আক্রান্ত
২০২৭৭
সুস্থ
১৫৮০১
মৃত্যু
৩০১

মাঝরাতের জিইসি মোড়ে চোখ বাঁধা অপহৃত ব্যবসায়ীর মুক্তি, যুবলীগ নেতার নাটকীয় কাণ্ড

1

অপহরণের ২২ ঘন্টা পর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে চোখ বাঁধা অবস্থায় সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে রেখে যাওয়া হয়। মোটরসাইকেলযোগে ওই ব্যবসায়ীকে নিয়ে এসে যুবলীগ নেতা নওশাদ মাহমুদ রানার লোকজন সেখানে রেখে যান বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে। পরে একটি সিএনজি ট্যাক্সিতে করে ওই ব্যবসায়ী তার বাসায় পৌঁছেন।

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকা থেকে বিকেলে অপহরণের পর যখন এমনকি পুলিশও ওই সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের হদিস পাচ্ছিল না, তখন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে প্রশাসনের অব্যাহত চাপ এবং মধ্যরাতে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের যৌথ সমঝোতা বৈঠকের পর অপহরণকারীরা তাকে ছেড়ে দিতে সম্মত হয়।

ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের নিকটাত্মীয় বিষয়টি শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটায় চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে নিশ্চিত করে বলেন, ‘সাইফুল ভাইয়ের ঘটনা নিয়ে পরিবারের সবাই বিকেল থেকে নিদারুণ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ছিল। গণমাধ্যম এবং প্রশাসনের প্রচেষ্টায় তিনি আমাদের মাঝে জীবিত ফিরেছেন— আপাতত এটাই আমাদের বড় পাওনা। বাকি আইনগত ব্যবস্থা সামনে নেওয়া যাবে।’

এর আগে ঘটনা জানাজানি হলে শুক্রবার মধ্যরাতে অপহরণের দায়ে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের এক নেতার বাসায় আশ্রয় নেন। সেখানে নগর যুবলীগের একাধিক শীর্ষ নেতাও উপস্থিত হন। খবর পেয়ে নগর আওয়ামী লীগের ওই নেতার বাসার সামনে পুলিশের চারটি গাড়ি অবস্থান নিয়ে চাপ সৃষ্টি করে। এরপরই মূলত ব্যবসায়ী সাইফুলকে মুক্তি দিতে তারা সম্মত হন। মিরসরাইয়ের অধিবাসী সাইফুল পরিবার পরিজন নিয়ে নগরীর দক্ষিণ খুলশীতে বসবাস করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘটনায় যুবলীগ নেতা নওশাদ মাহমুদ রানা ও কয়েকজন সহযোগীকে আসামি করে হালিশহর থানায় একটি মামলা (১৯/২০২০) দায়ের করেন অপহরণের শিকার ব্যবসায়ী সাইফুলের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। এতে নওশাদ মাহমুদ রানা ছাড়াও আরও যাদের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছে তারা হলেন নওশাদের ভাই পাপ্পু, মোহাম্মদ মাসুদ ওরফে পাগল মাসুদ, বউবাজার ঈদগাঁ এলাকার ইকবাল, সাখাওয়াতসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজন।

দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাইফুল স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে নিজের প্রাইভেট কারে চড়ে হালিশহর থানার বউবাজার এলাকার দুলহান কমিউনিটি সেন্টারে এক আত্মীয়ের বিয়েতে অংশ নেন। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে উঠতে গেলেই যুবলীগ নেতা নওশাদ মাহমুদ রানা, তার গাড়িচালক মুহাম্মদ ইকবালসহ ১০ থেকে ১৫ জন মিলে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে প্রকাশ্যে মারধর করে এলটি সিলভার রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকজন বাধা দিলে তাদেরও লাঠিসোটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকলে মানুষজন ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।

অপহৃত ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়ে কমিশন ভোগ করা যুবলীগ নেতা নওশাদ যুবলীগের বিতর্কিত চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর কমিটির সদস্য ছিলেন।

