বায়েজিদে ‘মব’ তৈরি করে কলেজছাত্রকে গ্রেপ্তারের আড়ালে লুটপাটের অভিযোগ

মুনিরীয়া তাবলীগের লোক গিয়েছিল পুলিশের সঙ্গে

চট্টগ্রামের বায়েজিদে পুলিশ পরিচয়ে অভিযান চালিয়ে এক কলেজছাত্রকে গ্রেপ্তারের সময় তার বাসায় লুটপাট ও পরিবারের নারী সদস্যদের হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে অক্সিজেন এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বায়েজিদে ‘মব’ তৈরি করে কলেজছাত্রকে গ্রেপ্তারের আড়ালে লুটপাটের অভিযোগ 1

অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই রাতে বায়েজিদ থানার পুলিশ চট্টগ্রাম মহসীন কলেজের শিক্ষার্থী সাদিক আব্দুল্লাহকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তিনি জামিনে মুক্তি পান। মুনিরীয়া তাবলীগের করা একটি মামলার সূত্রে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানায় পুলিশ।

পরিবারের দাবি, রাউজানের কাগতিয়া এলাকায় তাদের পৈত্রিক বসতভিটা ছেড়ে দেওয়ার জন্য মুনিরীয়া যুব তাবলীগ কমিটি দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছিল। এর আগে ওই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এলাকার বিভিন্ন মানুষের জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে। পৈত্রিক ভিটা ছেড়ে না দেওয়ায় শত্রুতার জেরে সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট একটি পুরনো মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।

প্রথমে ‘মব’ তৈরি ও এরপরই গ্রেপ্তার

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে বাসার সামনে মুনিরীয়ার লোকজন জড়ো হয়ে ‘মব’ তৈরি করে। পরে বায়েজিদ থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সাদিক আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে।

গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সাদিকের মা শিরিন আক্তার বায়েজিদ থানায় ১৭ জন নামধারী এবং আরও ১০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে শহিদ, বোরহান, শাহাদাত, মহিউদ্দীনসহ রাউজান ও বাকলিয়া এলাকার একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের সমর্থনে ভিডিও ফুটেজও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্তরা রাউজানভিত্তিক মুনিরীয়া যুব তাবলিগ কমিটির সদস্য বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

লুটপাট ও হেনস্তার অভিযোগ

শিরিন আক্তার অভিযোগ করেন, তল্লাশির নামে অভিযুক্তরা পরিবারের নারী সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণ ও ধাক্কাধাক্কি করে। এ সময় আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকা, লুট করে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, পুলিশ পরিচয়ে ঘরে ঢুকে এভাবে লুটপাট ও নারীদের হেনস্তার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

শিরিন আক্তারের বড় ছেলে আল আমিন বলেন, আওয়ামী লীগের দোসর মুনিরীয়া যুব তাবলিগের লোকজন ওই রাতে পুলিশের সঙ্গে বাসায় আসে এবং লুটপাটের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের হেনস্তা করে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৯ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে এসআই ইমামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শিরিন আক্তারের বাসায় হানা দেয়। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে রাউজান থানার একটি মামলায় শিরিন আক্তারের ছোট ছেলে, মহসিন কলেজের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল সাদিককে গ্রেপ্তার করে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং ইসলামী ছাত্রশিবির মহসিন কলেজ শাখার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

ksrm