বোয়ালখালীর ফ্যাক্টরিতে চোর সাজিয়ে বোবা যুবককে পিটিয়ে হত্যা, ভিডিও ছড়াতেই ক্ষোভ

বিসমিল্লাহ ফেব্রিক্সের তিনজনকে ধরেছে পুলিশ

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে একটি ফেব্রিক্স কারখানায় চুরির অপবাদ দিয়ে বাকপ্রতিবন্ধী যুবক হাসমত আলীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ভোর রাতে কারখানায় আটক করার পর তাঁকে বেধড়ক মারধর, হাত-পা বেঁধে দীর্ঘ সময় ফেলে রাখা এবং চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে কারখানার তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ বিসমিল্লাহ ফেব্রিক্স ফ্যাক্টরির এইচআর ম্যানেজার মোশারফ হোসেন, জেনারেল অ্যাডমিন মনিরুল ইসলাম ও সিকিউরিটি শিফট ইনচার্জ আমির হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে।
হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ বিসমিল্লাহ ফেব্রিক্স ফ্যাক্টরির এইচআর ম্যানেজার মোশারফ হোসেন, জেনারেল অ্যাডমিন মনিরুল ইসলাম ও সিকিউরিটি শিফট ইনচার্জ আমির হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিহত হাসমত আলী পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের লাকুরা কালারপুল এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইয়াকুব আলীর ছেলে। তিনি বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। তারা হলো জিহাদ (১০), নিহাত (৮) ও ফাহাদ (৪)।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর রাতে বোয়ালখালীর বিসমিল্লাহ ফেব্রিক্স ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করলে হাসমত আলীকে আটক করা হয়। এরপর তাঁকে চুরির অভিযোগে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতনের একপর্যায়ে আহত অবস্থায় তাঁর হাত-পা বেঁধে দীর্ঘ সময় ফেলে রাখা হয়। তাঁকে কোনো ধরনের প্রাথমিক চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি।

ঘটনাটি ভোর রাতে ঘটলেও দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসমত আলীকে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের মা মাজমা বেগম বাদী হয়ে বোয়ালখালী থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় ফ্যাক্টরির কর্মকর্তাসহ ১০ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি এবং আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, হাসমত আলীর ওপর নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বিসমিল্লাহ ফেব্রিক্স ফ্যাক্টরির এইচআর ম্যানেজার মো. মোশারফ হোসেন, জেনারেল অ্যাডমিন হাফেজ মো. মনিরুল ইসলাম ও সিকিউরিটি শিফট ইনচার্জ আমির হোসেন।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাফুজুর রহমান বলেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ksrm