অপহরণের পর ব্যবসায়ী সাইফুলের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসের বড় ভাই তামিম রাত সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে জানান, ‘দুপুরে দুলহান ক্লাবের সামনে থেকে আমার ভগ্নিপতিকে অপহরণ করার পরপরই আমার বোন আমাকে জানায়। আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিয়ে হালিশহর থানায় অভিযোগ দায়ের করি। তারা আমাদেরকে বিভিন্ন নাম্বার থেকে ফোন করেছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর পর তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা তার জীবন নিয়ে শঙ্কিত।’

জানা গেছে, এর আগে ব্যবসায়ী সাইফুল ও যুবলীগ নেতা নওশাদ মাহমুদ রানার মধ্যে কমিশন নিয়ে ঝামেলা তৈরি হলে নগর পুলিশের এক প্রভাবশালী ওসির মধ্যস্থতায় ডকুমেন্ট অনুযায়ী আপস-মীমাংসা হয়েছিল।

‘আগের ঝামেলা’ মেটানো সেই পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘নওশাদ মাহমুদ রানা সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের কাছে কোটি টাকার বেশি কমিশন দাবি করেছিল। সাইফুল সাহেব অভিযোগ করলে দুই পক্ষের কাগজপত্র নিয়ে আমিসহ বসে কাগজপত্রে যে টাকা পায় তার পরিশোধের সিদ্ধান্ত দিই। সাইফুল সাহেব পুরো টাকাই শোধ করেছেন বলে আমি জানি। এরপর তাদের কী লেনদেন সেটা আর আমি জানি না।’

এদিকে শুক্রবারের এই ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে হালিশহর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় সিনহা বলেন, ‘ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি।’

এফএম/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ManaratResponsive
1 মন্তব্য
  1. Moinuddin Mohsin বলেছেন

    চট্টগ্রামসহ সারাদেশব্যাপী বহুল আলোচিত চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক দুই সহোদ র( যুবলীগ নেতা ফরিদ-আবু সওদাগর) জোঁড়াখুনের মূল পরিকল্পনাকারী ও গডফাদার ছিল !( চান্দগাঁও থানা মামলা নং-১৯(১২)২০১৪ ইংধারা–৩০২/৩৪ দঃবিঃ)। সাবেক যুবলীগ নেতা নামধারী নওশাদ মাহমুদ রানা!-(সে নিজেও মাদকসেবী বিকৃত-মস্তিস্কের বহুরূপী মোখোশের আড়ালে তার মূল ব্যবসা হল,সে মাদক ইয়্যাবা ব্যবসার ওরা ১১জন সিন্ডিকেটের প্রধান হোতা? যারা প্রতি সপ্তাহে এক ফিশিং বোটভর্তি অবৈধপথে মরণ নেশা হিরোইন, ইয়্যাবা,চরষ,আফিন,গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকের আমদানীকারক! তার অপর চিহ্নিতসহযোগী ইয়্যাবা গডফাদারগণ, যেমনঃ-পূর্ব-কালুরঘাট,বোয়ালখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি (সাবেক ফ্রীডম পাটি নেতা) ( ২) হাজী মনছুর আলম (পাপ্পী)-এর তার অপর ভাই, (৩) বিএনপি নেতা ববি আর ( ৪)পারভেজ সর্বপীং-মৃত আনুটিয়া সাং-মাওয়া বাগানবাড়ী। বোয়ালখালী,চট্রগ্রাম। (৫)সাবেক যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌঃবাবর ( ৬) পেশাধারী কিলার বাট্টা জাফর (নন্দনকানন) (৭)পেশাধারী কিলার অজিত বিশ্বাস (কানুনগোপাড়া)(।৮) মুজিবুল ইসলাম(মুজিব) পীং-নূরুল ইসলাম বিএসসি(সাবেক মন্ত্রী) (৯) ইউসুফ সওদাগর(হামিদ চর, চান্দগাঁও)! (১০)ফোরকান সওঃ পিং-মৃত জানে আলম সওঃ(জানু)( সাং-১৮নং পূর্ব-বাকলিয়া,বলিরহাট। (১১)নেজাম উদ্দীন পীং-রফিক সাং-১৮ নং পূর্ব-বাকলিয়া,বলিরহাট! উপরি উল্লেখিত ব্যক্তিগণের অবৈধ মাদক ব্যবসার চালান চিরতরে বন্ধ করা গেলেই, সরকার দ্রুত কামেয়াবী হবে। ইনশাল্লাহ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm