বিএনপি প্রার্থীর সম্পদ ১৮ মাসেই দ্বিগুণ: অর্থপাচার ও খুনের মামলার অভিযোগ

চট্টগ্রাম-১৪ আসনের জসিম

চট্টগ্রাম-১৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, সম্পদের তথ্য গোপন এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার গুরুতর অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত আবেদন জমা পড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ এই অভিযোগ দায়ের করেন। একই সঙ্গে দেড় বছরের ব্যবধানে প্রার্থীর সম্পদ দ্বিগুণ হওয়া এবং সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীরের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার মতো বিষয়গুলো এখন চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, জসিম উদ্দিনের আয়কর রিটার্ন, হলফনামা ও আর্থিক বিবরণীতে প্রদর্শিত সম্পদের সঙ্গে ঘোষিত আয়ের কোনো যৌক্তিক সামঞ্জস্য নেই। তিনি বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ প্রদর্শন করলেও সেগুলোর বৈধ উৎস স্পষ্ট করেননি। বিষয়টি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী অর্থপাচারের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন অভিযোগকারী।

অভিযোগে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়, ২০২৪ সালের এপ্রিলে উপজেলা নির্বাচনের সময় জসিম উদ্দিন ২১ কোটি ৩০ লাখ ২১ হাজার ৫৬৭ টাকার সম্পদ দেখান। অথচ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় সেই সম্পদ বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ কোটি ৫৮ লাখ ২১ হাজার ১৩ টাকায়। মাত্র ১৮ মাসের ব্যবধানে সম্পদ দ্বিগুণ হওয়ার কোনো বৈধ ব্যবসায়িক নথি তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি।

দুদকে দেওয়া অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মনোনয়ন যাচাইয়ের দিন জসিম উদ্দিন সোনালী ব্যাংক মতিঝিল শাখা থেকে চট্টগ্রামে কাগজপত্র এনে জমা দেন। এই ঘটনাটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আর্থিক যাচাই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার একটি প্রচেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, জসিম উদ্দিন আইনি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারে সক্ষম এবং বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের সঙ্গে তার আর্থিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাকে বিভিন্ন মহলে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বেনজীরের ক্যাশিয়ার ও আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে চেনে।

জসিম উদ্দিনের প্রার্থীতার বিরুদ্ধে গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ওই কর্মসূচিতে জেলার সর্বদলীয় ছাত্রনেতারা অংশ নিয়ে জসিম উদ্দিনকে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি হত্যা মামলার অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। ছাত্র নেতারা তার মনোনয়ন বাতিলসহ চার দফা দাবি জানান।

এদিকে জসিম উদ্দিনের প্রার্থীতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন এলডিপির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও চট্টগ্রাম-১৪ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক ওমর ফারুক। ওই আপিলে হলফনামার অসঙ্গতি ও অবৈধ নগদ অর্থ রাখার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। নির্বাচন কমিশনে এই আপিলের শুনানি শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এলডিপির অভিযোগে বলা হয়েছে, জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার ও কর ফাঁকির মতো যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, আয়কর আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এলডিপি আশা প্রকাশ করেছে যে, দুদক যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় এসব অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। নির্বাচনের মাঠে অবৈধ অর্থ ও অনৈতিক প্রভাব বিস্তার রুখতে সংস্থাটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও তারা প্রত্যাশা করছে।

ksrm