ভারী বর্ষণে পটিয়ার ১০ ইউনিয়নে অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দি

চট্টগ্রামের পটিয়ায় অতি ভারী বর্ষণে এলাকা প্লাবিত হয়ে ১০টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলাখ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। বসতবাড়ি, কৃষিজমি, বীজতলা, কাঁচা সড়ক ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য ভেল্লাপাড়া স্লুইস গেট নিয়মিত খুলে রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্তরা।

বুধবার (৮ জুলাই) পটিয়ার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টানা কয়েক দিনের বর্ষণে কুসুমপুরা, জিরি, কোলাগাঁও, হাবিলাসদ্বীপ, বড়লিয়া, জঙ্গলখাইন, আশিয়া, কাশিয়াইশ, ছনহরা ও ভাটিখাইন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক গ্রামের কাঁচা সড়ক কাদায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে, কোথাও রাস্তার অংশ ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে। বাড়িঘরে পানি ঢুকে নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, বীজতলা ও আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে নতুন মৌসুমের চাষাবাদ বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে পুকুর ও জলাশয়ের মাছ ভেসে যাওয়ায় ক্ষুদ্র মৎস্যচাষীদের কয়েক মাসের বিনিয়োগ এক রাতেই শেষ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেক এলাকায় পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকদিনের বিরতিহীন বর্ষণে পটিয়ার নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। অনেক গ্রামের কাঁচা সড়ক কাদায় একেবারে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোথাও রান্নাঘরে পানি, কোথাও টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী, আবার কোথাও শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না।

কুসুমপুরা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শওকত আকবর বলেন, পশ্চিম পটিয়ার জলাবদ্ধতা এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ভেল্লাপাড়া স্লুইস গেট নিয়মিত খুলে রেখে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি ও সাধারণ মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, কৃষিজমি, বীজতলা, মাছের ঘের ও বসতবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত তালিকাভুক্ত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন বলে জানিয়েছে কুসুমপুরা ইউনিয়ন পরিষদ। উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলোর জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং পানি নিষ্কাশন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন ও কৃষক মৎস্যচাষীদের সহায়তায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এএইচ

ksrm