বখশিশের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বে অটোরিকশা চালক খুন

বখশিশের ৫ পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে হেলাল ও ইলিয়াসের মাঝে মারামারি হয়। মারামারির জেরে খুন করা হয় সিএনজি অটোরিকশা চালক হেলাল। চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ঘটেছে এমন ঘটনা। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার পশ্চিম শাকপুরা এলাকার মো.মনু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ বখতিয়ার (২৭), একই এলাকার মো. শফিকের ছেলে মো. ইলিয়াস (৩৫) ও মধ্যম শাকপুরার মৃত আহমেদ ছফার ছেলে মনির আহম্মদ প্রকাশ মেহেরাজ (২৬)।

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) চান্দগাঁও ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল এম এ ইউসুফ এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, নিহত সিএনজি অটোরিকশা চালক হেলালের বাড়ি নেত্রকোণা জেলার পূর্বধূলার নিজহোগলা গ্রামে। হেলাল দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর জামদারহাট এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। গাড়ি চালানোর সুবাধে ইলিয়াস নামের এক ব্যক্তির সাথে তার পরিচয় হয়। ইলিয়াস পেশায় একজন সিএনজি অটোরিকশা গ্যারেজের মিস্ত্রি।

চার মাস আগে ইলিয়াসের মামাতো ভাইয়ের একটি অটোরিকশা বিক্রির বিষয়ে নিহত হেলালের সহযোগিতা চায় ইলিয়াস। এটি বিক্রি করে দিতে পারলে দুইজনকে ৫ হাজার টাকা বখশিস দিবে বলে জানায় ইলিয়াস। পরে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় তারা সিএনজি অটোরিকশাটি বিক্রি করে। এতে ইলিয়াসের মামাতো ভাই খুশি হয়ে ইলিয়াসকে বখশিস দেয়। সেই টাকা থেকে ইলিয়াস ১ হাজার টাকা হেলাল উদ্দিনকে দেয়। টাকা কম দেওয়া নিয়ে দুইজনের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে মারপিটও হয়। পরে ইলিয়াস প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকে।

Yakub Group

অধিনায়ক লে. কর্ণেল এম এ ইউসুফ বলেন, ইলিয়াস তার পরিচিত সিএনজি অটোরিকশা চালক বখতিয়ার ও মনির আহম্মদ ওরফে মেহেরাজ নামে দুইজনকে ভাড়া করে হেলাল উদ্দিনকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় ইলিয়াস হেলাল উদ্দিনকে তার সিএনজি কেনাবেচার উদ্দেশ্যে কথা বলার জন্য বোয়ালখালী পৌরসভার সিএ অফিস সংলগ্ন একটি সিএনজি স্টেশনে আসতে বলে।

হেলাল উদ্দিন ওই জায়গায় ইলিয়াসের সাথে দেখা করে। ইলিয়াস হেলালের সিএনজিসহ তাকে নিয়ে সিএনজি কেনার কথা বলে উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের পোস্ট অফিস সড়ক থেকে একটু ভিতরে দুর্গম এলাকার একটি খালি জায়গায় নিয়ে যায়। আরও একটি সিএনজি নিয়ে তার অপর সহযোগী বখতিয়ার ও মেহেরাজ হেলাল উদ্দিনের সিএনজির পিছন পিছন তাদের কাছে উপস্থিত হয়।

এরপর মিস্ত্রী ইলিয়াস হেলালকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। বখতিয়ার কাঠের লাঠি দিয়ে হেলাল উদ্দিনের মাথায় আঘাত করে ও মেহেরাজ তাৎক্ষণিকভাবে তার সাথে থাকা ছুরি দিয়ে পিঠে ছুরিকাঘাত করে। এতেও ক্ষান্ত না হয়ে ইলিয়াস সিএনজি থেকে হাতুড়ি নিয়ে এসে হেলালের মাথায় উপুর্যপরি আঘাত করে এবং মৃত্যু নিশ্চিত করে ইলিয়াস হেলালের সিএনজি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ইলিয়াসের দুই সহযোগী বখতিয়ার ও মেহেরাজ মিলে লাশটি পাশের একটি ধানি জমির উপর রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় ৪ ডিসেম্বর নিহত হেলালের স্ত্রী বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামিকে করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিনই আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য তার স্ত্রী র‌্যাবের কাছে একটি লিখিত আবেদন করেন। এ ঘটনায় র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। সোমবার রাতে নগরীর শাহ আমানত ব্রিজ এলাকা থেকে মোহাম্মদ বখতিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর চাক্তাই এলাকা থেকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মো. ইলিয়াসকে এবং বোয়ালখালী পৌরসদরের মীরপাড়া থেকে মনির আহম্মদ প্রকাশ মেহেরাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিরা হেলালকে হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। গ্রেপ্তার আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরএম/এমএফও

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm