চট্টগ্রামের হাটহাজারীর উরকিরচরের একটি গ্রাম থেকে শুরু হওয়া পথচলা গিয়ে থেমেছে বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলে। সম্প্রতি গুগলের লন্ডন অফিসে ‘সাইট রিলায়াবিলিটি ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে যোগ দিয়েছেন চট্টগ্রামের তরুণ সাকিব আবরার। সেখানে তিনি ‘কম্পিউট ইঞ্জিন’ নিয়ে কাজ করবেন, যার মূল ফোকাস থাকবে ‘এআই ওয়ার্কলোডস’।
প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে কেন্দ্র করে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর যেমন আলোচনায় রয়েছে, তেমনি এআইভিত্তিক বিভিন্ন বিভাগে নতুন জনবলও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি তরুণের সঙ্গে গুগলে যোগ দিয়েছেন সাকিব আবরার।
সাকিবের পথচলার শুরুটা ছিল সংগ্রামের। চট্টগ্রামের হাটহাজারীর উরকিরচরের পৈতৃক বাড়ির এলাকায় অধিকাংশ তরুণের লক্ষ্য ছিল বড় হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমানো। তবে লেখাপড়ার গুরুত্বে বিশ্বাসী তার মা দুই ছেলেকে নিয়ে চলে আসেন চট্টগ্রাম শহরে। সে সময় তার বাবা কর্মসূত্রে মধ্যপ্রাচ্যে ছিলেন।
চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে সাকিব ভর্তি হন চট্টগ্রাম কলেজে। একই বছর তার বড় ভাই রিয়াদ আশরাফ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। দুই বছর পর সাকিবও বড় ভাইয়ের পথ অনুসরণ করে একই বিভাগে ভর্তি হন।
গত ২৭ জুন স্ত্রী সায়মা সরোয়ার পিয়াকে নিয়ে গুগলের লন্ডন অফিসে যোগ দিতে যুক্তরাজ্যে যান সাকিব। সায়মা সরোয়ার পিয়া চট্টগ্রামের মেয়ে এবং বুয়েটের আর্কিটেকচার বিভাগের স্নাতক।
গুগলে যোগ দেওয়ার আগে সাকিব দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সুপার অ্যাপ হিসেবে পরিচিত গ্র্যাবে সিনিয়র ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান অপটিমাইজলিতে প্রায় সাড়ে তিন বছর কাজ করেন। সেখানে সর্বশেষ তিনি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং-২ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
বুয়েট থেকে স্নাতক শেষ করার পর তিনি ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে কনটেস্ট প্রোগ্রামিং ট্রেইনার হিসেবে কাজ শুরু করেন। প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার কারণে বিশ্বখ্যাত কম্পিটিটিভ প্রোগ্রামিং প্ল্যাটফর্ম কোডশেফের ‘প্রবলেমসেট ট্রান্সলেটর’ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
চট্টগ্রাম কলেজের করিডোর থেকে গুগলের লন্ডন অফিস পর্যন্ত সাকিব আবরারের এই যাত্রা তার মেধা, পরিশ্রম ও ধারাবাহিক অধ্যবসায়ের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
এমএহক




