মদ সন্দেহে ‘ব্লক্ড’ চট্টগ্রাম বন্দরের ১৫০ কনটেইনার, কড়া নজর কাস্টমসের

0

মদের চালান সন্দেহে চট্টগ্রাম কাস্টমসের নজর এখন আরও ১৫০ কন্টেইনারে। গত তিন দিনে পাঁচ কন্টেইনার মদ উদ্ধারের পর নড়েচড়ে বসেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এসব কন্টেইনার শতভাগ কায়িক পরীক্ষার জন্য ব্লক করা হয়েছে।

সূত্রমতে জানা গেছে, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) ও পোর্ট কন্ট্রোল ইউনিটের (পিসিইউ) মাধ্যমে বিল অব ল্যান্ডিং (বিএল) ব্লক করা হয়েছে ১৫০টি চালান। এখানে কাস্টমস হাউসে পণ্য চালান খালাসের জন্য যেসব চালানের বিল অব এন্ট্রি জমা দেওয়া হয়েছে সেগুলো ব্লক করা হয়েছে।

আর যেসব চালানের বিল অব এন্ট্রি দাখিল হয়নি সেসব চালানের বিল অব ল্যান্ডিং (বিএল) ব্লক করেছে কাস্টমস হাউস। ব্লক করা এসব কন্টেইনার শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করবে কাস্টমসের এআইআর শাখা।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ধারণা, ব্লক করা কন্টেইনারে রক্ষিত পণ্য চালানে আরও মদ পাওয়া যেতে পারে।

কাস্টমস হাউস সূত্রে জানা গেছে, মদের চালানকে কেন্দ্র করে ব্লক হওয়া আরও ১৫০ কন্টেইনারে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু না থাকলে ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের হয়রানি করা হবে না। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। কাস্টমস হাউস চিরুণী অভিযানের মতো খুঁজে দেখছে অবৈধ কিছু আমদানি হয়েছে কি-না। আমদানি করা পণ্যের দেশ বা কান্ট্রি অব অর্জিন, পণ্যের ওজন, আমদানিকারকের নাম-ঠিকানা বিবেচেনা করেই ব্লক হয়েছে কন্টেইনারগুলো।

Yakub Group

চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘মদের চালান ধরা পড়ায় আরও ১৫০টি কন্টেইনার ব্লক বা লক করা হয়েছে। এসব কন্টেইনারে মদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে—এ বিবেচনায় পণ্য চালানগুলো ব্লক করা হয়েছে। আমরা চাই শতভাগ কায়িক পরীক্ষার মাধ্যমে এসব কন্টেইনার বন্দর থেকে বের হবে। তবে এখানে কোনো ধরনের হয়রানি করা হবে না ব্যবসায়ীদের।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন ক্যাটাগরি বিবেচনায় এসব কন্টেইনার ব্লক করা হয়েছে। কন্টেইনারে মদ ধরা পড়ার পর আমাদের চোখ খুলেছে।’

কাস্টমসের বিশেষায়িত সফটওয়্যার অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে হাই সিকিউরিটি থাকা সত্ত্বেও কিভাবে হ্যাক হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে কাস্টমস কমিশনার বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে ওই রাজস্ব কর্মকর্তার আইডি-পাসওয়ার্ড চুরি করেছে চক্রটি। এর আগেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সফটওয়্যার হ্যাক করে আইপি জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছিল। জালিয়াতচক্র বসে নেই। আমরা যত কঠোর হচ্ছি, চোরেরাও তত আপগ্রেড হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কাস্টমসের স্ক্যানিং, আনস্টাফিং তথ্য কাস্টমসের বিশেষায়িত সফটওয়্যার অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে আপলোড থাকলে জালিয়াতি থাকতো না। কারণ অফিসাররা ওই সফটওয়্যারে তা দেখে চালান খালাস দিতে পারতো।’

ফখরুল আলম বলেন, ‘আমার মতে, কাস্টমস থেকে ম্যানুয়াল পদ্ধতি একেবারেই বাদ দিতে হবে। ম্যানুয়াল কাগজপত্রগুলো জাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’

এদিকে আইপি হ্যাক হওয়ার বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের ইপিজেড শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা (আরও) নাছির উদ্দিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আমার বাসা নগরীর বড়পোল এলাকায়। আমি কখনও কাজির দেউড়ি এলাকায় যায়নি। কিভাবে আমার আইডি হ্যাক হলো তা শুনে আমি অবাক হয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে তা বের হবে। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

কাস্টমসের সব ধরনের কাগজপত্র জালিয়াতি করে গত শনিবার (২৩ জুলাই) দুই কন্টেইনার মদের চালান খালাস করার পর বন্দরের ইয়ার্ড থেকে আরও ৩ কন্টেইনার মদ জব্দ করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। পরে ওটিপির মাধ্যমে কাস্টমস কর্মকর্তারা জানতে পারেন, নগরীর কাজির দেউড়ি এলাকার একটি কম্পিউটারের দোকান থেকে সব ধরনের কাগজপত্র জাল ও আইপি হ্যাক করা হয়।

জাফর আহমেদ নামের এক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কন্টেইনারগুলো বন্দর থেকে বের করার দায়িত্বে ছিল। আর মদভর্তি কন্টেইনারের গন্তব্য ছিল ঢাকার মুন্সিগঞ্জের আজিজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির কাছে। এসব কন্টেইনার খালাস থেকে শুরু করে গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত সবকিছুর দুবাই থেকে তদারকি করেন নাসির উদ্দীন নামের এক ব্যক্তি।

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm