বিজয় মেলার মঞ্চে বারবার মহিউদ্দিনের নাম

0

বঙ্গবন্ধুর এক তর্জনীর ইশারায় মতভেদ ভুলে মুক্তির আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙ্গালী। সূচনা হয় বীরত্বগাঁথা ইতিহাসের। সারাদেশের মত চট্টগ্রামেও ছড়িয়ে পড়ে মুক্তির স্বাদ পেতে বাঙ্গালীর ক্ষোভের সেই দানাবল। দেশ স্বাধীনতার ঘোষণা আসে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকেই।

চট্টগ্রামে বিদ্রোহের মধ্যে দিয়েই শুরু হয় একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধ। এই বিদ্রোহে চট্টগ্রামের ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাহসী সৈনিকেরা অংশগ্রহণ করে। রাজধানী ঢাকায় পৈশাচিক পাক বাহিনী যখন অপারেশন সার্চলাইটের নামে নিরস্ত্র বাঙ্গালীর উপর হত্যাযজ্ঞ চালায়। প্রায় একই সময়ে চট্টগ্রামে বিদ্রোহ শুরু করে সাহসী বাঙ্গালী যোদ্ধারা। সেনা বিদ্রোহের একমাত্র শাস্তি ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড জেনেও সেদিন পিছু হটেনি সাহসী সৈনিকেরা।

এভাবেই মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতির পাতায় ঘাত-প্রতিঘাত আর বীরত্বের সাক্ষি চট্টগ্রাম। প্রায় ৩০ বছর ধরে চট্টগ্রামের বিজয় মেলা যেন বয়ে বেড়ায় এই সাক্ষ্য। দুর্বিনীত দুঃসময়ে যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লুণ্ঠিত তখন ১৯৮৯ সালে সার্কিট হাউসের সম্মুখ চত্বরে গুটিকয়েক মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক সংগঠক সাহসী উদ্যোগ নিয়ে এ মেলার সূচনা করেন। তবে পরবর্তীতে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে বাঙ্গালীর প্রাণের এ মেলা যেন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে চট্টগ্রামের আউটার স্টেডিয়ামে। পরবর্তীতে মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রত্যক্ষ প্রণোদনায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অনুগামী হয়ে পরিণত হয় এই বিজয়মেলা।

তবে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে পথচলায় যেন চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভ্রাতৃত্বের নির্দশন যেন এবারের বিজয় মেলা।

রোববার (১ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের আউটার স্টেডিয়ামে ‘মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নানা মত-বিবেধ ভুলে এক মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন।

মহিউদ্দিন চৌধুরীকে স্মরণ করে এসময় সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন মুক্তি যুদ্ধের বিজয় মেলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। আজকে তাঁর ৭৫তম জম্মদিন। আজ আমরা যারা তাঁর অনুসারি আছি, আমরা তাঁর পথ অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করবো।’

এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর নামে আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের নামকরণের সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর পত্নী হাসিনা মহিউদ্দিন বলেন, ‘আপনারা যারা আজ আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছেন, আপনাদের মাঝেই আমি মহিউদ্দিন চৌধুরীকে দেখতে পাই। তিনি আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেছেন কীভাবে সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে যেতে হয়। সে পথেই আমাদের প্রমাণ করতে হবে চট্টগ্রামের মাটি মহিউদ্দিনের ঘাঁটি।’

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিডিএ চেয়্যারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, চসিক কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, নীলু নাগ, বোরহানুল হাসান চৌধুরী সালেহীন, বদিউল আলম, এমএ মনসুর, জাহাঙ্গীর চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম বিজয় মেলার আয়োজকরা জানান, ১০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে স্টেডিয়াম সংলগ্ন চত্বরে বিজয়শিখা প্রজ্বলন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিজয় মেলার মঞ্চের ৭ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার কার্যক্রম শুরু হবে। বিজয়মঞ্চে প্রতিদিন থাকবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ ও আলোচনা অনুষ্ঠান। এছাড়া পরিবেশিত হবে উদ্দীপনামূলক দলীয় সাংস্কৃতিক ও একক সঙ্গীতানুষ্ঠান। ১৩ ডিসেম্বর বিকেলে নারী সমাবেশ, ১৪ ডিসেম্বর বিকেলে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন উপলক্ষে স্মরণানুষ্ঠান এবং ১৫ ডিসেম্বর বিজয় মেলার প্রাণ পুরুষ চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী স্মরণে নাগরিক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে, ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় স্টেডিয়াম চত্বর থেকে বের করা হবে বর্ণাঢ্য বিজয় র্যা লি।

এএ/এসএ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন