মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ পরিচ্ছন্নকর্মীদের চাকরি থাকবে না, মেয়র শাহাদাতের হুঁশিয়ারি

বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ও কিউলেক্স রোধে মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ পরিচ্ছন্নকর্মীদের চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হুশিয়ারি দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) টাইগারপাসের সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে পরিচ্ছন্ন বিভাগের মতবিনিময় সভায় অনুষ্ঠিত হয়। এসময় একথা বলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত।

এছাড়া সভায় ডেঙ্গু ও মশাবাহিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে ফগার মেশিন দেওয়া হয় সিটি কর্পোরেশনকে।

এসময় ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, যে সকল পরিচ্ছন্নকর্মী মশার স্প্রে করার ক্ষেত্রে গাফিলতি করছে, তাদের চাকরি থেকে বের করে দেব। যারা সুপারভাইজার আছেন, প্রত্যেকটা ওয়ার্ডের আপনাদেরকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, কেউ ফাঁকিবাজি করলে এটার দায়-দায়িত্ব আপনাদেরকে নিতে হবে। যদি আপনারা লুকাতে চান, আমরা আল্টিমেটলি খবর পেয়ে যাব। প্রতিটি এলাকায় আমাদের লোকজন আছে। কাজেই আপনাদেরকে আমি স্পষ্ট বলতে চাই, আপনারা কেউ গাফিলতি করলে, কেউ ফাঁকিবাজি করলে, কেউ কাজ না করলে লুকানোর চেষ্টা করবেন না। বরং এটা আমাদেরকে ইনফর্ম করেন। আমরা দরকার হলে নতুন লোক দিয়ে কাজ করাবো।

তিনি বলেন, আমি চাই কাজ হোক। কাজ হতে হবে। না হয় জনগণ দুর্ভোগে পড়বে। জনগণ দুর্ভোগে পড়লে আল্টিমেটলি গিয়ে এটার দায় দায়িত্ব তো স্বাভাবিকভাবে আমাদেরকে নিতেই হবে।

মেয়র বলেন, আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও মশা নিয়ন্ত্রণে ওয়ার্ডভিত্তিক মনিটরিং চলবে। মশার ওষুধের যাতে কোনোভাবেই ঘাটতি না পড়ে। আমরা ইতোমধ্যে ১০০ পিস ফগার মেশিন এবং ১২০ পিস স্প্রে মেশিন কিনেছি। এছাড়া সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বেশ কিছু ব্যাংক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় অত্যাধুনিক ফগার মেশিন উপহার দিয়েছে। এছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসণে নালা-খাল পরিস্কারের জন্য ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি ব্যাকহোলোডার গাড়ি সংগ্রহ করেছি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৪০ হাজার বিন বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জনসচেতনতার ওপর জোর দিয়ে মেয়র বলেন, নালা, ঝোপ-ঝাড় এগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ডেঙ্গুর ব্যাপারে আমরা লিফলেট বিতরণ করছি এটা আরো বাড়াতে হবে। ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা জিরোতে নিয়ে আসতে হবে। কোনো জায়গায় ডাবের খোসা তারপর কোনো বালতি, কোনো নির্মাণ সামগ্রী যাতে উন্মুক্ত যাতে না রাখা হয়। যদি পানি জমা থাকে তাহলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিবে। বাসার দুই-তিনদিনের জন্য বালতিতে পানি জমিয়ে রাখবেন না এবং টবের মধ্যে পানি জমিয়ে রাখবেন না এবং খোলা জায়গায় টব রেখে সেখানে পানি জমা করবেন না। কারণ ওখানে পানি জমে গেলেই এডিস মশার লার্ভা জন্মাবে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মাসহ পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

আরএ/ডিজে

ksrm