বয়সের ক্রিকেটেও চট্টগ্রামের করুণ দশা, এবার লজ্জা দিয়ে গেল কক্সবাজারও

৭৩ রানে অলআউট চট্টগ্রামের অনূর্ধ ১৮ দল

টিম সিলেকশনে স্বজনপ্রীতি এবং কোচের স্বেচ্চাচারিতা ক্রিকেটের উর্বর ভূমি নামে খ্যাত চট্টগ্রামকে সীমাহীন লজ্জায় ফেলে দিয়েছে। মাত্র ৭৩ রানে অলআউট এবং কক্সবাজার জেলার কাছে ৬ উইকেটে পরাজিত হয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আয়োজিত শেখ কামাল অনূর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা।

শুক্রবার (৪ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ক্রিকেটকে লজ্জা উপহার দেয়া হতাশার এ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় চাঁদপুর স্টেডিয়ামে।

টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে বান্দরবান জেলাকে ১১৮ রানে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে মৌলভীবাজার জেলা দলকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিল। কিন্তু শেষ ম্যাচে দুর্বল কক্সবাজার জেলা দলের কাছে মাত্র ৭৩ রানে অলআউট হয়ে লজ্জাজনকভাবে চার উইকেটে হেরে শেখ কামাল অনূর্ধ্ব-১৮ জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে চট্টগ্রাম।

যে কক্সবাজারের খেলোয়াড়দের এক সময় প্রতিপক্ষ চট্টগ্রামের নাম শুনলে ভয়ে বুক কাঁপতো, সেখানে ম্যাচের রেজাল্ট হয়ে গেছে উল্টো। চট্টগ্রাম জেলা দলকে লজ্জার হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়।

চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়ামে টস জিতে কক্সবাজার প্রতিপক্ষ চট্টগ্রামকে আগে ব্যাট করতে পাঠালে তারা মাত্র ৭৩ রানে অলআউট হয়। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৮ রানে ইনিংস খেলেন তালহা জুবায়ের, সাদমান ১০, অতিরিক্ত ১৮। জবাবে ছয় উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য পৌঁছে যায় কক্সবাজার। চট্টগ্রামের ওয়াকি ২টি, জুনায়েদ, সাদমান, আশরাফুল ও সাব্বির ১টি করে উইকেট লাভ করে।

এতদিন চট্টগ্রাম জেলা অনূর্ধ্ব ১৮ দলের কোচ ছিলেন বর্ষীয়ান প্রশিক্ষক তপন দে। কিন্তু তারেক হোসেন খানের বিদেশ যাওয়ার সুযোগে চট্টল ক্রীড়াঙ্গনের বিসিবির জেলা কোচের চাকরি বাগিয়ে নিয়ে মাহবুবুল করিম মিঠু একাই টিম সিলেকশনের দায়িত্ব বগলদাবা করে নিজের অ্যাকাডেমি এবং কোরামের কোচদের প্লেয়ার নিয়ে প্রাথমিক সিলেকশনেই চট্টগ্রামের পরীক্ষিত পারফর্মারদের বাদ দেন, যাতে নিজেদের ছেলেগুলোকে ফাইনাল টিমে সহজেই ঢুকানো যায়। এরপর প্রথমেই তপন দা’কে কিক আউট করে নিজেই কোচের দায়িত্বটাও নিজের করে নেন যাতে নিজেদের খেলোয়াড়গুলোকে সার্ভিস দিয়ে নিজের ক্ষমতা বুঝিয়ে দেয়া যায়।

Yakub Group

চারিদিকে রটিয়েও দেন- জেলা দলে খেলতে হলে এখন থেকে মিঠু স্যারের অ্যাকাডেমিকে প্র্যাক্টিস করতে হবে। প্রাথমিক টিমের (৫০ জন) অনুশীলনে প্লেয়ারদের এমন বিশ্রী গালিগালাজ করেন যাতে নিজের অপছন্দের অনেক খেলোয়াড় আর মাঠেই আসেনি। কোচ মিঠু কথায় কথায় কোমলমতি প্লেয়ারদের কোচ এবং অ্যাকাডেমি ধরে গালি-গালাজ করেন যা ক্রিকেট সেক্রেটারিকে অনেক অভিভাবক অভিযোগ করলেও নিজের কোরামের কোচকে শাসন না করে উল্টো একচ্ছত্র ক্ষমতা দিয়ে দেন যাতে তিনি মানে উপরে হওয়া সত্বেও টিম ম্যানেজারকে দু’পয়সারও পাত্তা দেননি।

ফলে প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই তিনি ভয়াবহ বাজে ফলাফল দিয়ে চট্টগ্রামের ক্রিকেটকে কলঙ্কিত করেছেন। একজন কোচ হিসেবে মিঠুর জন্য সবচেয়ে লজ্জার বিষয় হলো, তিনি প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে চট্টগ্রামের সেরা পারফর্মারটিকে একটি ম্যাচেও মাঠে নামাননি। গত চার মওসুম ধরে চট্টগ্রাম অনূর্ধ্ব ১৪ ও অনূর্ধ্ব ১৬ দলের সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন হামযা মাহমুদ তামিম। গত মওসুমে বিসিবি ওয়েস্ট জোনে (চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ) চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম জেলা দলের শ্রেষ্টতম ব্যাটসম্যান তামিম বিভাগীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। নৈপুণ্যের সুবাদে তিনি বিসিবির হাই পারফর্ম্যান্স টুর্নামেন্ট ‘ওয়াইসিএল’ খেলার সুযোগ পান এবং দারুন ব্যাটিং শৈলী প্রদর্শন করে ন্যাশনাল স্কোয়াডে ঢুকার পথ প্রশস্ত করেন। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, এই তামিমকে কোচ মিঠু একটি ম্যাচেও একাদশে রাখেননি।

একজন অভিভাবক ক্ষোভের সাথেই বলেন, তপন দা’র অ্যাকাডেমির বলে চট্টগ্রামের সেরা ব্যাটসম্যানটাকে বেঞ্চে বসিয়ে রখে মিঠু চট্টগ্রামের কত বড় ক্ষতি করলেন তা যদি এবার আ জ ম নাছিরের নেতৃত্বে সিজেকেএস কর্মকর্তারা বোঝেন। যে ক্রিকেটারটা তার অসদাচরণের জন্য চট্টগ্রাম লিগে প্রায় প্রতি ম্যাচেই শাস্তি পেয়েছেন বা সতর্কিত হয়েছেন তাকে জেলা ক্রিকেট কোচের দায়িত্ব দিলে ছেলেরা কি শিখবে সহজেই অনুমেয়।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm