ভালোবাসার দিনে— ‘সবার গায়ে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ’

0

‘ভালোবাসা দিবস আর পহেলা ফাল্গুন একসাথে হওয়ায় কারখানা বন্ধ। আনন্দ করতে রাঙামাটিতে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে আসছিলাম। কিন্তু সেটা হলো না। সবার গায়েই লাল রক্তের দাগ লেগে গেলো। বাঁচবো কিনা বুঝতে পারছিলাম না। চিৎকার আর বাঁচার আকুতি, গোঙানির শব্দই কেবল শুনতে পাচ্ছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত বেঁচে গেছি এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া’।

রাঙামাটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা বাস দুর্ঘটনায় আহত মো. কাউসার মিয়া (২০) বলছিলেন তাঁর বেঁচে ফেরার কথা।

শুধু তিনিই নন, তাকে বহনকারী পিকনিকের বাসটি উল্টে বাসের সহকারী নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল নয়টার দিকে রাঙামাটির সাপছড়িতে এঘটনা ঘটে। ফলে আনন্দ ভ্রমণের পরিবর্তে হাসপাতালের বেডেই ঠাঁই হয়েছে ২৭ শ্রমিক।

আহতরা চট্টগ্রাম নগরীর কর্ণফুলী এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন লিমিটেডের (কেইপিজেড) টেনডেক্স লিমিটেড নামের চায়না ফার্নিসার কারখানার শ্রমিক।

আহতদের মধ্যে ২৪ জনকে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত বাস হেলপারের নাম পরিচয় জানা যায়নি। এ ঘটনায় পলাতক রয়েছে বাসটির (চট্টগ্রাম ব-০৫-০০১৫) চালক।

মাথায় সেলাইপড়া ছাইদুল আলম (২৬) ও রুবিনা আক্তার (২০) চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, এই প্রথম তারা রাঙামাটিতে আসছিলেন। সকাল ৭টার দিকে তারা রাঙামাটির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। কিন্তু পাহাড়ি পথ সম্পর্কে চালক হয়তো ভালোভাবে জানেনা। সকাল ৯টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসটি ঢালুপথে মোড় নিতেই উল্টে যায়। মুহুর্তেই সবার শরীর ক্ষতবিক্ষত।

হাতে ও পায়ে আঘাত পাওয়া রাজু ও শামীম চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, বাসটির যাত্রীরা সবাই চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার নারিকেলতলা থেকে যাচ্ছিলেন। এতে ৬৫ জন যাত্রী ছিলেন।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক দুর্ঘটনাস্থল গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল পাঠান- পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন। পরে দুর্ঘটনায় কবলিত বাসটি উদ্ধার করা হয়।

রাঙামাটির ডিসি একেএম মামুনুর রশিদ, পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী আহতদের হাসপাতালে দেখতে গেছেন।

রাঙামাটি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শওকত আকবর চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে জানান, দুর্ঘটনায় আহত চিকিৎসা নিতে আসা ২৭ জনের নাম পাওয়া গেছে। তিনজনকে চমেকে পাঠানো হয়েছে উন্নত চিকিৎসার জন্য।

জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, নিহতের লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।


এসএইচ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন