আক্রান্ত
১৮৬৯৫
সুস্থ
১৫০৬২
মৃত্যু
২৯০

পথেই বাজার, ময়লার ভাগাড় সিরাজদৌল্লা রোডে

দিনরাত পথ আটকায় চসিকের গাড়ি

0

চট্টগ্রাম নগরের আন্দরকিল্লা-চকবাজার এলাকার সংযোগ সড়কগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিরাজদৌল্লা রোড। নগরীর প্রাণকেন্দ্র চকবাজার থেকে আন্দরকিল্লা হয়ে নিউমার্কেট, স্টেশন রোড কিংবা জামালখান যাতায়াতের জন্য এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল চকবাজার, বাকলিয়াসহ বেশকিছু এলাকার বাসিন্দা। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় ভোগান্তি বেড়েছে এই সড়কে।

স্থানীয়রা জানান, শুরুতে কয়েকজন ভাসমান সবজি বিক্রেতা সাবএরিয়া এলাকায় বেচাকেনা করতো। পরে কাঁচা পণ্যের চাহিদাকে পুঁজি করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা কাঁচাবাজার গড়ে তোলেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর না গড়াতেই ভ্যানগাড়িসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচাপণ্য নিয়ে হাজির হতে থাকে বিক্রেতারা। জমজমাট এই বেচাকেনা চলে রাত ১০টা পর্যন্ত।

চট্টগ্রাম নগরীর সিরাজদ্দৌলা রোডের মোড়ে মোড়ে যানজট ও দুর্গন্ধ
চট্টগ্রাম নগরীর সিরাজদ্দৌলা রোডের মোড়ে মোড়ে যানজট ও দুর্গন্ধ

ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা গণি মিয়ার সাথে কথা বলে জানা যায়, ভ্যানগাড়িতে করে প্রায় ৪ বছর ধরে ব্যবসা করছেন সাবএরিয়ার এই বাজারে। এজন্য স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটকে দিতে হয় দৈনিক ৩০০ টাকা। শুরুর দিকে এই চাঁদার পরিমাণ ৫০-৬০ টাকা হলেও ব্যবসা বেশ ভালো জমে উঠায় বর্তমানে গুণতে হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। পুরনো ব্যবসায়ীরা ব্যবসা ছেড়ে দিলে সেই স্থান পুনরায় বিক্রি হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায়।

জানা যায়, গণি মিয়ার মত এই সড়কের দুই পাশ দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ কাঁচাবাজার বসিয়েছে প্রায় ২০টির বেশি ভ্যানগাড়ি। তাছাড়া চসিকের ময়লা গাড়ি সড়কে জমে থাকা ময়লা-আর্বজনাগুলো দিন-দুপুরে সরাতে গিয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় যানজটে আটকা পড়ার পাশাপাশি আর্বজনার দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস উঠছে যাত্রীদের। শুধু তাই নয়, প্রায়ই ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটছে।

রোববার (১২ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের ওপর বাঁকাভাবে রাখা হয়েছে চসিকের আবর্জনার ডাম্প। এতে স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় জট লেগে আছে। ময়লার দুর্গন্ধে পথচারীরা হাঁটছেন নাকে রুমাল চেপে।

যানজটে আটকা পড়ার পাশাপাশি আর্বজনার দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস উঠছে যাত্রীদের।
যানজটে আটকা পড়ার পাশাপাশি আর্বজনার দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস উঠছে যাত্রীদের।

আন্দরকিল্লা এলাকার বাসিন্দা রাজু বড়ুয়া জানান, সময়ে-অসময়ে একযোগে চসিকের ২/৩টি আর্বজনার গাড়ি ময়লা উঠানোর কাজ করে এই সড়কে। স্বস্তিতে চলাফেরারও সুযোগ নেই। এসব অনিয়ম যেন দেখার কেউ নেই!

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চসিকের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোর্শেদুল আলম চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন,‘সাবএরিয়া এলাকায় আবর্জনার ডাম্পটি ঘিরে যানজটের বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে। এ বিষয়ে মেয়র মহোদয়কে জানানো হয়েছে। ওই এলাকায় আবর্জনার ডাম্প বসানোর ভিন্ন স্থান খোঁজা হচ্ছে।’

সিরাজদৌল্লা সড়কে দখল-বেদখলের খেলায় মেতেছেন স্থানীয় দোকানিরাও। সাবএরিয়া শেষ প্রান্ত থেকে শুরু করে চন্দনপুরা পর্যন্ত রয়েছে কাঠের আসবাবপত্র তৈরির বেশ কয়েকটি দোকান ও ওয়ার্কশপ। দীর্ঘদিন ধরে আসবাবপত্রের পসরা সাজিয়ে ফুটপাত দখল করে রেখেছে দোকানীরা।

এই সড়কে দিদার মার্কেট রোডে দেখা যায়, ট্রাফিক বিভাগের দেওয়া নির্দেশনা‘এখানে বাস থামিবে’ চিহ্নিত স্পটে রাখা হয়েছে ১০-১২টি ভ্যানগাড়ি।

স্থানীয়রা জানান, দিনের পর দিন এভাবেই সড়ক দখল করে ভ্যানগাড়ির গ্যারেজ বানিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল।

তবে সিএমপি উত্তর বিভাগের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন খান চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন,‘যে বা যারাই জড়িত থাকুক, নগরজুড়ে ক্লিন রোড- ফ্রি রোড বাস্তবায়িত হবে। নগরীর বেশ কিছু জায়গায় ইতোমধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। শীঘ্রই বাকি স্থানগুলোতেও এই কার্যক্রম চালানো হবে।’

এসএ/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ManaratResponsive

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm