বিদেশে রপ্তানি হলেও হিমাগারের অভাবে নষ্ট হচ্ছে পটিয়ার পেয়ারা

0

পটিয়ার পেয়ারা, পতেঙ্গার তরমুজ, লাইল্যার হাটের বাকরখানি। এ নিয়ে চট্টগ্রামের শিল্পীদের জনপ্রিয় গান রয়েছে। এ গানগুলো সকলের মন ছুঁয়ে গেলেও বর্তমানে বিপরীত। কেননা তখনকার সময়ের সঙ্গে বর্তমানের বাস্তবতা বিরাট ফারাক।

পটিয়ার পাহাড়জুড়ে শুধু পেয়ারা আর পেয়ারা। এ পেয়ারার কদর রয়েছে দেশ ও বিদেশেও। প্রতিদিন শত শত টন পেয়ারা উৎপাদন হলেও এর তিন ভাগের দুই ভাগ পেয়ারা বাগানেই নষ্ট হচ্ছে শুধুমাত্র হিমাগারের অভাবে। এ নিয়ে স্থানীয় পেযারা চাষিদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। বিশেষ করে পটিয়ায় এবার পেয়ারার বাম্পার ফলন হলেও তা সংরক্ষণের জন্য কোনো ধরনের হিমাগার না থাকায় বাগানেই বেশিরভাগ পেয়ারা নষ্ট হচ্ছে। যদি উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ের পেয়ারাগুলো সংরক্ষণ বা প্রতিপাদ্য করে জুস ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলা যায় তাহলে এ অঞ্চলে পেয়ারার কদর যেমন বাড়বে তেমনি পেয়ারা চাষিদের ভাগ্যও পরিবর্তন হবে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ উদ্যোগ ও পরিকল্পনার অভাবে সম্ভাবনাময় এ শিল্পটি দিনে দিনে মুখ থুবড়ে পড়েছে।

জানা যায়, পটিয়ার উৎপাদিত পেয়ারা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। কেলিশহরের কাজী পেয়ারা ও কাঞ্চননগরের পেয়ারা এখন পুরোধমে বাজারে। এই পেয়ারা একটানা পাওয়া যাবে অক্টোবরের শেষে পর্যন্ত।

পেয়ারা চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার পটিয়ার পেয়ারার বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টি আর বৈরী আবহাওয়া না ঘটলে তারা অনেক লাভবান হতো।

কেলিশহর, পটিয়া রেল স্টেশন, কমল মুন্সিরহাট ও রৌশন হাটের পেয়ারার বাজার ঘুরে দেখা যায়, লাল সালু কাপড়ে মোড়ানো পেয়ারার পসরা সাজিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। আর সেই লাল কাপড়ে মোড়ানো ব্যাগের পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৪০০ টাকায়। এভাবে শেষ পর্যন্ত বাজার থাকলে চাষিরা লাভবান হবে বলে জানান। তবে ভয় তাদের প্রাকৃতিক বৃষ্টি।

তারা আরও জানান, যারা আগাম লাখ লাখ টাকা দাদন নিয়ে বাগান কিনেছে তাদের মাঝে সবসময় ভয় বিরাজমান। কখন কি হবে। গহীন অরণ্য থেকে পেয়ারা বাজার পর্যন্ত আনতে প্রতি ভারে শ্রমিকদের ধোলাই খরচ দিতে হয় ১০০-১৫০ টাকা। তাই এবার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আমরা বেশ লাভবান হবো বলে আশা করছি। সরকারিভাবে এ এলাকার উৎপাদিত পেয়ারা সংরক্ষণের জন্য হিমাগার থাকলে আমাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হয়ে যেতো। পুরো বছরজুড়ে আমরা তা সংরক্ষণ করে বাজারে বিক্রি করতে পারতাম।

পটিয়া কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পটিয়ার গহীন অরণ্যে ২ থেকে ৩শ পেয়ারার বাগান গড়ে উঠেছে। তাছাড়া পাশ্ববর্তী চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে পেয়ারার চাষ হচ্ছে। এখানকার চাষিরা পেয়ারা চাষ করে অনেকেই গুছিয়েছেন বেকারত্বের অভিশাপ।

পেয়ারার পাইকারি ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন জানান, দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রয়েছে পটিয়ার পেয়ারার কদর। মধ্য প্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, আরব আমিরাতসহ আরও কয়েকটি দেশে পেয়ারা রপ্তানি হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, পটিয়ায় পেয়ারা চাষিদের বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। যেমন- পেয়ারা বিক্রির জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থান না থাকা, পেয়ারা সংরক্ষণের জন্য হিমাগার না থাকা ইত্যাদি। এছাড়াও পেয়ারা চাষিরা আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নামমাত্র মূল্যে আগাম সুবিধাভোগীদের মাঝে পেয়ারা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। এমতাবস্থায় পটিয়ার পেয়ারা চাষিরা সরকারি-বেসরকারি পর্যাপ্ত সুবিধা পেলে পাল্টে দিতে পারে অর্থনীতির চাকা।

অধিকাংশ পেয়ারা চাষিরা জানায়, পটিয়ার পেয়ারা চাষিদের সহজশর্তে ঝণ প্রদান, পেয়ারা সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপনের সরকার যথাযথ উদ্যোগ নিলে এখানে উৎপাদিত পেয়ারাকে ঘিরে গড়ে তোলা যাবে জুস ইন্ডাস্ট্রি বা ফুড প্রসেসিং জোন। এতে করে কর্ম সংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি পেয়ারার জুস, জ্যালি বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

এএইচ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন