বিজু-সাংগ্রাই ঘিরে নতুন সিদ্ধান্ত, বৈচিত্র্যেই ঐক্যের বার্তা
নিজস্ব স্বকীয়তায় উৎসব পালনের নির্দেশ পার্বত্য মন্ত্রীর
এক ছাতার নিচে ‘বৈসাবি’ নয়, বরং আলাদা পরিচয়ে নিজস্ব রীতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী উৎসব পালনের ঘোষণা এল সরকারের পক্ষ থেকে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি।
বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান ও চাংলান উপলক্ষে আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি জাতীয় ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই এখন থেকে ‘বৈসাবি’ নামে একত্রে নয়, প্রতিটি সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব স্বকীয় রীতিতে এই সামাজিক উৎসবগুলো পালন করবে। এ ধরনের সামাজিক আয়োজনে কোনো ধরনের বৈষম্যের সুযোগ রাখা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১টি সম্প্রদায়ের এই উৎসবগুলোর মূল বার্তা শান্তি ও সম্প্রীতি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান, সব শ্রেণি, পেশা ও সম্প্রদায়ের মানুষ সমান গুরুত্ব দিয়ে নিজ নিজ সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালন করতে পারে। তাঁর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের স্বকীয়তা রক্ষা ও উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
উৎসবের সময়সূচি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ১২ এপ্রিল ফুল বিজু বা বৈসুর মাধ্যমে প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হবে। ১৩ এপ্রিল ঘরে ঘরে ‘পাঁজন’ রান্নার মধ্য দিয়ে মূল উৎসব উদ্যাপিত হবে। ১৪ এপ্রিল জলকেলি ও আশীর্বাদ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান সব উৎসবে সাত রঙের মিশ্রণ থাকুক। রংধনুর মতোই প্রতিটি সম্প্রদায়ের স্বকীয়তা উৎসবে ফুটে ওঠা স্বাভাবিক। তিনি বলেন, এই উৎসবগুলো শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং শেকড় ও পরিচয়ের প্রতিফলন। পাহাড়ি জনগণের স্বকীয়তা বজায় রেখে তাদের উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত রাখাই সরকারের লক্ষ্য।
আগামী ১২ এপ্রিল রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স থেকে রমনা পার্কের লেক পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও পুষ্প বিসর্জন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে আটটায় এই পদযাত্রা শুরু হবে।
মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য সাচিং প্রু, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা।




