ভোটের আগে রহস্যময় আগুনে পুড়ল বাঁশখালী পৌরসভা কার্যালয়

মনোনয়ন না পাওয়া মেয়র সেলিমের দেখা নেই

0

আর মাত্র পক্ষকাল পর, ১৬ জানুয়ারি চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভা নির্বাচন। এর আগে মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) বাঁশখালী পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পান। কিন্তু প্রতীক বরাদ্দের রাতেই বাঁশখালী পৌরসভা কার্যালয়ে ঘটে গেল রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ড। মঙ্গলবার দিবাগত রাতের শেষভাগে সাড়ে তিনটায় রহস্যজনক আগুনে পৌরসভা কার্যালয়ের নিচতলা পুড়ে যায়। ওই অগ্নিকাণ্ডে হাত পুড়ে আহত হয়েছেন পৌরসভার রাত্রিকালীন পাহারাদার ছলিম উল্লাহ। বিশাল পৌরসভা অফিসের নিচের সব বৈদ্যুতিক তার পুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পৌরসভার কার্যক্রমই এখন বন্ধ।

ঘন্টাব্যাপী আগুনের লেলিহান শিখায় পৌরসভার নিচতলার বিশাল অংশ জুড়ে কলো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে আগুনে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী পুড়ে গেছে এবং পুরো পৌরসভা কার্যালয়ের বিদ্যুৎ তার ও সিসিটিভি ক্যামেরার তার পুড়ে গেছে। ওই অগ্নিকান্ডে ৫ লাখ টাকার ক্ষতি দেখিয়ে পৌরসভা কার্যালয়ের রাত্রিকালীন পাহারাদার ছলিম উল্লাহ সাধারণ ডায়েরীর জন্য আবেদন করেছেন। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আজাদুল ইসলাম বলেন, পৌরসভা কার্যালয় থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে ফায়ার সার্ভিস কার্যালয় থাকলেও আগুন লাগার ১ ঘন্টা পর ফায়ার সার্ভিস অফিসে খবর পৌঁছানো হয়। খবর পেয়ে দ্রুত পৌঁছে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড নিয়ন্ত্রণে আনি। না হয় আরো ভয়াবহ ক্ষতি হতো।

নানা দুর্নীতি ও অনিয়ম ছাড়াও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ভবনের সামনে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে হামলাকারী হিসেবে অভিযুক্ত বর্তমান মেয়র সেলিমুল হক চৌধুরী এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়ায় নির্বাচনের আগে পৌরসভা কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডকে এলাকাবাসী ভিন্ন চোখে দেখছেন এবং দিনভর এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনাও চলছে। এমনকি পৌরসভা কার্যালয়ে অগ্নিকান্ডের পরও বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকালেও পৌরসভা কার্যালয়ে আসেননি মেয়র সেলিমুল হক চৌধুরী। এছাড়া তার বিভিন্ন সময় ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইলে অসংখ্যবার ফোন করে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

তবে বাঁশখালী পৌরসভার প্যানেল মেয়র দিলীপ চক্রবর্তী বলেন, মেয়র সাহেব জরুরি কাজে ঢাকায় আছেন। তিনি ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছেন। বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে অগ্নিকান্ড হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ওই ঘটনায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি ও পাহারাদারের হাত পুড়ে গেছে বলে জানান।

বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল উদ্দিন বলেন, বাঁশখালী পৌরসভার মেয়রসহ বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তা আছেন। তারা বাদি না হয়ে একজন রাত্রিকালীন পাহারাদার দিয়ে থানায় জিডি পাঠিয়েছেন। বিষয়টি রহস্যজনক হওয়ায় সিসিটিভি ক্যামেরা ও নানা বিষয় তদন্ত করে জিডি গ্রহণ করা হবে। পুলিশ তদন্ত করছে।

উল্লেখ্য, বাঁশখালী পৌরসভা নির্বাচনে দুজন মেয়র প্রার্থী, ১০ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর এবং ৪৪ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী নির্বাচন করছেন। নৌকা নিয়ে নির্বাচন করছেন বাঁশখালী পৌরসভা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক এস এম তোফাইল বিন হোসাইন এবং মোবাইল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির অন্যতম নেতা বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোছাইনী। তিনি বাঁশখালী পৌরসভার নির্বাচনে স্বতন্ত্র পদে প্রার্থী হবার আগে পর্যন্ত দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চৌধুরীর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অন্যতম ব্যবস্থাপক ছিলেন। কামরুল ইসলাম হোছাইনী বিএনপি নেতা হলেও তার পক্ষ হয়ে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা নৌকা ডোবাতে তার পক্ষে কাজ করছেন বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm