ফুটবল বিশ্বকাপ: ১৫ বছর ধরে চট্টগ্রামে পতাকা বিক্রি করছেন লাল মিয়া

বাড়ি-গাড়িতে পতাকা টাঙানোর ধুম

ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই ব্যস্ততা বেড়ে যায় কুমিল্লার লাল মিয়ার। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দলের পতাকা নিয়ে চট্টগ্রামের অলিগলিতে ছুটে বেড়ান তিনি। ১৫ বছর ধরে বিশ্বকাপের মওসুমে পতাকা বিক্রি করে আসছেন তিনি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। চারদিন পর মাঠে গড়াতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। এই সময়টাতে লম্বা বাঁশ কাঁধে নিয়ে বিভিন্ন দলের পতাকা বিক্রি করছেন নগরীর পথে পথে। তার ঝুলিতে বেশি জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনার পতাকা। এবার আর্জেন্টিনার পতাকার চাহিদা বেশি বলে জানান তিনি।

রোববার (৭ জুন) নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, দোকানপাট, বাড়ির ছাদ, বারান্দা ও বিভিন্ন গাড়িতেও উড়ছে নানান দেশের পতাকা। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকাই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে। বিশ্বকাপ ঘিরে দেশজুড়ে ‘ফুটবল জ্বর’ ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যস্ত সময় পার করছেন পতাকা বিক্রেতারাও। শহর থেকে মফস্বল—সবখানেই প্রিয় দলের পতাকা হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন খুদে সমর্থকরা।

কোন দেশের পতাকা সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে লাল মিয়া বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনার পতাকা। এরপর ব্রাজিলের পতাকার চাহিদা বেশি। তবে জার্মানি, স্পেন, পর্তুগাল ও সৌদি আরবের পতাকাও বিক্রি হচ্ছে।’

পতাকার দামের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তিন ফুটের চায়না পতাকা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঁচ ফুটের পতাকা ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশীয় কাপড়ে তৈরি পতাকাগুলো তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। দুই ফুট থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত বিভিন্ন আকারের পতাকা বিক্রি করছেন তারা।’

পতাকা বিক্রির আয় সম্পর্কে লাল মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন দুই হাজার টাকার বেশি বিক্রি হয়। দুই হাজার টাকা বিক্রি হলে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকার মতো লাভ থাকে। মন্দা মৌসুমে অন্য জিনিস বিক্রি করি।’

২০২২ সালের বিশ্বকাপের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘শুরুর দিকে ব্রাজিলের পতাকার চাহিদা বেশি ছিল। কিন্তু শেষের দিকে আর্জেন্টিনার পতাকার চাহিদা বেড়ে যায়। ফাইনালের আগের দিন সবচেয়ে বেশি পতাকা বিক্রি হয়েছিল। তখন ২০ ফুটের পতাকাও বিক্রি করেছি।’

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে একটি পতাকা হয়তো সমর্থনের প্রতীক। কিন্তু লাল মিয়ার কাছে সেই পতাকাই ছয় মেয়ের ভবিষ্যৎ, সংসারের স্বপ্ন আর জীবিকার সবচেয়ে বড় অবলম্বন। অন্যদের মতো তিনিও অপেক্ষা থাকেন, কবে আসবে বিশ্বকাপের মওসুম—তবে যতটুকু না প্রিয় দলের জন্য, তার চেয়ে বেশি পরিবারের সদস্যদের মুখের হাসি যেন চওড়া হয়।

ডিজে

ksrm