মাদক-চোরাকারবারিরা গুরুত্বপূর্ণ পদ চাইছেন পতেঙ্গা আওয়ামী লীগের ইউনিট সম্মেলনে

৩০ ডিসেম্বর ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিট সম্মেলন

0

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানার উত্তর পতেঙ্গা মাইজপাড়া আমির সর্দারের বাড়ির মৃত শাহ আলমের পুত্র নুরুল ইসলাম সোনা মিয়া। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতি সঙ্গে জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া গেলেও বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতা আসার পর থেকে ওয়ার্ডের ইউনিট আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন তিনি। তার ছোট ভাই মনছুর আলমও বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দুইজনই ব্যবসায়ী। মনছুর আলমের বিরুদ্ধে পতেঙ্গা থানায় রয়েছে নাশকতার মামলাও। আগামী ৩০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরের ৪০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের তিনটি ইউনিটের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর ওই ওয়ার্ডের সি-ইউনিটে সাধারণ সম্পাদক পদে তার পক্ষে সমর্থন প্রত্যাশা করে রীতিমতো এলাকায় পোস্টারও টাঙ্গিয়েছেন সোনা মিয়া।

অভিযোগ রয়েছে, নুরুল ইসলাম সোনামিয়া একজন চোরাকারবারি। কর্ণফুলী নদী ও বঙ্গোপসাগরের অবস্থারত বড় বড় জাহাজ ও লাইটারেজ জাহাজ থেকে অবৈধভাবে তেলের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। মূলত এসব ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে গত কয়েক বছর ধরে ৪০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর আব্দুল বারেকের হাত ধরে রাজরীতিতে সক্রিয় হয়েছেন এই সোনামিয়া। গত চসিক নির্বাচনের আব্দুল বারেকের নির্বাচনের বড় অংকের জোগানদাতা হিসেবেও তার নামে জনশ্রুতি রয়েছে। ২০১৮ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সোনামিয়ার ছোট ভাই মনছুর আলম নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় তিন মাস কারাভোগ করেন।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে সুবিধাবাদী, মামলার আসামি, মাদক মামলার অভিযোগ কোনো ব্যক্তি বা অভিযুক্ত, চোরাকারবারি, বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তিকে দলের সদস্য করা যাবে না।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের এ-ইউনিটে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নাজিম উদ্দিন প্রকাশ নাজু। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের আগে বিএনপি রাজনীতি সঙ্গে জড়িত থাকার জনশ্রুতি রয়েছে নাজুর। তার বিরুদ্ধে রয়েছে সাইলো ও টিএসপি সার এলাকায় চোরাইব্যবসা এবং ওই এলাকার এক নম্বর রোডে অবৈধ তেল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও।

এছাড়া একই ওয়ার্ডের বি-ইউনিটে আওয়ামী লীগের সদস্যপদ পেতে গোপনে জোর তদবির চালাচ্ছেন পতেঙ্গা থানার ধুমপাড়া এলাকার মৃত শের আলীর পুত্র মঈনুদ্দিন প্রকাশ সাহাবুদ্দিন সাবু (৩৫)। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আগে সাহাবুদ্দিন সাবু বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ওই এলাকার বাসিন্দা ও বর্তমান চট্টগ্রাম মহানগর কৃষক দলের আহবায়ক মো. আলমগীর গ্রুপের কর্মী হিসেবে পরিচিতি ছিল সাবুর। ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ ১৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তাকে গ্রেপ্তার করে পতেঙ্গা থানা পুলিশ। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মোট তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।

Yakub Group

এদিকে একই ওয়ার্ডের সি-ইউনিটে নির্বাচনে সদস্য তালিকায় স্থান পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানার মৃত নুরুল হকের পুত্র মো. আব্দুস সালাম (৪১)। তার বিরুদ্ধে রয়েছে কর্ণফুলী নদী ও সাগরের চোরাই তেলের ব্যবসা করার অভিযোগ। ২০১৮ সালের ১ জুন তার কাছ থেকে ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, হিরোইন ও গাঁজা উদ্ধার দেখিয়ে গ্রেপ্তারের পর একটি মাদক মামলা দায়ের করে পতেঙ্গা থানা পুলিশ।

এদিকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ইউনিট কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ফরম পূরণ করেছেন ওই এলাকার চাঁদাবাজ, ফুটপাত দখলবাজ, ভুমিদস্যু, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (টমটম) বাণিজ্য, মুসলিমাবাদ সাগর পাড়ের ঘাট দখলসহ একাধিক মামলার আসামিরাও। অভিযোগ রয়েছে, কেন্দ্রীয় ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা তেমন কোনো যাচাই-বাছাই না করেই প্রকৃত আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তানদের এবং দুুর্দিনের আওয়ামীলীগের কর্মীদের অনেককে বাদ দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম নগরের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের তিন ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এই ব্যক্তিদের সকলেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর আব্দুল বারেকের অনুসারী। এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর আব্দুল বারেকের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে সাড়া মেলেনি।

মহানগরের ৪০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ইউনিট নির্বাচনের দায়িত্বে রয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী। বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারি যারাই কমিটিতে কৌশলে আসার চেষ্টা করবে তাদেরকে ওই এলাকার জনগণ অবশ্যই প্রত্যাখান করবে। আশা করছি যাচাই-বাচাইয়ের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নতুন কমিটি উপহার দেওয়া হবে।’

এএম/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm