আক্রান্ত
১৪৪৮৯
সুস্থ
২৪৮৩
মৃত্যু
২৩৩

বেতনের দাবিতে আগ্রাবাদের তারকা হোটেলে তালা ঝুলিয়ে দিল অসহায় কর্মচারীরা

0

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের তারকা হোটেল বেস্ট ওয়েস্টার্নে মাসের পর মাস ধরে বেতন নেই। এমনকি খুব অল্প বেতনে চাকরি করেন— মাসের পর ঘোরানো হচ্ছে এসব কর্মীদেরও। অভাবে-অনটনে এক বেলা খাবার জোগাড় করতেই এদের অবস্থা করুণ থেকে করুণতর হয়ে উঠেছে। গড়ে সবারই সর্বনিম্ন চার মাস ধরে বেতন নেই। অথচ দিনে নয় ঘন্টারও বেশি সময় এদের চাকরি করতে হয়েছে।

শেষপর্যন্ত দেয়ালে যখন পিঠ ঠেকে গেল, বকেয়া বেতনের দাবিতে বেশভূষায় তারকা এই হোটেলে তালা মেরে দিয়েছে কর্মচারীরা। করোনায় উদ্ভুত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রোববার (৫ জুলাই) সকাল থেকে কর্মচারীরা হোটেলের সামনে ‘আমাদের বেতন দিন, আমাদের বাঁচান, বেতন চাই দিবে হবে’— এ ধরনের নানা শ্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থান ধর্মঘটে অংশ নেন।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ২০ তলা একটি ভবন ভাড়া নিয়ে যাত্রা শুরু করে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের হোটেল ‘বেস্ট ওয়েস্টার্ন’। চার তারকা মানের এই হোটেলের চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মামুন উর রহমান। শাহ আলম লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল ডিস্টিক্ট ৩১৫-বি৪ এর সাবেক গভর্নর। অন্যদিকে এমডি মামুন আগ্রাবাদের অ্যামব্রোশিয়া নামের আরেকটি রেস্টুরেন্ট ও ওআর নিজাম রোডের অ্যামবেসেডর হোটেলেরও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এই প্রতিষ্ঠান দুটিতেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া রয়েছে বলে জানা গেছে।

আগ্রাবাদের বেস্ট ওয়েস্টার্ন হোটেলে মাত্র ৮ হাজার টাকায় বেল বয়ের চাকরি করেন আকাশ মিত্র। আকাশের মত আরো অনেকে দৈনিক ৯ ঘন্টা চাকরি করেও বেতন চার মাস ধরে বেতন পাননি। চাকরি বাঁচাতে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে সংসার চালিয়েও কষ্ট করে চাকরি চালিয়ে যান তারা। হেটেল কর্তৃপক্ষকে বেতনের কথা বললেই ‘করোনায় ব্যবসা মন্দা’, ‘দিচ্ছি-দেব’ জাতীয় আশ্বাসই শুধু মিলে আসছে সেই শুরু থেকে।

হোটেলে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অন্তত ১০ কর্মচারী বেতনের জন্য দিনের পর দিন ধরনা দিলেও প্রতিবারই নানা বাহানা দিয়ে তাদের ঘোরাতে থাকেন হোটেলটির এমডি মামুন উর রহমান। অল্প বেতনের এসব কর্মচারী মাসের পর মাস হোটেলে গিয়েও দেখা পান না এমডির। ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও মেলে কেবল মিথ্যা আশ্বাস।

জানা গেছে, গত মে মাসে লকডাউনের মধ্যে ঈদ চলে আসলে কর্মচারীরা এমডি মামুন উর রহমানকে অন্তত বেতনের কিছু টাকা দিতে বললেও তাদের কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে মে মাসে এসে তাদের বলা হল বাধ্যতামূলক ছাঁটাইয়ের কথা। অবশেষে চার মাস বেতন না পেয়ে রোববার (৫ জুলাই) সকাল থেকে নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড নিয়ে হোটেলের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন শুরু করে কর্মচারীরা। তাদের দাবি, তারা বেতন না নিয়ে হোটেলের সামনে থেকে সরবে না।

জানা গেছে, কথা বলার জন্য ‘বেস্ট ওয়েস্টার্ন’ হোটেলের কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে ভেতরে যেতে চাইলেও হোটেল ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় তাদের। পরে আন্দোলনকারীরা হোটেল ভবনের মূল ফটকে তালা মেরে দেয়। এতে ভবনের অন্যান্য অফিসের কর্মকর্তারা বিপাকে পড়ে যান। বিকেল তিনটার দিকে ডবলমুরিং থানার একটি দল ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনকারী ও হোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠকে করেন। বৈঠকে তাদের আগামীকাল বেতন দেবে বললেও তারা রোববারের মধ্যেই বেতনের দাবিতে অনড়।

এ ব্যাপারে ডবলমুরিং থানার এস আই শরীফ বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা হোটেলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখেছি। বেতন নিয়ে কর্মচারীদের সাথে হোটেল কর্তৃপক্ষের বৈঠক হয়েছে।’

আগ্রাবাদের বেস্ট ওয়েস্টার্ন অ্যালায়েন্স হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন উর রহমান বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতির কারণে আমরা ঠিকমত বেতন দিতে পারিনি। অনেকের বেতন দিয়েছি বাকিদের আস্তে আস্তে দেবো।’

গত ঈদেও তো তাদের এক টাকা বেতন দেননি— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নিরুত্তর থাকেন।

কর্মচারীদের আজকের (রোববার) মধ্যে বেতন পরিশোধের দাবির ব্যাপারে জানতে চাইলে মামুন উর রহমান বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে জানি না, যারা বলছেন তারা জানেন।’

সিএম/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ManaratResponsive

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm