মারমাদের ওয়াগ্যোই পোয়ে উৎসবকে ঘিরে সেজেছে থানছি

0

বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব (মাহা ওয়াগ্যোই পোয়ে) প্রবারণা পূর্ণিমা। এ উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ে পল্লীগুলো সেজেছে নতুন সাজে। বান্দরবান জেলায় থানছি উপজেলায় প্রতিবছরে ন্যায় এবারেও উৎসব উদযাপন কমিটির উদ্যোগে এবারও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পিঠা তৈরি, ফানুস বাতি ওড়ানো, মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলন, মঙ্গল রথযাত্রাসহ তিন দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, তিন মাস বর্ষাবাস থাকার পর বৌদ্ধধর্মালম্বী ও আদিবাসী মারমা সম্প্রদায়ের লোকজন ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে (প্রবারণা পূর্ণিমা) উৎসব পালন করে আসছে বহুকাল ধরে। প্রচলিত আছে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধ এ আশ্বিনী পূর্ণিমায় তার মাথার চুল আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাই আশ্বিণী পূর্ণিমার এ তিথিতে আকাশে ওড়ানো হয় শত শত ফানুসবাতি।
পাহাড়ের মারমা সম্প্রদায় নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী ফানুস বাতি বানিয়ে আকাশে উড়িয়ে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ করে। আকাশে উঠার আগেই যে ব্যক্তির ফানুস মাটিতে পড়ে যায় তাকে পাহাড়িরা পাপী লোক হিসেবে চিহ্নিত করে। ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবে ফানুস উড়িয়ে পাহাড়িরা নিজেদের পাপমোচন ও পাপী মানুষের খোঁজ বের করে। এ কারণে ফানুস আকাশে ওড়ানোর সময় ধর্মালম্বী নর নারীরা ‘সাধু সাধু সাধু’ বলতে থাকেন। অর্থাৎ ‘শুভ মুক্তি’।

প্রত্যেকটি পাড়ায় বা ক্যায়াং থেকে রং-বেরঙের শত শত ফানুস বাতি ওড়ানো হয়। ওয়াগ্যোয়াই পোয়েকে ঘিরে উপজেলায় গ্রামে গ্রামে তরুণ-তরুণিরা মিলনমেলা ও পিঠা তৈরির। পাহাড়ি তরুণ-তরুণী সারিবদ্ধভাবে বসে হরেক রকমের পিঠা তৈরি করেন। যা প্রতিবেশীদের বাড়িতে বাড়িতে বিতরণ করেন এ উৎসবে।

এ উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে- মঙ্গল রথযাত্রা। বিশাল আকৃতির ময়ূর তৈরি করে তার ওপর একটি বুদ্ধমূর্তি স্থাপন করে রথটি টেনে পুরো এলাকায় ঘুরিয়ে সাঙ্গু নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় বৌদ্ধধর্মের নর-নারীরা মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানান বুদ্ধমূর্তিকে।

থানছি উৎসব উদযাপন কমিটি আহ্বায়ক থুইমংপ্রু মারমা বলেন, ‘প্রতিবছরে ন্যায় এবারেও আমারা কেন্দ্রীয়ভাবে থানছি সদরে উৎসবটি উদযাপন করতে যাচ্ছি। ওয়াগ্যোই উপলক্ষে মিলনমেলা হিসেবে ফুটবল টুর্নামেন্টও আয়োজন করেছি। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তরুণ-তরুণিরা একত্রিত হবে সেখানে। ১২ অক্টোবর আমাদের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ১৩ অক্টোবর পিঠা উৎসব, হাজার প্রদীপ প্রজ্জলন ও ১৫ তারিখ আকর্ষণীয় রথযাত্রা (রাথা)। অনুষ্ঠানটি সুন্দর ও সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা সর্বস্তরে মানুষের কাজ থেকে সাহায্য-সহযোগীতাও কামনা করেছেন তিনি।’

এএইচ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm