বায়েজিদে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে শিক্ষকের ধর্ষণ, গ্রেপ্তার করলো পুলিশ

চট্টগ্রামের শেরশাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর মা বাদি হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (৯ জুন) রাতে ভুক্তভোগীর মা বাদি হয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্তের নাম ফয়েজুল ইসলাম (৪৬)। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পূর্ব চাম্বল সোনারখিল এলাকার হামিদ আলীর ছেলে। তিনি শেরশাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। বর্তমানে বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ হাজী মজুমদার ভিলার বাসিন্দা।

মামলার বিবরণে বলা হয়, বায়েজিদ বোস্তমাী থানার শেরশাহ দিঘীর পশ্চিম পাড় এলাকায় ভুক্তভোগী (১৪) মেয়েকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন তার মা। তার মেয়ে শেরশাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চশ শ্রেণিতে পড়ছেন। ওই বিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে সপ্তাহে ছয়দিন সেখানকার শিক্ষক ফয়েজুল ইসলামের বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়ে তার মেয়ে।

গত ৮ জুন সকাল সাড়ে ৭টায় মেয়েকে বাসায় একা রেখে কর্মস্থলে চলে যায় তার মা। ওইদিন সোয়া ৭টায় কর্মস্থলের কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে দেখে তার মেয়ে কান্না করছেন। বিষয়টি মেয়ের কাছে জানতে চাইলে মেয়ে জানায় সকাল ৮টার দিকে একটি অপরিচিত মেয়েকে দিয়ে ডেকে নিয়ে যায় তার প্রাইভেট শিক্ষকের বাসায়। ওইদিন প্রাইভেট বন্ধ থাকলেও ‘স্যার’ যেতে বলছেন বিধায় ওই অপরিচিত মেয়ের কথা মতো সে চলে যায় শিক্ষকের বাসায়।

ওই শিক্ষকের বাসায় প্রবেশ করার পর তার মেয়েকে বেঞ্চের উপরে উঠতে বলে শিক্ষক। এরপর এক গ্লাস পানি পান করায়। ওই পানি পান করার পর থেকে তার মেয়ের মাথা ঘুরে এবং চোখের ঝাপসা দেখা শুরু করে। এরপর মেয়েকে জোর করে ধর্ষণ করে ওই শিক্ষক।

তার মেয়ে আরও জানায়, ওই শিক্ষককে ধর্ষণের বাধা দেওয়ার সময় ধস্তাধস্তিতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে দাগ রয়েছে। ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে না জানাতে বলেন ওই শিক্ষক। জানালে মেরে ফেলারও হুমকি প্রদান করেন। প্রথমে লজ্জায় তার মেয়ে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। পরে তার মাকে বিষয়টি জানালে ওইদিন রাতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর মা।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সনজয় কুমার সিনহা। তিনি বলেন, মামলার পরপরই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এমএ/এমএফও

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!