s alam cement
আক্রান্ত
১০২৩১৪
সুস্থ
৮৬৮৫৬
মৃত্যু
১৩২৮

বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারে একের পর এক বিপদ, বারবার অঘটন

0

যানজট নিরসনের কথা বলে নগরীর বহদ্দারহাটে ফ্লাইওভার নির্মিত হলেও সেটি হয়ে উঠেছে মরণফাঁদে। ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চট্টগ্রামের এই প্রথম ফ্লাইওভারটি বয়ে আনছে একের পর এক বিপদ।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও প্রকৌশলীরা আগে থেকেই বলে আসছিলেন, নির্মাণকাজে পদ্ধতিগত ত্রুটি ও যথাযথ তদারকির অভাবে এই ফ্লাইওভারটিতে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আবদুচ ছালাম সিডিএ চেয়ারম্যান থাকাকালীন নির্মিত বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের ডিজাইন ও কাজের নিম্নমান নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে।

২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরীর শুলকবহর থেকে বহদ্দারহাট এক কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত এমএ মান্নান ফ্লাইওভার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তদারকিতে নির্মাণকাজ শেষে ২০১৩ সালের ১২ অক্টোবর ফ্লাইওভারটি উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনের আগেই বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার হয়ে ওঠে একের পর এক দুর্ঘটনার সাক্ষী।

একের পর এক দুর্ঘটনা

২০১২ সালের ২৯ জুন বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের ২১ ও ২২ নম্বর পিলারের মাঝের একটি গার্ডার ভেঙে পড়ে। ওইদিন শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালীন এ দুর্ঘটনা ঘটাতে একজন রিকশাচালক আহত হলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়। ওই ঘটনায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার পর কমিটি ঘটনার জন্য কাজের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অদক্ষতাকে দায়ী করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে পাঁচ দফা সুপারিশ করে। কিন্তু এসব সুপারিশ আমলে নেয়নি সিডিএ কর্তৃপক্ষ। ফলে সুপারিশ না মেনেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ চালিয়ে যায়।

এই ঘটনার পর ওই একই বছরের ২১ নভেম্বর এই ফ্লাইওভারের লোহার অ্যাঙ্গেল ভেঙে এক স্কুল শিক্ষিকার গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারে সবচেয়ে বড়ো দুর্ঘটনাটি ঘটে ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর। ওইদিন সন্ধ্যা সাতটায় চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙে পড়ার ঘটনায় ১৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ১৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের এক একটি গার্ডারের ওজন ৮০ টন। ১৭ জনের ওপরই ৮০ টন ওজনের এই গার্ডার সরাসরি পড়েছিল এবং তারা সবাই মারা যায় মুহূর্তেই। তিনটি গার্ডার ফ্লাইওভার (ওভারপাস) থেকে পড়ে যাওয়ার ওই ঘটনায় আহত হন অন্তত ৫০ জন। অনেক মানুষ পঙ্গু হয়ে যায়।

সর্বশেষ সোমবার (২৫ অক্টোবর) বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের দুটি পিলারে বড় ধরনের ফাটল শনাক্ত হয়েছে। এসব ফাটল শনাক্ত করার পর দুর্ঘটনা এড়াতে ফ্লাইওভারের মোহরা অংশে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওইদিন রাতে এক পথচারী ফাটল দেখতে পেয়ে ফেসবুকে সেটি নিয়ে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্ট পুলিশের নজরে আসার পর তারা বহদ্দারহাট মদিনা হোটেলের সামনের ফ্লাইওভার পর্যবেক্ষণ করে দুটি পিলারের ওপরের অংশে বড় ফাটল শনাক্ত করে। সেখানে দেখা গেছে, র‌্যাম্প ও ফ্লাইওভারের সংযোগস্থলের কিছু নাট ঢিলে হয়ে গেছে। এর প্রভাবে র‌্যাম্প হালকা দেবে গেছে। ঘটনা শনাক্ত করার পরপরই মোহরার অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ।

মূল ডিজাইনের বাইরে র‌্যাম্প

ফ্লাইওভারটির লুপ চালু হওয়ার প্রায় তিন বছর পর ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ফ্লাইওভারটিতে ৩০০ মিটারের র‌্যাম্প নির্মাণ করে। ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর ৩২৬ মিটার দীর্ঘ ও ৬ দশমিক ৭ মিটার চওড়া র‌্যাম্পটি উদ্বোধন করা হয়। তবে নগর পরিকল্পনাবিদরা তখন থেকেই বলে আসছেন, মূল ডিজাইনের বাইরে র‌্যাম্প নির্মাণ করায় বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের সঙ্গে র‌্যাম্পটি কৌণিকভাবে সংযুক্ত হয়েছে। স্বাভাবিক নিয়মে সড়কের যেকোনো সংযুক্তি অর্ধবৃত্তাকার হওয়ার কথা থাকলেও কৌণিক অবস্থানের কারণে ফ্লাইওভারটিতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।

সিপি

ManaratResponsive

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm