বাণিজ্যিক ভবনে চলছে জিইসির মেডিকেল সেন্টার, রয়েলের পার্কিংজুড়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার

সিএসসিআরের নকশায় নেই পার্কিং, সড়কেই গাড়ি

চট্টগ্রাম নগরের মেডিকেল পূর্ব গেট থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কজুড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর নেই প্রয়োজনীয় অনুমোদন, কোথাও নেই পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা, আবার কোথাও পার্কিং জোন ব্যবহার করা হচ্ছে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও অন্যান্য সামগ্রী মজুদের জন্য। এর প্রভাব পড়ছে নগরের অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কে। প্রতিদিন বিকেলের পর থেকেই শুরু হয় দীর্ঘ যানজট, যেখানে মাত্র ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে অনেক সময় এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়।

রয়েল হাসপাতালে পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থানে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে অক্সিজেন সিলিন্ডার।
রয়েল হাসপাতালে পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থানে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে অক্সিজেন সিলিন্ডার।

এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুলের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে নগরের মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল সেন্টার, রয়েল হাসপাতাল ও সিএসসিআর হাসপাতাল পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে মেট্রোপলিটন হাসপাতাল ছাড়া অন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ে।

জিইসি মোড়ে আবুল খায়ের গ্রুপের মালিকানাধীন চট্টগ্রাম মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালটি বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ভবনটিতে হাসপাতাল পরিচালনার উপযোগী অবকাঠামোগত ব্যবস্থা্ও নেই।
জিইসি মোড়ে আবুল খায়ের গ্রুপের মালিকানাধীন চট্টগ্রাম মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালটি বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ভবনটিতে হাসপাতাল পরিচালনার উপযোগী অবকাঠামোগত ব্যবস্থা্ও নেই।

বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদনে হাসপাতাল

জিইসি মোড়ে আবুল খায়ের গ্রুপের মালিকানাধীন চট্টগ্রাম মেডিকেল সেন্টারে গিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের তথ্য পায় সিডিএ। পরিদর্শনে দেখা যায়, হাসপাতালটি বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ভবনটিতে হাসপাতাল পরিচালনার উপযোগী অবকাঠামোগত ব্যবস্থা নেই। এমনকি পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধাও রাখা হয়নি।

অভিযান চলাকালে ভবনের পার্কিং জোনে বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুদ অবস্থায় দেখা যায়, যা ভবনটির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে সিডিএ। নিচতলায় অল্প কিছু গাড়ি রাখার ব্যবস্থা থাকলেও অধিকাংশ যানবাহন সড়কের ওপর পার্কিং করা হচ্ছে।

রয়েল হাসপাতালেও একই চিত্র

রয়েল হাসপাতালেও একই ধরনের অনিয়ম দেখতে পায় আভিযানিক দল। হাসপাতালটির ভবনেরও হাসপাতাল পরিচালনার অনুমোদন নেই। পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থানে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে অক্সিজেন সিলিন্ডার।

সিডিএ কর্মকর্তারা জানান, ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়েছে তাদের কাছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এমনকি হাসপাতালটি সিলগালা করার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।

নকশায় নেই পার্কিং, সড়কেই গাড়ি

নগরের আরেক বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান সিএসসিআর (সেন্টার ফর স্পেশালাইজড কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ) হাসপাতালের ভবনের অনুমোদন থাকলেও নকশায় কোনো পার্কিং ব্যবস্থার উল্লেখ নেই বলে জানিয়েছে সিডিএ।

হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের গাড়ি সড়কেই পার্কিং করতে হয়। ফলে সন্ধ্যার পর এই এলাকায় যান চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। অভিযানের সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ভবনের নকশাও উপস্থাপন করতে পারেনি বলে জানিয়েছে আভিযানিক দল।

কঠোর অবস্থানে সিডিএ

পরিদর্শন শেষে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল বলেন, চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। মূলত প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনীয় পার্কিং ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল সেন্টার ও রয়েল হাসপাতালের পার্কিং জোনে অক্সিজেন গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়া গেছে। রয়েল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, এটি হাসপাতাল পরিচালনার উপযোগী ভবন নয়। প্রয়োজনে হাসপাতালটি বন্ধও করে দেওয়া হতে পারে।

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, নগরের যানজটের অন্যতম কারণ বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অপর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা। রোগী ও স্বজনরা বাধ্য হয়ে সড়কে গাড়ি পার্কিং করেন, যার ফলে যানজট সৃষ্টি হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে যানজট নিরসনে এসব হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এআরই/ডিজে

ksrm