ভারত সীমান্তে নদীতে নিখোঁজ মিরসরাইয়ের কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ভারত সীমান্তে ফেনী নদীতে নিখোঁজ মো. জাহেদুল ইসলাম নামের এক কিশোরের লাশ ৩২ ঘণ্টা পর উদ্ধার হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) সকালে এলাকাবাসী নদীর পাশে ভাসমান অবস্থায় দেখে পুলিশে খবর দিলে তারা এসে লাশ উদ্ধার করে। এর আগে রোববার রাত ১০টায় উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত রেখার জিরো পয়েন্টের আমলীঘাট এলাকার মেরকুম নামক স্থানে নৌকা থেকে পড়ে নিখোঁজ হয় জাহেদুল।

জাহেদুল পূর্ব অলিনগর গ্রামের মো. ফারুক ইসলামের ছেলে।

এর আগে সোমবার (২৪ জুন) সকাল থেকে বারইয়ারহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ারম্যানরা অভিযান চালায়। পরে বিকাল সাড়ে ৩টায় উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস থেকে আসা তিন সদস্যের ডুবুরি দল। সন্ধ্যায় হয়ে যাওয়ায় তারা উদ্ধার অভিযান স্থগিত করে। মঙ্গলবার পুনরায় অভিযান শুরু করার কথা ছিল। তবে অভিযানের আগেই লাশ পাওয়া গেছে।

জাহিদের বাবা ফারুক ইসলাম বলেন, আমলীঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে প্রায় সময় চোরাইপথে চিনি আসে। সোমবার রাতে আমার ছেলেসহ আরও অনেকে চিনি আনতে গিয়েছিল। তখন বিএসএফের তাড়া খেয়ে সবাই চলে আসলেও আমার জাহিদ আসেনি। সে কানে কম শুনে এবং সাঁতার জানে না। মঙ্গলবার সকালে তার মরদেহ পাওয়া গেছে।

এদিকে স্থানীয়দের কাছে জানতে চাইলে তারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘করেরহাট ইউনিয়নের আমলীঘাট মেরকুম সীমান্ত দিয়ে প্রতি রাতে হাজার হাজার বস্তা চিনি চোরাইপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। আবার চিনির বস্তার ভেতর অনেক সময় ভারতীয় মদ এবং ফেনসিডিলও আনা হয়। এ কাজে এলাকার উঠতি বয়সি ছেলেদের প্রতি বস্তায় ২০০ টাকা দেওয়া হয়। এতে প্রত্যেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা বেশি রোজগার করে।

এ কাজে এলাকার কারা যুক্ত বা মূলহোতা কে জানতে চাওয়া হলে স্থানীয়রা তাদের নাম বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

বারইয়ারহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীন তিতাস বলেন, ফেনী নদীর আমলীঘাট সীমান্তে নিখোঁজ হওয়া যুবক উদ্ধারের জন্য সোমবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়েছে। বিকাল ৩টা থেকে চট্টগ্রাম থেকে আসা তিন জন ডুবুরিও অভিযানে অংশ নেয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে পুনরায় অভিযান আগে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, ফেনী নদীতে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল হলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!