ব্যাংক লকারের ১৪৯ ভরি স্বর্ণ কে সরালো, রহস্যের পর রহস্য

ক্ষতিপূরণ মিলবে মোটে ২ লাখ টাকা!

চট্টগ্রামের চকবাজারে ইসলামী ব্যাংকের লকার থেকে এক গ্রাহকের ১৪৯ ভরি স্বর্ণ চুরি যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। খোয়া যাওয়া স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রায় দেড় কোটি টাকা। স্বর্ণ চুরির ঘটনায় ব্যাংকটির কর্মকর্তা জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। যদিও লকার রুমটিতে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। এদিকে থানায় এ নিয়ে জিডি করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ মিলেছে।

এই ঘটনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, এ রকম কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে গ্রাহক ইন্স্যুরেন্স কাভারেজ হিসেবে এক থেকে তিন লাখ টাকা পাবেন।

ইসলামী ব্যাংক চকবাজার শাখার ভুক্তভোগী ওই গ্রাহকের নাম রোকেয়া আক্তার বারী। তিনি নগরীর চট্টেশ্বরী এলাকার বেভারলি হিলসের বাসিন্দা। গত ১৭ বছর ধরে তিনি ইসলামী ব্যাংকের চকবাজার শাখায় লকার ব্যবহার ও একাউন্ট পরিচালনা করে আসছেন।

তিনি বলেন, গত বুধবার (২৯ মে) দুপুর দেড়টার দিকে কিছু স্বর্ণালংকার আনতে ব্যাংকে যাই। সেখানে লকারের দায়িত্বে থাকা অফিসারকে লকার খুলে দিতে অনুরোধ করি। কিন্তু লকার কক্ষের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ওই অফিসার আমার লকার খোলা দেখতে পান। এমন ঘটনা দেখে আমি হতভম্ব হয়ে পড়ি।’

লকার থেকে গায়েব হওয়া ১৪৯ ভরি স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে ৬০ ভরি ওজনের ৪০ পিস বড় সাইজের হাতের চুড়ি, ২৫ ভরি ওজনের গলা ও কানের চার জোড়া অলংকার, ১০ ভরি ওজনের একটি গলার চেইন, ২৮ ভরি ওজনের সাতটি চেইন, ১৫ ভরি ওজনের চারটি আংটি এবং ১১ ভরি ওজনের ৩০ জোড়া কানের দুল। খোয়া যাওয়া স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রায় দেড় কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন রোকেয়া আক্তার।

রোকেয়া বারী আরও বলেন, ব্যাংক থেকে জানানো হয়েছে এই ঘটনা তারা তদন্ত করবে। এ বিষয়ে এক সপ্তাহ পরে জানাবে।

চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়ালি উদ্দীন আকবর রোকেয়া বেগমকে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন— এমন কথা জানিয়ে বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি নিজে ব্যাংকে গিয়েছিলাম। লকার খোলা দেখতে পেয়েছি। ভুক্তভোগীকে মামলা করতে বললেও এখনও তিনি মামলা করেননি।’

তবে রোকেয়া আক্তার বলছেন, ‘এই ঘটনায় চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। থানায় মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয় পুলিশ। এখন তারা আদালতের মাধ্যমে মামলা করবেন। আমাদের চাওয়া স্বর্ণ ফেরত অথবা স্বর্ণের ক্ষতিপূরণ বাবদ সমপরিমাণ অর্থ।’

এই বিষয়ে জানতে ব্যাংকটির চকবাজার শাখার প্রধান এএম শফিকুল মাওলা চৌধুরী বলেন, ‘ভুক্তভোগী গ্রাহকের অভিযোগটি অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৩ জুন) তদন্তের অগ্রগতি ভুক্তভোগী গ্রাহককে জানানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, একজন গ্রাহক লকারের ভেতরে কী রাখছেন, তার কোনো রেকর্ড রাখা হয় না। শুধুমাত্র আগ্নেয়াস্ত্র ও দাহ্য পদার্থ না রাখার ব্যপারে একটি লিখিত নিশ্চয়তাপত্র নেওয়া হয়।’

ব্যাংকটির চকবাজার শাখার প্রধান বলেন, এ রকম কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে ভুক্তভোগী গ্রাহক ইন্স্যুরেন্স কাভারেজ পেয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে ছোট লকারের জন্য ১ লাখ টাকা, মাঝারি লকারের জন্য ২ লাখ টাকা ও বড় লকারের জন্য তিন লাখ টাকা পাবেন গ্রাহক।

এ হিসেবে মাঝারি আকারের লকার ব্যবহার করায় ভুক্তভোগী গ্রাহক রোকেয়া বারী দেড় কোটি টাকা মূল্যের দেড়শ ভরি স্বর্ণ খুইয়ে পাবেন মাত্র দুই লাখ টাকা!

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!