বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী ও তার স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের আদেশ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় কারাবন্দি বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী ও তার স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত।

বুধবার (১৫ মে) সকালে দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের দায়রা জজ আদালতের বিচারক আজিজ আহমেদ ভূঞা এই আদেশ দেন।

অভিযুক্ত মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দক্ষিণ ভাটিয়ারি মজিদ চৌধুরীর বাড়ির মোহাম্মদ গোলাম হোসেন চৌধুরীর ছেলে। তার স্ত্রীর নাম জামিলা নাজলীল মাওলা।

দুদক জানায়, ২০২১ সালের ২১ মার্চ থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১৫ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ৪১৬ টাকা জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগে মামলা দায়ের করে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর দফতর।

ওই মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ১৯ ধারা ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ এর ২০ বিধি অনুযায়ী আসামি মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর শুরু থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথি জব্দ করে আলোচনা প্রয়োজন। তার আয়কর নথি নম্বর (টিআইএন) ১১৫০১০৮৭৫৬০১ (পুরাতন ৩৪৪-১০৩-৭৬৭০) কর সার্কেল-৩ এর আওতায় চট্টগ্রাম কর অঞ্চলে সংরক্ষিত রয়েছে।

এছাড়া তার স্ত্রী জামিলা নাজলীল মাওলা তার বিরুদ্ধে ২০০৪ সালের ২২ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নিজ নামে ১৩ কোটি ৩১ লাখ ১৭ হাজার ৩৬৩ টাকার সম্পদের মধ্যে ৪ কোটি ৪৩ লাখ ৫২ হাজার ৭২৩ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগে মামলা দায়ের করে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর দপ্তর।

ওই মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ১৯ ধারা ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ এর ২০ বিধি অনুযায়ী আসামি জামিলা নাজলীল মাওলার শুরু থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথি জব্দ করে আলোচনা প্রয়োজন। তার আয়কর নথি চট্টগ্রামের কর সার্কেল-৭৬, কর অঞ্চল-৪ এ সংরক্ষিত রয়েছে।

এর আগে গত ৭ মে দুদক মামলায় মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী ও তার স্ত্রী জামিলা নাজলীল মাওলার পৃথকভাবে চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত ও দায়রা জজ আদালতে আয়কর নথি জব্দের প্রার্থনা আবেদন করেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক (বি.অনু.তদন্ত-২) মো. জাহাঙ্গীর আলম। 

২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর আদালতে মামলাটি দায়ের হয়। এতে আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ১৫ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ৪১৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক পাবলিক প্রসিকিউটর ( পিপি) কাজী সানোয়ার আহমেদ লাভলু।

এমএ/ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!