মাতামুহুরীতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মা-মেয়েকে অকথ্য নির্যাতন, প্রবাসীর স্কুলপড়ুয়া মেয়ে আইসিইউতে

প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে চাঞ্চল্য

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় মা-মেয়েকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। আহত স্কুলছাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (৮ জুন) রাত ৮টার দিকে মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাসের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এদিকে আগামী রোববার (১৪ জুন) নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এর কয়েক দিন আগে উপজেলার একটি প্রবাসী পরিবারের বাড়িতে সংঘটিত ডাকাতি ও নির্যাতনের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল বাড়ির গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এ সময় এক স্কুলছাত্রীসহ দুই নারীকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ডাকাতেরা আলমারি থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাস ও চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জনতা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন মাতামুহুরী উপজেলার বড় ভেওলা ইউনিয়নের রেজাউল করিম, মেহেদী, বাবু, কেফায়েত ও তানজিদ। অপর একজনের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মামা বলেন, ডাকাত দল তাঁর বোন ও ভাগনিকে পাশবিক নির্যাতন করেছে। তাঁর ভাগনির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক (ওসি) মো. মাসুদ ডাকাতির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ডাকাতদল বাড়িতে ডাকাতির পাশাপাশি মা-মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন করেছে। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা ও পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে রাখে। সোমবার রাতে ঘটনার পর থেকে মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তারা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাস বলেন, প্রবাসীর বসতঘরে ডাকাতির খবর পাওয়ার পরপরই তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ইতিমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

সিপি

ksrm