক মূর্তাজা, অধ্যাপক ডা. আনিসুল হোসেন বাবুল, ড্যাব চমেক শাখার যুগ্ম সম্পাদক ডা. মিনহাজুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. তানভীর হাবিব তান্না, জেলা ড্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মোদ্দাচ্ছির রহমান, ডা. সাইফুদ্দিন আজাদ, প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মোনায়েম ফরহাদ, ডা. সাদ্দাম হোসেন, ডা. তারেকুল ইসলাম জনি, ডা. ইয়াসির আরাফাতসহ অনেকে।




