আক্রান্ত
১১৫৯৭
সুস্থ
১৩৯৭
মৃত্যু
২১৬

ভাড়া ছাড়াই ৪ বগিতে চট্টগ্রাম রেল শ্রমিক লীগের সম্মেলনযাত্রা

0
high flow nasal cannula – mobile

বাংলাদেশ রেলওয়ের শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে যোগ দিতে চট্টগ্রাম থেকে রেল শ্রমিক লীগের নেতারা পাঁচটি বগি বরাদ্দ নিয়ে চার বগির ভাড়া পরিশোধ ছাড়াই চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ও ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ভ্রমণ করেছেন। একটি বগির ভাড়া খন্দকার সাইফুল ইসলাম মামুন নামের এক রেলকর্মকর্তা পরিশোধ করলেও যার নামে বগিগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, সেই শ্রমিক লীগ নেতা শেখ লোকমান হোসেন বাকি চারটি বগির ভাড়া পরিশোধ না করে দলবল নিয়ে রেলভ্রমণ করেছেন। অথচ পাস কিংবা টিকিট ছাড়া রেলভ্রমণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

শ্রমিক লীগ নেতা শেখ লোকমান হোসেন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা পাস নিয়েছিলাম, তাই ভাড়া দিইনি। তবে একটি ট্রেনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পাস নিয়ে ভ্রমণ করার নিয়ম আছে।’

কিভাবে এর বেশি পাস নেওয়া হল— জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘বিশেষ পাস নিয়েছি আমরা।’

তবে শেখ লোকমানের পাস নেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মো. বোরহান উদ্দিন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা পাস পাইনি। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে টিসি, টিটি, টিটিআই, ডিসিওসহ ডিআরএমের দায়িত্ব ছিল টিকিট কিংবা পাস তদারকির করার।’

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে কিনা— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সংগঠিত হাজার মানুষের মাঝে বিষয়টি নিয়ে কড়াকড়ি করলে গণ্ডগোল বাধতো। এতে রেলওয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হতো। তাই তাদের সঙ্গে স্টেশনে বাড়াবাড়িতে যায়নি আমাদের স্টাফরা।’

উল্লেখ্য, ৩ অক্টোবর ঢাকায় রেলওয়ে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ছিল। সম্মেলনে অংশ নিতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাতায়াত করতে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে যুগ্ম সম্পাদক শেখ মো. লোকমান হোসেন আসন সংরক্ষণের জন্য আবেদন করেন।

৩০ সেপ্টেম্বর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ডেপুটি চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার গৌতম কুমার কুণ্ডু আবেদিত আসন সংরক্ষণের জন্য রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (চট্টগ্রাম ও ঢাকা) এবং স্টেশন ম্যানেজারকে (চট্টগ্রাম ও ঢাকা) নির্দেশ প্রদান করেন। ওই নির্দেশনায় তিনি উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন/২০১৯-এ যোগদানের লক্ষে চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াতের জন্য সম্পাদকের পক্ষে জনাব শেখ মো. লোকমান হোসেন ২ অক্টোবর, ২০১৯ চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ১নং আপ (ঢাকা মেইল) ট্রেনের দুটি প্রথম শ্রেণির কোচের আসন ও তিনটি দ্বিতীয় শ্রেণির কোচের আসন এবং ৩ অক্টোবর ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ২নং মেইল (চট্টগ্রাম মেইল) ট্রেনের দুইটি প্রথম শ্রেণির কোচের আসন ও তিনটি দ্বিতীয় শ্রেণির কোচের আসন সংরক্ষণের জন্য আবেদন করেন।’

ওই তারিখে উল্লেখিত বগিগুলো সংরক্ষণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন গৌতম কুমার কুণ্ডু।

১ অক্টোবর ওই চিঠির আলোকে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এসিসট্যান্ট চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান ১ নং ঢাকা মেইল ট্রেনের দ্বিতীয় শ্রেণির পাঁচটি বগি দুজনের নামে বরাদ্দ করেন। যথাসময়ে তারা চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম ভ্রমণও করেন। একটি বগি ছাড়া অপর চারটি বগির কোনো ধরনের ভাড়া পরিশোধ করেননি লোকমান। তাই লোকমানের নামে বরাদ্দ করা টিকিট সংগ্রহের জন্য (ভাড়ার টাকা আদায়) বিভাগীয় রেলওয়ের দফতর থেকে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো ধরনের সাড়া দেননি। যা রেলওয়ের একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।

অনেকটা বাধ্য হয়ে বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মো. বোরহান উদ্দিন শ্রমিক লীগের নেতা শেখ লোকমান হোসেনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মহা-ব্যবস্থাপকের পূর্বাঞ্চলের দফতরে ১৫ অক্টোবর চিঠি দেন। অপরদিকে স্টেশন মাস্টার মো. মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনেও টিকিট সংগ্রহ না করে ভ্রমণের বিষয়টি উঠে এসেছে। স্টেশন মাস্টার স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনটিও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।

এফএম/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Manarat

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm