ব্রাশফায়ারে ইউপিডিএফ’র দুই কর্মী খুন লংগদুতে, ২০ মে অবরোধের ডাক

পাহাড়ে আঞ্চলিক দলের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাঙামাটির লংগদুতে ব্রাশফায়ারে পার্বত্য চুক্তিবিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) দুই সক্রিয় কর্মীকে খুন করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ মে) সকালে লংগদু’র বড় হাড়িকাবার ভালেদি হাট এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

নিহতরা হলেন বিদ্যাধন চাকমা ওরফে তিলক চাকমা (৫০) ও ধন্যমনি চাকমা (৩৫)। বিদ্যাধন চাকমা লংগদুর কুকিছড়া গ্রামের সময় মনি চাকমার ছেলে। ধন্যমনি চাকমা ধুধুকছড়ার বড় হাড়িকাবা গ্রামের লেংগ্যা চাকমার ছেলে।

ইউপিডিএফ’র রাঙামাটি জেলা ইউনিটের সংগঠক সচল চাকমা দুই সদস্য খুনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারুফ আহম্মেদ জানান, ঘটনাটি অবহিত হওয়ার পর মরদেহ উদ্ধারে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম যায়। লংগদু থানার ওসিও ঘটনাস্থলে আছেন। পরে বিস্তারিত জানা যাবে।

সচল চাকমা জানান, সকাল সাড়ে ৮টার সময় লংগদুর বড়হাড়িকাবার ভালেদি ঘাটের পাশে সন্তু গ্রুপের ৭ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী এসে সেখানে সাংগঠনিক কাজে নিয়োজিত ইউপিডিএফ কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ঘটনাস্থলে ইউপিডিএফ সদস্য বিদ্যাধন চাকমা ওরফে তিলক চাকমা ও সমর্থক ধন্যমনি চাকমা নিহত হন।

ইউপিডিএফ’র পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এই হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্বে ছিল পোয়া চাকমা ওরফে আপন (৩২)। তার বাড়ি বড় হাড়িকাবার পাশে কুট্টছড়ি গ্রামে এবং সে লক্ষ্মী মনি চাকমার ছেলে। পোয়া চাকমা সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের সক্রিয় সন্ত্রাসী।

বিবৃতিতে সচল চাকমা অবিলম্বে লংগদুতে ইউপিডিএফ কর্মী, সমর্থক হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং খুনী সন্ত্রাসীদের মদদদাতা সন্তু লারমাকে গ্রেফতার করার দাবি জানায়। একইসঙ্গে আঞ্চলিক পরিষদ থেকে তাকে অপসারণ করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবিও জানায়।

২০ মে অবরোধের ডাক

এদিকে ইউপিডিএফের এক সদস্য ও এক সমর্থককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে এবং খুনিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে রাঙামাটির সদর উপজেলার কুদুকছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে।

শনিবার বিকাল ৪টায় টায় অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে লংগদু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ২০ মে রাঙামাটি জেলায় অর্ধদিবস (ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১২টা) সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সমাবেশে ইউপিডিএফ সংগঠক বাবলু চাকমার সভাপতিত্বে ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের রাঙামাটি জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক নিশি চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক নিকন চাকমা ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ধর্মশিং চাকমা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রামের শাসন বিধি (১৯০০ সালের রেগুলেশন) বাতিল করার প্রচেষ্টার প্রতিবাদে ইউপিডিএফ যখন আন্দোলন গড়ে তুলেছে, ঠিক সে সময় সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সন্তু লারমা তার সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দিয়ে লংগদুতে ইউপিডিএফ কর্মী বিদ্যাধন চাকমা ও সমর্থক ধন্যমনি চাকমাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে।

সন্তু লারমা জুম্মো জনগণের স্বার্থের বিপরীতে গিয়ে সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন মন্তব্য করে বক্তারা বলেন, ‘৯৭ সালে চুক্তির নামে সন্তু লারমা জনগণের সঙ্গে বেঈমানি করেছেন। এখন জনগণের পক্ষে যারা আন্দোলন করছেন, তাদেরকে হত্যা করে সরকার-রাষ্ট্রীয় বাহিনীর এজেন্ডা বাস্তাবায়ন করছেন।’

সমাবেশ থেকে ইউপিডিএফ সংগঠক বাবলু চাকমা ২০ মে জেলায় ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্ধদিবস সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। অবরোধ সফল করতে জেলাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!