চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমার সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এ মামলায় ১৩ জন সাক্ষী রয়েছেন। এর মধ্যে বাদি, ভুক্তভোগী শিশু, তার নানা-নানিসহ ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন আদালত।
গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুরমাঠ-সংলগ্ন একটি গুদামকক্ষে চার বছর বয়সী শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা প্রতিবেদন, ডিএনএ রিপোর্ট, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আসামি মনির হোসেন (৩০) অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। মামলায় ১৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানান, মামলার বাদি, ওই শিশুটির বাবা সাক্ষ্য দেন। এরপর শিশুটির নানি, নানা, খালা এবং শিশুটির পরিবার যে কলোনির বাসিন্দা সেখানকার কেয়ারটেকার সাক্ষ্য দেন।রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী সাক্ষীদের জেরাও চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।
আসামি মনির হোসেন যে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিল, সে বিষয়ে জানতে আসামি মনির হোসেনের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী জিএম জাহেদ হোসেন বলেন, শয়তানের প্ররোচণায় সে এই কাজ করেছে বলেছিল। তবে ধর্ষণ নয়, শিশুটির লজ্জাস্থানে আঙুল দিয়েছে বলে জানান। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য ও জেরা করা হলে বুঝা যাবে আসামির কতটুকু দোষ আছে। এবং মেডিকেল অফিসারের সাক্ষ্য ও জেরায় জানা যাবে আসামির প্রকৃত অপরাধ কী। আমরা চাই না কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি সাজা পাক।
ওইদিন ঘটনার পর মনিরকে আটক করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসীর বাধা মুখে পড়ে পুলিশ। এলাকাবাসীই ওই যুবকের ‘শাস্তি’ নিশ্চিত করতে চায়। দুই ঘণ্টা চেষ্টা করেও মনিরকে থানায় নিয়ে যেতে না পেরে পুলিশ সন্ধ্যায় টিয়ারশেল ছোড়ে। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে। দফায় দফায় সংঘর্ষে বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের একটি বড় ট্রাকে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসময় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন।
পরে এ ঘটনায় চাক্তাই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক মোবারক হোসেন বাদি হয়ে পৃথক একটি মামলা করেন। মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছিল।
আরএ/ডিজে




