মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীরা অনশনে, চবি কর্তৃপক্ষ উভয় সংকটে

0

পরীক্ষায় মেধাতালিকায় স্থান পেলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছেন না তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। যারা গতবারও ভর্তির আবেদনের যোগ্য ছিলেন। তাদের ব্যাপারে ভর্তি সংক্রান্ত কোর কমিটির সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা থাকলেও এখনও কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। মানোন্নয়নের মাধ্যমে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও তাদের ভর্তির জন্য বিবেচনা করা হবে না— কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে তারা এখন দিশেহারা।

আবেদনকারীরা বলছেন, অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে এত দূর আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারলে পুরো শিক্ষাজীবনই ধংসের মুখে পড়বে। আবার প্রথমবার পরীক্ষা দেওয়া অপেক্ষমাণ অবস্থায় থাকা ছাত্ররা বলছেন, ইম্প্রুভমেন্ট দিয়ে যারা ভর্তিপরীক্ষায় মেধাতালিকায় আসছে তারা দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়ার মতো। এর ফলে আমাদের ওপর অন্যায় করা হবে। আর চবিতে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগও এখন নেই।

ইম্প্রুভমেন্টের মাধ্যমে পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীরা বলছেন, ভর্তির বিজ্ঞপ্তিতে নতুন চালু করা নিয়ম ‘সুস্পষ্ট’ না থাকায় তারা বিভ্রান্ত হয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন। অযোগ্য হলে তাদের আবেদন বাতিল করা হলো না কেন? পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধা তালিকায় স্থান পাওয়ার পর তারা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অব্যবস্থাপনার’ কারণে তাদের ভবিষ্যত হুমকির মুখে। তাছাড়া দেশের দূরদুরান্ত থেকে এসে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য তাদের হাজার হাজার অর্থ ব্যয় ও ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়েছে। এসবে দায় বিশ্ববিদ্যালয়কে নিতে হবে; তাদের ভর্তির সুযোগ দিতে হবে।

গত কয়েকদিন ধরে মানোন্নয়নের মাধ্যমে মেধাতালিকায় আসা শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করে যাচ্ছিল। তবে প্রশাসন তাদের ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। সোমবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা থাকলেও বুধবার (৬ নভেম্বর) পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তবে সন্ধ্যায় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত তাদের জানানো হয়েছে— তারা সাবজেক্ট পছন্দ করতে পারবে। কিন্তু লিখিতভাবে কোন সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় অনশনে বসেছে মেধাতালিকায় থাকা সত্ত্বেও ভর্তি হতে না পারা শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে প্রথমবার পরীক্ষা দেওয়া অপেক্ষমান স্থানে থাকা কিছু শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা প্রথমবার পরীক্ষা দিয়েছি। আর যারা ইম্প্রুভমেন্ট দিয়ে পরীক্ষা দিয়েছে তারা দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়া যোগ্যতা রাখলেও প্রথমবার না দিয়ে আমাদের সাথে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। পরীক্ষা কমিটি যদি এদের ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে আমরা যারা প্রথমবার পরীক্ষা দিয়েছি তাদের সাথে অন্যায় করা হবে। ইম্প্রুভমেন্ট দিয়ে যারা পরীক্ষা দিয়েছে তাদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩০০। আর যদি তাদের ভর্তি করার সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে প্রথমবার পরীক্ষা দেওয়া সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থীকে বঞ্চিত করা হবে ।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এবার ভর্তির ক্ষেত্রে উচ্চ মাধ্যমিকে মানোন্নয়ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে শুধু গতবার আবেদনে অযোগ্য শিক্ষার্থীরাই যে যোগ্য বিবেচিত হবেন, সে বিষয়টি ভর্তির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল। ফলে গতবারের যোগ্যরা এবার ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে মেধাতালিকায় এলেও ভর্তি হতে পারবেন না।

ভর্তি পরীক্ষার নীতিমালায় উল্লেখ ছিল, ২০১৯ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের পাশাপাশি ২০১৮ সালে পাস করেও যারা চলতি বছর মানোন্নয়ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে তারাও আবেদন করতে পারবে। তবে গতবার যারা যোগ্য ছিল শুধুমাত্র তারাই পরীক্ষা দিতে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। সে আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ে এবারের ভর্তি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১১ হাজার ৭৪১ জন ছিল— যারা মানোন্নয়নের মাধ্যমে উত্তীর্ণ।

অনশনে বসেছে মেধাতালিকায় থাকা সত্ত্বেও ভর্তি হতে না পারা শিক্ষার্থীরা
অনশনে বসেছে মেধাতালিকায় থাকা সত্ত্বেও ভর্তি হতে না পারা শিক্ষার্থীরা

এই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন ইউনিটের মেধাতালিকায় নাম আসে অন্তত ৩০০ জনের— যারা গতবারও পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিল।

আবেদনকারীদের বক্তব্য, তারা অযোগ্য হলে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়ারই কথা নয়। এছাড়া মেধাতালিকায় নাম আসায় অনেকে অন্য কোথাও ভর্তি পরীক্ষা দেননি। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন কলেজের ভর্তিও বাতিল করে দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব এসএম আকবর হোসাইন বলেন, বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের যোগ্যতা স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু না বুঝে অনেকে আবেদন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ভর্তি কমিটি।

তবে যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও কেন তাহলে তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হল— ওই প্রশ্নে কারিগরি সমস্যার দোহাই দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রণব মিত্র চৌধুরী জানান, ওরা আমার কাছে একটি দরখাস্ত দিয়েছে। তাদেরকে বলে দিয়েছি যে তারা তাদের দরখাস্তসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রক্টর অফিসে জমা দেয়।

উল্লেখ্য, গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে অস্পষ্টতার জেরে আবেদন করলেও বিশ্ববিদ্যালয় তাদের অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত করায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না এই শিক্ষার্থীরা। যদিও তাদের আবেদন গ্রহণ করে প্রবেশপত্র ও ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয়।

এইচটি/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন