বাকলিয়ায় রাতের আঁধারে প্লট দখলে মরিয়া আওয়ামী লীগ নেতা রানা

0

এক সাবেক কাউন্সিলরের ছেলে, আরেক সাবেক কাউন্সিলরের ভাই। ব্যাস, তার এই দাপটের কাছেই সবাই অসহায়। চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য, হত্যা চেষ্টা মামলার আসামিও তিনি। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে চাদাঁবাজি, জায়গা-দখল বাণিজ্যসহ চট্টগ্রামের শহরের টার্গেটকৃত ধনাঢ্য ব্যবসায়িদের বাসায় হানা দেওয়ার নানা অভিযোগ ও একাধিক মামলা। বর্তমানে তিন মামলায় জামিনে রয়েছেন তিনি।

তিনি চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার দেওয়ানবাজার এলাকার বাসিন্দা ও ইউনিট আওয়ামী লীগ নেতা তরিকুল ইসলাম রানা। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডের বিএনপিপন্থি সাবেক কাউন্সিলর একেএম জাফরুল ইসলামের পুত্র ও উপনির্বাচনের জয়ী হওয়া সাবেক কাউন্সিলর এ কে এম আরিফুল ইসলাম ডিউকের ভাই।

সম্প্রতি বাকলিয়ার বগারবিল শান্তিনগর নিরাপদ হাউজিং-২ রাতে আঁধারে ৫ শতাংশের একটি প্লট দখল করতে যান তরিকুল ইসলাম রানা সহ তার সহযোগিরা। তার একটি ভিডিও ক্লিপও চট্টগ্রাম প্রতিদিনের হাতে এসেছে।

২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে বাকলিয়া বগারবিল শান্তিনগর নিরাপদ হাউজিং-২ এ জায়গা দখলের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দখলবাজরা সেখান থেকে সরে পড়েন। ওই ভিডিওতে হলুদ কটি পরিহিত তরিকুল ইসলাম রানা ও তার সহযোগিদের পুলিশের আগে চলে আসতে দেখা যায়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভূক্তভোগী জাসেদ চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন- ‘আমার বাড়ি রাউজান উপজেলায় হলেও থাকি শহরে। একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে জব করছি। বগারবিল শান্তিনগর নিরাপদ হাউজিং-২ এলাকায় ২০১৯ সালে আড়াই গন্ডার বেশি একটি প্লট বায়না করি। সেখানে প্লটে অর্ধেক করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে বিভিন্ন লোকজন দিয়ে চাঁদা দাবি করে আসছে রানার লোকজন।

তারা দাবি করে আসছেন টাকা না দিয়ে প্লটটির স্থানে কোনো ধরনের কাজ করা যাবে না। আমি এবিষয়ে বাকলিয়ায় থানায় একটি অভিযোগ দেই। তাদেরকে চাঁদার টাকা দিতে বারবার অস্বীকৃতি জানালে ক্ষোভে গত ৩১ ডিসেম্বর রাতের আঁধারে আমার প্লটটি দখল করতে যায় রানা ও তার সহযোগিতারা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়ার পর তাৎক্ষণিক তারা ঘটনাস্থলে গেলে দখলবাজরা সরে পড়েন।’

২০১২ সালের ৪ আগস্ট তরিকুল ইসলাম রানা বাকলিয়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে ইলিয়াস নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার চেষ্টা চালান। এ ঘটনায় তরিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন ইলিয়াসের স্ত্রী বেলী বেগম। এছাড়া ২০১৫ সালের ১৩ জুলাই বাকলিয়ায় ইমন হত্যার মামলায় অন্যতম প্রধান আসামি ছিলেন তরিকুল ইসলাম রানা।

২০১৯ সালের ২৯ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রানার বিরুদ্ধে এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন চোর সোহেল প্রকাশ সেলু। জবানবন্দিতে সেলু জানিয়েছেন, আমি নগরীর বাকলিয়ায় পুরাতন স্ক্র্যাপের ব্যবসা করি। তিন বছর ধরে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। নগরীর বাকলিয়ার কমিশনার (কাউন্সিলর) জাফরের ছেলে যুবলীগ নেতা রানার সঙ্গে অনেক আগে পরিচয় হয়। তিনি এলাকায় আমাদের ‘বড় ভাই’। রানা এলাকার নেতা হওয়ায় তার কথা শুনতে হতো আমাদের। তার কথা না শুনলে এলাকায় ব্যবসা করতে পারতাম না। তাই চুরির মাল বেশি দাম পাওয়ার জন্য আমার কাছে সব সময় বিক্রি করে আসছিল তারা। এ ব্যবসার জন্য রানা প্রতিদিন আমার কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে চাঁদা নিত।

অভিযোগের বিষয়ে তরিকুল ইসলাম রানা বলেন, ‘যে ভিডিওর কথা বলছেন ওইটা তো আমাদের গলির ভিডিও। ওইদিন আমাকে আমজাদ, দুর্জয় ও সোহেল প্রকাশ সেলুর ভাগিনা ফারুক আমাকে হত্যা করতে ঘিরে ফেলেছে। ৯৯৯ এ ফোন করলে পুলিশ এসেই আমাকে নিরাপদে নিয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি বগারবিলকে ঘিরে সেখানে একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে বেশ কিছু নিউজও হয়েছে। ওই নিউজের ইস্যূ ধরে তারা মনে করছে এসব নিউজ আমি করিয়েছি। বগারবিল শান্তিনগর নিরাপদ হাউজিং-২টি আমার বাবার গড়া। ওখানে আমাদের জায়গা আছে। কিন্তু সেখানে আমার একটি অফিস রয়েছে। আমি আমার জায়গাও ঢুকতে পারছি না।

যিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তাকে আমি চিনিও না। তাকে জিজ্ঞেস করুন আমি তাকে কোনো দিন কল দিয়েছি কিনা? বর্তমানে তিনটি মামলায় আমি জামিনে রয়েছি।’

রানা ১৭ নম্বর বাকলিয়ায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সি-ইউনিটির সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে দাবি করেন।

৩১ জানুয়ারি বাকলিয়ার বগারবিল শান্তিনগর নিরাপদ হাউজিং-২ এলাকায় ওইদিনের দায়িত্বে ছিলেন বাকলিয়া থানা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমজাদ। ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওইদিন তরিকুল ইসলাম রানা তার অফিসে অবরুদ্ধ ছিলেন বলে তার পক্ষে একজন ব্যক্তি ৯৯৯ এ কল করলে আমি ডিউটিরত থাকায় সেখানে থানা থেকে পাঠানো হয়েছে। সেখানে গিয়ে রানাকে অবরুদ্ধ করে রাখার মতো কোনো আলামত পাইনি। পরে রানাকে ঘটনাস্থল থেকে কল করলে তিনি নিরাপদে আছেন বলে ওইদিন আমাকে জানিয়েছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বগারবিল নিরাপদ হাউজিং-২তে জায়গা নিয়ে দুই গ্রুপে মধ্যে ঝামেলা চলছে।’

এএম/কেএস

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm