বিশ্ব রেকর্ডের ‘হ্যাটট্রিক’ সাতকানিয়ার ছেলে পণ্ডিত সুদর্শনের

0

বিশ্বরেকর্ডের নেশায় ধরেছে চট্টগ্রামের সন্তান, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তরুণ পণ্ডিত সুদর্শন দাশকে। একের পর এক গড়ছেন রেকর্ড। এরই মধ্যে তার হয়ে গেছে তিনটি বিশ্বরেকর্ড। এবার গড়লেন আরও একটি নতুন বিশ্বরেকর্ড।

১৪০ ঘন্টার বেশি সময় ধরে ড্রাম সেট বাজিয়ে চতুর্থ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের মালিক হলেন তিনি। সোমবার (১৫ জুলাই) থেকে লন্ডনের ‘লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমি‘তে মিউজিকের সঙ্গে বিরামহীনভাবে টানা ৬ দিন ড্রাম বাজিয়ে ১৪০ ঘন্টার রেকর্ড গড়েছেন সুদর্শন।

২০১৫ সালে স্টিভ গউল নামে এক ব্যক্তি ১৩৪ ঘন্টা ৫ মিনিট ড্রামসেট বাজিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। এবার সেই রেকর্ডটি হাতিয়ে নিলেন পণ্ডিত সুদর্শন। নিয়ম অনুযায়ী ঘন্টায় পাঁচ মিনিট বিরতি পেয়েছেন সুদর্শন। পুরো প্রক্রিয়াটি দুটি ক্যামেরায় রেকর্ড করা হয়েছে।

দ্বিতীয় রেকর্ড ‘লংগেস্ট ঢোল ম্যারাথন’ করতে বাজান টানা ২৭ ঘন্টা।
দ্বিতীয় রেকর্ড ‘লংগেস্ট ঢোল ম্যারাথন’ করতে বাজান টানা ২৭ ঘন্টা।

সুদর্শন দাশের পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নে। তার বাবা অমূল্য রঞ্জন দাশ ও মা বুলবুল রাণী দাশ।

এর আগে তিনি তার প্রথম রেকর্ড ‘লংগেস্ট তবলা ম্যারাথন’-এ বাজিয়েছেন টানা ৫৫৭ ঘন্টা ১১ মিনিট। ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে টানা ২৫ দিন তবলা বাজান সুদর্শন।

দ্বিতীয় রেকর্ড ‘লংগেস্ট ঢোল ম্যারাথন’ করতে বাজান টানা ২৭ ঘন্টা। ২০১৭ সালে পূর্ব লন্ডনের মেনর পার্ক এলাকার শিভা মুনেতা সঙ্গম হলে ২০ জুন সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরের দিন রাত ১০টা পর্যন্ত ২৫টি সুরের তালে টানা ঢোল বাজান সুদর্শন। প্রতিটি সুর, গান, মিউজিক ও টাইমিং সবকিছু মিলিয়ে দেখে নিশ্চিত হয়ে তাকে সনদ দেয় গিনেস কর্তৃপক্ষ।

তৃতীয় রেকর্ড ‘লংগেস্ট ইনডিভিজুয়্যাল ড্রামরোল’ এর জন্য বাজান টানা ১৪ ঘন্টা।
তৃতীয় রেকর্ড ‘লংগেস্ট ইনডিভিজুয়্যাল ড্রামরোল’ এর জন্য বাজান টানা ১৪ ঘন্টা।

তৃতীয় রেকর্ড ‘লংগেস্ট ইনডিভিজুয়্যাল ড্রামরোল’ এর জন্য বাজান টানা ১৪ ঘন্টা। গত বছরের ৪ জুলাই সন্ধ্যা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত পূর্ব লন্ডনের কমার্শিয়াল রোডের লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমি মিলনায়তনে টানা ১৪ ঘণ্টা ড্রাম বাজান তিনি।

পণ্ডিত সুদর্শন যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনের তবলা অ্যান্ড ঢোল একাডেমির অধ্যক্ষ। তার প্রতিষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা বাদ্যযন্ত্রে তাল তোলার কসরত শেখেন। পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহ্যাম এবং রেড ব্রিজ কাউন্সিলের অধীনে তিনি স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ‘মিউজিক ইন্সপেক্টর’ হিসেবে কাজ করেন।

পণ্ডিত সুদর্শন এবারের চ্যালেঞ্জটি উৎসর্গ করেছেন শরণার্থী শিশুদের। তিনি অনাথ শিশুদের জন্য তিন হাজার পাউন্ড (প্রায় ৩ লাখ টাকা) সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। সংগৃহীত অর্থ জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউনিসেফকে দেওয়া হবে।

চট্টগ্রামের আলাউদ্দিন ললিতকলা একাডেমিতে সুদর্শনের তবলায় হাতেখড়ি হয় চার বছর বয়সে। ১৯৯০ সালে ফুলকুঁড়ি আয়োজিত এক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক পাওয়ার দুই বছরের মাথায় শান্তিনিকেতনে যান পণ্ডিত বিজন বিহারি চ্যাটার্জির কাছে প্রশিক্ষণ নিতে। সেখানেই ১৯৯৮ সালে মেলে ‘তবলাবিশারদ’ উপাধি।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের স্বীকৃতিপত্র হাতে পণ্ডিত সুদর্শন।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের স্বীকৃতিপত্র হাতে পণ্ডিত সুদর্শন।

পরে আইন পড়তে লন্ডন গেলেও তবলার নেশা তাকে ছাড়েনি। ২০০৪ সালে নিউহ্যাম এলাকায় ‘তবলা অ্যান্ড ঢোল একাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করেন সুদর্শন। ২০১১ সালে তার ‘লার্ন টু প্লে তবলা’ ডিভিডি আকারে প্রকাশিত হয়। দুই বছর পর বাজারে আসে ‘লার্ন টু প্লে তবলা উইথ মিউজিক’।

চ্যানেল ফোর, বিবিসি টেলিভিশন, স্কাই টিভি ও ব্রাজিলের ফিনিক্স টেলিভিশনে তবলা বাজানো সুদর্শনের রয়েছে ১০০টির বেশি কনসার্ট ও পুরস্কার বিতরণীতে বাজানোর অভিজ্ঞতা।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন