ভোটের দিনে ঘরবন্দি প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখলের মামলা দিল চান্দগাঁও পুলিশ
বোনকে মেরে মাকে গালি দেওয়ার পর ‘ককটেল ফাটানো’র মামলা
ভোট চলাকালে দিনভর ঘরে আটকে রাখা বিএনপি মনোনীত এক কাউন্সিলর প্রার্থীসহ তার ৩২ সমর্থককে এবার মামলায় জড়িয়ে দিল চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানা পুলিশ। আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে। নির্বাচনের দিন এই প্রার্থীকে ঘর থেকেই বের হতে দেয়নি পুলিশ। চান্দগাঁও থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান নিজে গিয়ে বলে এসেছেন, ‘খানকির পোলা তুমি যদি কেন্দ্রে যাও সোজা তুলে নিয়ে যাব।’
বুধবার (২৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সরকারি দল সমর্থক প্রার্থীদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে থাকা কেন্দ্রগুলো ‘ককটেল ফাটিয়ে দখল’ ও ‘সরকারি কাজে বাধা’ দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।
নির্বাচনের পর দিন বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) চান্দগাঁও থানার এসআই কেএম তারিকুজ্জামান বাদি হয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডে বিএনপি মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী মুহাম্মদ হাসান লিটনসহ মোট ৩২ জনকে আসামি করে এই মামলা দায়ের করেছেন।
ওই মামলার মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘২৫ জানুয়ারি সকাল ৭টায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ডিউটি করার সময় চান্দগাঁও থানার ৬ নং ওয়ার্ডের ওয়াছিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসার ভোট কেন্দ্র জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মুহাম্মদ হাসান লিটনের নির্দেশে তার ভাই মো. মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে ককটেল বিস্ফোরণ করেন। এ সময় তারা সরকারি কাজে বাধা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৫টি ককটেল, ৩টি রাম দা, ১৬ টি কাঠের লাঠি ও ২২ টি ইটের টুকরো উদ্ধার করে।’
বিএনপি মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী মুহাম্মদ হাসান লিটন ছাড়াও এই মামলায় আরও যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা হলেন— মহিউদ্দিন মনি, মনছুর আলম, আনোয়ার হোসেন আনু, নেছার আহমেদ, নুরুল হুদা, মো.হামিদ, মো. ইলিয়াস সেকু, মো. মনছুর, সাইফুল ইসলাম, রেজুয়ানুল হক, সাজিদ হাসান রণি, মাহবুবুর আলম, আলমগীর টিুটু, মো. আজমল, মো. ফারুক, হুমায়ন কবির, আবু সৈয়দ, আবদুল আজিজ, মো. সালাউদ্দিন, নাছির উদ্দিন, মো. সেলিম, ইব্রাহিম লেদু, মো. ইকবাল, মো. ইস্কান্দর, আইয়ুব আলী, নুর নবী, শরিফুল ইসলাম, মো. কায়সার, মো. মুজিব, মো. রানা, মো. বাদশা। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ২২০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে এই মামলায়।
এর আগে বুধবার (২৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডে বিএনপির মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী বিএনপির প্রার্থী মুহাম্মদ হাসান লিটনকে ভোট চলাকালে ঘর থেকেই বের হতে দেয়নি চান্দগাঁও থানার পুলিশ। তিনি তার পূর্ব ষোলশহর খাজা রোড এলাকার বাসায় অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।
রেডিও মার্কা নিয়ে ভোটে দাঁড়ানো বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মুহাম্মদ হাসান লিটন ওইদিন অভিযোগ করেন, ‘সকাল ১০টায় আমি ঘর থেকে বের হতে গেলেই বাধা দেয় পুলিশ।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘চান্দগাঁও থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান নিজে আমার ঘরের সামনে গিয়ে আমার মাকে গালি দিয়ে বলেন, খানকির পোলা তুমি যদি কেন্দ্রে যাও সোজা তুলে নিয়ে যাব।’
তিনি বলেন, তাকে বাঁচাতে তার ৭০ বছর বয়সী বড় বোন জাহানারা বেগম এগিয়ে আসলে তাকেও মেরে আহত করেছে পুলিশ।
সিএম/সিপি



