ভারতের ঋণের টাকায় চট্টগ্রামের সড়কে বসবে এলইডি বাতি

২১৪ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে ভারত সরকার

২৬০ কোটি টাকা খরচায় চট্টগ্রাম নগরের ৪৬০ কি.মি সড়কে এলইডি লাইট লাগাবে সিটি কর্পোরেশন। প্রকল্পে ২০ হাজার ৬০০ এলইডি বাতি, ২০ হাজার ২৬৭টি জিআই পোল এবং ৫০৭ কন্ট্রোল সুইচ বক্স বসানো হবে। কিন্তু বাতিগুলো ৫০০ সুইচের বদলে চারটি কেন্দ্রীয় সার্ভার স্টেশনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এর ফলে প্রকল্পটির বাস্তবায়িত হলে সিটি কর্পোরেশনের প্রায় ১২ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ২১৪ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে ভারত সরকার। বাকি অর্থ সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে দেওয়া হবে। এটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি বাতি লাগানোর প্রকল্প। ইতোমধ্যে সড়কে খুঁটি বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।

ভারতের ঋণের টাকায় চট্টগ্রামের সড়কে বসবে এলইডি বাতি 1

শনিবার (৬ জুলাই) নগরীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এবং ভারতীয় কোম্পানী শাপার্জি পালনজি অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষে জেনারেল ম্যানেজার নিরাজ কুমার এ প্রকল্পের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন৷

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৯ জুলাই একনেক সভায় এ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম মহানগরীর ৪১ ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়কজুড়ে এলইডি লাইট লাগানোর এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারত সরকার ঋণ দিচ্ছে ২১৪ কোটি ৪৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা এবং সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে দেওয়া হচ্ছে ৪৬ কোটি ৪৩ লাখ ৫ হাজার টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়িত হলে সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ বিল কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে বলে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডের মিয়াখান সওদাগর পোল থেকে ইসহাক সওদাগর পোল পর্যন্ত সড়কের একপাশে এলইডি লাইট স্থাপনের জন্য খুঁটি বসানোর কাজ শুরু করা হয়েছে।

প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী, সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ৫ ফুটের বেশি প্রশস্থতার ১০ কিলোমিটার সড়ক এলইডি বাতির আওতায় আসবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এ বাতি পাঁচ বছর পর্যন্ত জিরো রক্ষাণাবেক্ষণ খরচে চলবে। ওয়ার্ডগুলোতে ৪০, ৬০, ১০০ এবং ২৫০ ওয়াটের মোট ২০ হাজার ৬০০ এলইডি বাতি, ২০ হাজার ২৬৭ জিআই পোল এবং ৫০৭ কন্ট্রোল সুইচ বক্স বসানো হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বিদ্যুৎ বিল কমে যাওয়াসহ বাতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয়ভাবে চারটি সার্ভার স্টেশন স্থাপন করা হবে। এছাড়া হাইড্রোলিক বিম লিফটার ও ইলেকট্রিক্যাল ইক্যুপমেন্ট সংগ্রহ করা এতে প্রায় ১২ লাখ টাকারও বেশি সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এমপি বলেন, ভারতের সহায়তায় এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামবাসী আলোকিত চট্টগ্রাম পাবে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে সহায়ক হবে এ প্রকল্প।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৪৬০ কি.মি. সড়কের আলোকায়ন হতে যাচ্ছে—যা পরিবেশ বান্ধব, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, টেকসই ও কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। এটি বাস্তবায়নের পর চট্টগ্রামের কোন অলি-গলি আলোকায়নের বাইরে থাকবে না।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই-কমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের পাশে ছিল ভারত। বর্তমানে বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারতের ভূমিকার টোকেন অফ ফ্রেন্ডশিপ হিসেবে কাজ করবে এ প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধবভাবে চট্টগ্রামকে আলোকিত করা সম্ভব হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান প্রকল্পের সফলতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আবদুচ ছালাম, সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল, বিভাগীয় কমিশনার তোফায়েল ইসলাম, ডিআইজি নূরে আলম মিনা, পুলিশ কমিশনার উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম, সিডিএ’র চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুছ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ, ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি ওমর হাজ্জাজসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেযর, কাউন্সিলর, সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রকল্প পরিচালক ঝুলন কুমার দাশসহ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিএস/ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!