ভারতে হারিয়ে যাওয়া চট্টগ্রামের সন্তোষ ফিরলেন ৭ বছর পর, সীমান্তের শূন্যরেখায় আবেগঘন দৃশ্য

0

সাত বছর আগে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে হঠাৎ হারিয়ে যান সন্তোষ দেব। এরপর তার আত্মীয়-স্বজনরা বহু জায়গায় খোঁজখবর করলেও তার খোঁজ আর পাননি। দীর্ঘ দিন পর সেই সন্তোষ দেব নিজ দেশে ফিরে এসে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় তার আত্মীয়স্বজনরাও আনন্দের কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এমন আবেগঘন দৃশ্য দেখে আপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত অনেকে।

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে আখাউড়া সীমান্ত চেকপোস্টে ভারতে আটকেপড়া পাঁচ বাংলাদেশিকে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হল।
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে আখাউড়া সীমান্ত চেকপোস্টে ভারতে আটকেপড়া পাঁচ বাংলাদেশিকে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হল।

শুক্রবার (১ এপ্রিল) দুপুরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে আখাউড়া সীমান্ত চেকপোস্ট এ দৃশ্য দেখা গেল। তবে এইদিন শুধু রাঙ্গুনিয়ার সন্তোষ দেবই নয়, ভারতে আটকেপড়া আরও চার বাংলাদেশিকে ত্রিপুরার বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশন তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছে।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মনিন্দ্র লাল দেবের ছেলে সন্তোষ দেব ছাড়াও ভারত থেকে ফেরত আসা অন্য চার বাংলাদেশি হলেন—নারায়ণগঞ্জের খালেক সর্দারের ছেলে বিজয় চুমু, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের মৃত কামাল বেপারীর মেয়ে ময়না বেগম, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী এলাকার আফাজ উদ্দিন মৃধার মেয়ে রোজিনা বেগম ও কুমিল্লা চান্দিনার খালেক মিয়ার মেয়ে কুলসুম বেগম। এরা প্রত্যেকেই ৫ বছর থেকে ১০ বছর পর্যন্ত ভারতে আটকা ছিলেন।

ভারত থেকে ফেরত আসা চট্টগ্রামের বাসিন্দা সন্তোষ দেবের ছেলে অন্তু দেব বলেন, তার বাবা সন্তোষ দেব প্রায় ৭ বছর আগে হঠাৎ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। প্রথমে তারা ভেবেছিলেন তিনি হয়তো তাদের কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেছেন। কিন্তু যখন সময় গড়িয়ে যাচ্ছে, বাবার আর বাড়ি ফেরার নাম নেই। পরে আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর করা হয়। এতেও কোনো ফল মেলেনি। পরে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারেন তার বাবা ভারতে আছে। এতোদিন পর বাবাকে ফিরে পেয়ে খুব আনন্দ লাগছে অন্তু দেবের।

৭ বছর আগে বাবাকে হঠাৎ হারিয়ে ফেলা অন্তু দেব এখন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সাত বছর পর বাবাকে ফিরে পেয়ে দারুণ আবেগাপ্লুত অন্তু দেব।

ভারত ফেরত কুমিল্লা চান্দিনার কুলসুম বেগমের ভাই আবুল বাশার বলেন, তার বোন কুলসুম বেগম ২০১৪ সালে হঠাৎ করে স্বামীর বাড়ি কুমিল্লার দুর্গাপুর থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। অনেক পরে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারেন কুলসুম বেগম ভারতের আগরতলায় আছে। কিন্তু কীভাবে গেল তারা বুঝতে পারেননি।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী এলাকার আফাজ উদ্দিন মৃধার মেয়ে রোজিনা বেগমের ভাই সাহাব উদ্দিন বলেন, আজ থেকে প্রায় ১২ বছর আগে তার বোন নিখোঁজ হন। খোঁজ খবর করে কোন সন্ধান না পাওয়ায় আমরা ধরেই নিয়েছি হয়তো আর বেঁচে নেই। গত এক বছর আগে জানতে পারি তার বোন ভারতে আছে।

ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনার আরিফ মোহাম্মদ সাংবাদিকদের বলেন, পাঁচ বাংলাদেশিই মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ত্রিপুরায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হতে আটক হন। পরে আদালতের নির্দেশে আগরতলার মডার্ন সাইক্রিয়াটিক হাসপাতালে তারা চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে তারা কিভাবে ভারতে এসেছেন সে ব্যাপারে কিছুই বলতে পারেনি। এদের অনেকেই এই হাসপাতালে চার থেকে পাঁচ বছর বা আরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ার পর তাদেরকে দেশে ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই হাসপাতালে আরও বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন আছেন। পর্যায়ক্রমে তাদেরকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

ত্রিপুরায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনারের সহযোগিতায় ওই ৫ জনকে বাংলাদেশে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে আখাউড়া স্থলবন্দরের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে তাদেরকে ভারত থেকে দেওয়ার সময় ভারতের ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশ সহকারী কমিশনার কার্যালয়ের হাই কমিশনার আরিফ মোহাম্মদ প্রথম সচিব মো. রেজাউল হক, প্রথম সচিব ও দূতালয় প্রধান এসএম আসাদুজ্জামান, আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইফুল ইসলাম, বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মসূচি প্রধান শরিফুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক সৈয়দ খায়রুল আলম, ইমিগ্রেশন পুলিশ ইনচার্জ সাব ইন্সপেক্টর আবু বক্কর উপস্থিত ছিলেন।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm