বিচার চাইতে এসে হামলার শিকার বিএনপিকর্মী, এমপি-ওসির সামনেই উত্তেজনা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে একটি অনুষ্ঠানে হামলার বিচার চাইতে গিয়ে এমপি ও ওসির সামনেই হামলার শিকার হয়েছেন এক প্রবাসী বিএনপিকর্মী। এ সময় এক নারীসহ আরও কয়েকজন হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৮ জুন) বিকেলে হেয়াঁকো বনানী ডিগ্রি কলেজ মাঠে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন বিপ্লব ও তার অনুসারীদের ওপর। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিপ্লব।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ভূজপুর থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, আগে তার বাড়িতে হামলা ও মারধরের ঘটনার বিচার চেয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বেসরকারিভাবে নির্বাচিত এমপি সরওয়ার আলমগীরের কাছে অভিযোগ জানাতে ছুটে যান বিএনপিকর্মী মানিক। এ সময় ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দেও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান চলাকালে নাসিরউদ্দিন বিপ্লবের সঙ্গে মানিকের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তার অনুসারীরাসহ মানিকের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এতে মানিকসহ তার দলের এবং পরিবারের কয়েকজন আহত হন।

ভুক্তভোগী প্রবাসী বিএনপিকর্মী মানিক বলেন, নাসিরউদ্দিন বিপ্লব আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আমি মানববন্ধন করেছি এবং এ বিষয়ে মামলা চলমান রয়েছে। আজ বিকেলে এমপির কাছে বিচার চাইতে গেলে তার সামনেই, পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিপ্লব আমাকে মারধর করেন। এ সময় তিনি আমাকে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপ্লবের এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। ৫ আগস্ট দেশের পটপরিবর্তনের পর তিনি এলাকায় রাজনীতিকে ব্যবহার করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে বারবার এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অশান্ত করে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম উৎকণ্ঠায় রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি ও জায়গা দখলের অভিযোগও রয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাসিরউদ্দিন বিপ্লব। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এর পরপরই তিনি মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন। পরে আবার মুঠোফোন রিসিভ করে বলেন, আমি নন্দীর স্কুলের পাশে আছি, সেখানে আসেন।

এরপর থেকে তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি। বার্তা পাঠালেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, এমপি ও পুলিশের সামনে বিপ্লব ও মানিক নামে দুই ব্যক্তির মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে বিরোধ মিটমাট করে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের কেউ অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিজে

ksrm