ভুয়া কাগজে কোটি টাকা আত্মসাৎ, এলএ শাখার সার্ভেয়ার কারাগারে

চট্টগ্রামে জমির মালিকানা সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র জালিয়াতির করে ভূমি অধিগ্রহণের কোটি টাকা উত্তোলনের ঘটনায় এক সার্ভেয়ারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এর আগে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন।

অভিযুক্ত মোহাম্মদ নূর চৌধুরী (৫২) চট্টগ্রামের এলএ শাখার সার্ভেয়ার। তিনি পটিয়া থানার পাইরল এলাকার মৃত আহম্মদ হোসেনের ছেলে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, নগরের কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা মামলাটিতে আসামি করা হয়েছে ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ১৯ জনকে এবং মামলাটি বর্তমানে চার্জ গঠনের পর্যায়ে রয়েছে।

দুদকের অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রামের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ০৬/২০১৩-১৪ নম্বর অধিগ্রহণ মামলার আওতাধীন নগরের উত্তর পতেঙ্গা মৌজার জমির মালিকানা সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি ও ব্যবহার করা হয়। পরে এসব কাগজপত্রের ভিত্তিতে জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে ১ কোটি ১৩ লাখ ১৪ হাজার ২৭০ টাকা ২ পয়সা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ এবং আদালতে মামলা চলমান থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই না করেই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পক্ষে প্রতিবেদন দেন। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০১৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করা হয়।

চট্টগ্রাম দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক জাফর আহমেদ অভিযোগটি তদন্ত করে মামলা দায়েরের আবেদন করেন। এ ঘটনায় ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ১৯ জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে দুদকের পিপি রেজাউল করিম রনি জানান, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় এলএ শাখার মো. নুর চৌধুরী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

টিএ/ডিজে

ksrm