বোয়ালখালীতে কবিয়াল রমেশ শীলের জন্মতিথিতে নানান আয়োজন

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে বাংলার লোকসংস্কৃতির উজ্জ্বল নক্ষত্র, প্রখ্যাত বাউল ও কবিয়াল রমেশ শীলের ১৪৯তম জন্মোৎসব উদযাপিত হচ্ছে। চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর পূর্ব গোমদণ্ডীতে কবির সমাধিস্থল ও বাড়ির প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন করা হয়।

শনিবার (৯ মে) সকাল ৯টায় কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর দিনব্যাপী চলে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। কবির লেখা ও সুরে পরিবেশিত গান এবং লোকসঙ্গীতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।

বেলা সাড়ে ১২টার সময় শুরু হয় আলোচনা সভা, স্মরণসভা ও গুণীজন সংবর্ধনা। রমেশ শীল ট্রাস্টের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মানস চৌধুরীর সার্বিক তত্বাবধানে জন্মবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অ্যডভোকেট প্রকৃতি চৌধুরী ছোটনের সভাপতিত্বে মঞ্চে উপস্থিত অতিথিদের ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে বরণ করে নেন আয়োজক কমিটি।

জন্মবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের সদস্য শিক্ষক ও সাংবাদিক প্রলয় চৌধুরী মুক্তির সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভাইস চেয়ারম্যান তপন মজুমদার।

প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাংবাদিক মুস্তফা নঈম।

অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি ড. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, মাইজভাণ্ডারী গবেষক ড. সেলিম জাহাঙ্গীর, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক রিংকু শর্মা, লেখক-লোকসংস্কৃতি গবেষক মনিরুল মনির, কবি-গবেষক ও দৈনিক বিজনেস ফাইলের ম্যানেজিং এডিটর শিব শংকর মোদক, রমেশ ট্রাস্টের সম্পাদক মৃণাল শীল ও জন্মবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব প্রকৌশলী রানা শীল মাইকেল।

স্মরণসভায় মহান এ কবির স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য আয়োজক কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তপন মজুমদার বলেন, ভবিষ্যতে উনার যে কোনো অনুষ্ঠানে আমার উপস্থিতি যদি এ স্মৃতিকে ধরে রাখার ক্ষেত্রে আরও বেগবান হয় তাহলে নিজেকে ধন্য মনে করবো।

তিনি আরও বলেন, আমরা ধর্মের কাহিনী কর্ম জীবনে আমরা প্রয়োগ করি না। আর ধর্মের মধ্যে যে মানবিকতা আছে, মূল্যবোধ আছে তাও আমরা মূল্যায়ন করি না। সেখানে কবিয়াল রমেশ শীল আমাদের মাইজভান্ডারীর উত্তরসূরির মত কাজ করেছেন।

কবিয়াল রমেশ শীল ছিলেন অসাম্প্রদায়িক। আর তাই তিনি একজন হিন্দু হয়েও আজ উনার মাজার শরীফ হয়ে গেছে। আমি আনন্দিত এবং গর্বিত। ধর্মের বেরী অতিক্রম করে উনাকে এখানে সমাধিস্থ করা হয়েছে।

অতিথিরা বলেন, উপমহাদেশের প্রখ্যাত কবিয়াল, বাউল ও লোকসংস্কৃতির সাধক রমেশ শীল বাংলা লোকসংগীতের এক অনন্য নাম। তাঁর গান, দর্শন ও জীবনচেতনা আজও বাংলা লোকসংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।

৯ মে দিনব্যাপী কবিগান, মাইজভাণ্ডারী সংগীত ও আধ্যাত্মিক গানে মুখর থাকে কবির সমাধিস্থল। সন্ধ্যায় দেশবরেণ্য শিল্পীদের অংশ গ্রহণে গানে গানে কবিকে স্মরণ করার মধ্যদিয়ে প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

রোববার (১০ মে) দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানমালায় রয়েছে আলোচনা সভা এবং সমাপনী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ। অতিথি থাকবেন অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অদুল কান্তি চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

ksrm