বিএম ডিপোর বিস্ফোরণে ঘটনায় ২০ সুপারিশ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে

সিসি ক্যামেরার ব্যাকআপ না মেলায় অনেক কিছুরই উত্তর অজানা

0

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

বুধবার (৬ জুলাই) বিকাল ৫টায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করে কমিটি।

প্রতিবেদনে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং কার, কী দায় ছিল—সে আলোকে দেশের অন্যান্য কন্টেইনার ডিপোগুলোকে নিরাপদ করতে ২০ দফা সুপারিশ করেছে কমিটি।

তদন্ত কমিটি ডিপোর সিসি ক্যামেরার কোনো ব্যাকআপ না পাওয়ায় অনেক কিছুরই উত্তর মেলেনি বলে জানায়। পাঁচজন প্রত্যক্ষদর্শীসহ মোট ২৪ জনকে ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কমিটি। সিআইডির ল্যাব, পরিবশে অধিদপ্তরের ল্যাব, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষা করে তার ফলাফলের আলোকে কমিটি সুপারিশ প্রণয়ন করেছে।

প্রতিবেদনে বিএম ডিপোর ঘটনা থেকে সতর্ক হয়ে অন্যান্য ডিপোর জন্য সুনির্দিষ্ট ২০টি সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে একই প্ল্যাটফর্মে আনারও সুপারিশ করা হয়েছে। কন্টেইনার ডিপোর অনুমোদন, পরিচালনা এবং তদারকিতে ২৫টি সংস্থার ভূমিকা রয়েছে। সংস্থাগুলোর কাজের সমন্বয় ঘটলে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো যাবে বলে উল্লেখ করা হয়।

Yakub Group

তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তরের সময় গণমাধ্যমকর্মীরা বিভিন্ন বিষয় জানতে চাইলে বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘বিএম ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সরকারের সর্বোচ্চ মহল অবগত। তদন্ত প্রতিবেদন আমরা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জমা দেব। স্থানীয়ভাবে আমি কিছু বলার সুযোগ নেই।’

বিএম ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সর্বশেষ বুধবার (৬ জুলাই) বিধ্বস্ত একটি শেডের ভেতর থেকে একটি মাথার খুলি ও পোড়া হাড় উদ্ধার করা হয়।

এর আগে গত ৪ জুন রাত সাড়ে ৯টায় সীতাকুণ্ডে সোনাইছড়ি ইউনিয়নে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কন্টেইনার বিস্ফোরণে ফায়ার সার্ভিসের ১০ জন সদস্যসহ ৫১ জন মারা যান। এ ঘটনায় প্রায় ২৫০ জন আহত হন।

ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষ থেকে নয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুমনী আক্তারকে সদস্য সচিব করে গঠন করা কমিটি। সেসময় পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তদন্ত কমিটি এক মাস সময় নিয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় কমিটির সদস্য চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেন খান, চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম, চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার ফারুক উল হক, পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মফিদুল আলম, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার শাহনেওয়াজ খালেদ, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের মেজর কাওসার, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপপরিচালক নিউটন দাশ, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের তোফাজ্জল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

আরএম/ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm