চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বিএনপির এক কর্মীকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে উল্লেখ করে একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার আদালত পুলিশি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

কারাগারে পাঠানো ওই ব্যক্তির নাম মো. নুরুল আজম (৫৪)। তিনি ফটিকছড়ি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পরান চৌধুরী বাড়ির মৃত হাজী মো. ইউনুসের ছেলে। মামলার নথিতে তাঁকে ফটিকছড়ি পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পৌর আওয়ামী লীগের কমিটির কাগজ সম্পাদনা করে তাঁর নাম সহসভাপতি হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিটিতে সহসভাপতির পদে প্রকৃতপক্ষে ৬ নম্বর ক্রমিকে রয়েছেন মো. জয়নাল আবেদীন।
বিভিন্ন নথি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে নুরুল আজম ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে বিএনপির সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকলেও ব্যবসায় মনোযোগ দেন। সর্বশেষ ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মধ্যেও তিনি পৌর বিএনপির সদস্যপদ নবায়ন করেন। স্থানীয়দের দাবি, তিনি এলাকায় শিক্ষিত ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) আজিমুল্লাহ বাহারের অনুসারী হওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী পক্ষ তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
থানা সূত্র জানায়, রোববার রাতে বিবিরহাট ফটিক প্লাজার সামনে থেকে নুরুল আজমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাঁকে একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতে দাখিল করা পুলিশি প্রতিবেদনে বলা হয়, নুরুল আজম ফটিকছড়ি পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) আজিমুল্লাহ বাহারের সঙ্গে নুরুল আজমের একাধিক ছবি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতির ছবি রয়েছে। তাঁদের ধারণা, এই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই তিনি এ ঘটনার শিকার হয়েছেন।
নুরুল আজমের স্ত্রী, ফটিকছড়ি সরকারি কলেজের প্রভাষক অনামিকা সায়মা বলেন, তাঁর স্বামী আজীবন বিএনপির রাজনীতি করেছেন এবং বিএনপিই তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ। তাঁর ভাষায়, এটি একটি ষড়যন্ত্র এবং এর দায় কুৎসিত রাজনীতি করা ব্যক্তিরা এড়াতে পারেন না।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ভুলভাবে উপস্থাপন করে তাঁকে একটি স্পর্শকাতর মামলায় আসামি করা হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. জহির আজম চৌধুরী বলেন, বিএনপির কোনো কর্মীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের পরিচয় যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। যারা এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অন্য দলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে কিংবা পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য অশনিসংকেত। এ ধরনের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে রাজনীতি থেকে মেধাবী ও সজ্জন ব্যক্তিরা দূরে সরে যেতে পারেন।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রবিউল আলম খান বলেন, মামলার ঘটনার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, এমন কিছু তথ্য-প্রমাণ পুলিশের হাতে এসেছে। সে কারণেই তাঁকে মামলার আসামি করা হয়েছে।




