মধ্যরাতের চট্টগ্রামে নবজাতকসহ তিন শিশুকে জিম্মি করে রেখেছে বাবা, ছুরি শানিয়ে খুনের হুমকি

ভেতরে ঢুকতে পারছে না পুলিশ, গেছে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি

মধ্যরাতে চট্টগ্রাম নগরীতে মাদকাসক্ত এক পিতা পাঁচদিনের নবজাতকসহ তার তিন শিশুকে জিম্মি করে রেখেছে নিজের ঘরেই। পুলিশ ওই বাড়ির চারপাশ ঘেরাও করে রাখলেও ভেতরে ঢুকতে পারছে না। কেউ ঘরে ঢোকার চেষ্টা করলে তিন শিশুকেই খুন করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ইতিমধ্যে সেখানে এসেছে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়িও। হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশের একটি গাড়িও বাড়িটির পাশে তৈরি রাখা হয়েছে।

মধ্যরাতের চট্টগ্রামে নবজাতকসহ তিন শিশুকে জিম্মি করে রেখেছে বাবা, ছুরি শানিয়ে খুনের হুমকি 1

রোববার (৭ জুলাই) মাঝরাতে চট্টগ্রাম নগরীর আকবরশাহ থানার রেলবিটের পাশে মুক্তকন্ঠ মাঠ এলাকার বস্তির এক বাড়িতে এমন ঘটনা ঘটছে।

মধ্যরাতের চট্টগ্রামে নবজাতকসহ তিন শিশুকে জিম্মি করে রেখেছে বাবা, ছুরি শানিয়ে খুনের হুমকি 2

নিজের শিশুকে জিম্মি করা ৩২ বছর বয়সী ওই যুবকের নাম মোহাম্মদ সুমন। তার হাতে জিম্মি তিন শিশুর একটি মাত্র পাঁচদিনের নবজাতক। অন্য দুই শিশুর একজনের বয়স ৪ বছর, আরেকজনের ৭ বছর। এর মধ্যে একটি ছেলেশিশু ও দুটি কন্যাশিশু।

রাত তিনটায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে জানান, একটি খাটের ওপর তিন শিশুসহ ওই ব্যক্তিকে শুয়ে থাকতে দেখেছেন। তার পাশে একটি ধারালো ছুরি রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ সুমন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। আকবরশাহ এলাকায় মাদকব্যবসার সঙ্গেও তিনি জড়িত। আকবরশাহ থানার মুক্তকন্ঠ মাঠ এলাকার বস্তিতে তার বাসা। চট্টগ্রামে বসবাস করলেও সুমনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলায়। তার বাবার নাম আবুল কাশেম, মায়ের নাম নয়নমনি। দুজনের কেউই বেঁচে নেই।

জানা গেছে, মাদকাসক্ত হওয়ায় তিনি প্রায় প্রতিদিনই স্ত্রীকে মারধর করেন। রোববার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকেও তিনি বেদম মারধর করে স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দেন।

এরপরই মোহাম্মদ সুমন নিজের পাঁচ দিন বয়সী নবজাতককে একহাতে রেখে অন্য হাতে ছুরি নিয়ে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকেন। এ সময় আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে সুমন তার বাকি দুই শিশুসন্তানসহ সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এ সময় তিনি ঘরের টিনের দরজাও ভেতর থেকে আটকে দেন।

এদিকে খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে আকবরশাহ থানার পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। তারা সুমনের ঘর চারদিক থেকে ঘেরাও করে রেখেছে। ঘরের টিনের দরজার পার্টিশনও কৌশলে কেটে ফেলেছে। কিন্তু পুলিশ ভেতরে ঢুকতে পারছে না। কয়েক দফা ঢোকার চেষ্টা করলেও তিন শিশুকে হত্যার হুমকির মুখে পুলিশ পিছিয়ে আসে। ভেতর থেকে কিছুক্ষণ পর পর সে স্ত্রীর নাম ধরে অকথ্য গালিগালাজ করে যাচ্ছে।

রাত তিনটায় আকবরশাহ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর রেজা চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘অনেকক্ষণ ধরে সে (সুমন) ভয় দেখাচ্ছে, কেউ যদি তাকে ধরতে আসে বা ঘরের ভেতরে ঢোকে, তাহলে সে তিন শিশুকে খুন করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তিন শিশুকে উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। তবে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ত্বরিৎগতিতে উদ্ধার সম্ভব হচ্ছে না। কারণ সে চিৎকার দিয়ে দিয়ে বলছে, সামনের দিকে কেউ এগোলে শিশুদের সবাইকে সে খুন করবে।’

এদিকে জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশের একটি গাড়িও সুমনের বাড়ির পাশে তৈরি রাখা হয়েছে।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!